ফাইল ছবিহাওড়া স্টেশনকে কেন্দ্র করে গঙ্গার ফেরিঘাট থেকে দিঘা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকাকে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক পরিবহণ হাবে রূপান্তরের প্রস্তাব দিলেন উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। শনিবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠকে তিনি হাওড়ার সার্বিক পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, এই পুরো এলাকাকে একটি সমন্বিত মাল্টি-মোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে থাকবে আধুনিক বাস ও ট্যাক্সি টার্মিনাল, মাল্টি-স্টোরেড পার্কিং, স্কাইওয়াক এবং রেলের অব্যবহৃত জমির পরিকল্পিত ব্যবহার।
উমেশ রাই জানান, হাওড়া স্টেশন পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত পরিবহণ কেন্দ্র। প্রতিদিন লক্ষাধিক যাত্রী রেল, বাস, ট্যাক্সি ও ফেরি পরিষেবা ব্যবহার করেন। কিন্তু আধুনিক পরিকাঠামোর অভাবে যাত্রীদের প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হয়। স্টেশন থেকে বেরিয়েই অনেকেই বিভ্রান্ত হন কোন পথে ফেরিঘাট বা বাসস্ট্যান্ডে যাবেন।
এই সমস্যার সমাধানে স্কাইওয়াক এবং চলন্ত সিঁড়ির মাধ্যমে সরাসরি বাস টার্মিনাল, ট্যাক্সি স্ট্যান্ড, পার্কিং জোন ও ফেরিঘাটে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট পিক-আপ ও ড্রপ জোন এবং উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।
বিধায়কের দাবি, হাওড়া স্টেশন চত্বর ও আশপাশের এলাকায় যানজট ও পার্কিং সমস্যা দীর্ঘদিনের। তাই রেলের জমি পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে অবৈধ দখলমুক্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্প গড়ে তোলার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এছাড়াও বি গার্ডেন থেকে বালি পর্যন্ত নতুন মেট্রো করিডর এবং হাওড়া ময়দান থেকে সাঁতরাগাছি পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারণের প্রস্তাবও রেলমন্ত্রীর কাছে পেশ করা হয়েছে।
উমেশ রাই জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে হাওড়া পূর্ব ভারতের অন্যতম আধুনিক পরিবহণ কেন্দ্রে পরিণত হবে এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব প্রস্তাবগুলিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।