শমীক ভট্টাচার্য-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়বৃহস্পতিবার ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের অফিস ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠল রাজ্য-রাজনীতি। তল্লাশি অভিযানের খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন। অভিযোগ, সেখান থেকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি ও হার্ড ডিস্ক নিয়ে বেরিয়ে যান। ইডির তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি এবং ভূমিকা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির তীব্র আক্রমণ সামনে আসে। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ইডির তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ‘ক্ষমতার চরম অপব্যবহার’। তাঁর অভিযোগ, 'মুখ্যমন্ত্রী নিজের সাংবিধানিক পদের প্রভাব খাটিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সরিয়ে নিয়েছেন, যা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।'
পরবর্তীতে ইডির তরফে দেওয়া ব্যাখ্যা ও বিবৃতি নিয়ে বিজেপি আরও কড়া সুরে তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে। বিজেপির বক্তব্য, টিএমসির অন্দরে স্পষ্ট আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে শাসকদল বাস্তবতা উপেক্ষা করছে এবং জনসমক্ষে ইতিমধ্যেই প্রকাশিত তথ্যকেও অস্বীকার করার চেষ্টা করছে।
বিজেপির তরফে আরও বলা হয়, 'টিএমসি আতঙ্কিত হওয়া বন্ধ করুক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সান্ত্বনা দেওয়া দরকার। তিনি স্পষ্টতই বিচলিত এবং মানসিক চাপে রয়েছেন।'
বিজেপির দাবি, ইডির ব্যাখ্যা ও বিবৃতি কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে এবং সংবাদ সংস্থা এএনআই তা আগেই প্রকাশ করেছিল। তাদের মতে, বিজেপি শুরু থেকেই তদন্তে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং আইন ও সংবিধানের মর্যাদা রক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়বে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত।