মমতা ও ঋতব্রত আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি পেলেন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫৮ জন বিধায়কের সম্মতি নিয়ে পরিষদীয় রীতিনীতি মেনে তাঁকে বিরোধী দলনেতার আসনে বসানো হয়েছে। অর্থাৎ মমতার হাতছাড়া হয়ে গেল তাঁরই পরিষদীয় দল।
এদিন বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি পাওয়ার পরই সেই পদের জন্য নির্ধারিত ঘরটি দেওয়া হয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেখানে বসেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। জানান, তিনিই বিরোধী দলনেতা। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে জেতা প্রার্থীদের সংখ্যাগরিষ্ঠকে নিয়ে তাঁরা পরিষদীয় দল তৈরি করেছেন। তাঁরা এখন বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবেন।
তাহলে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের ভূমিকা কী থাকবে এই তৃণমূলে? ঋতব্রত বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন লড়াকু নেত্রী। তাঁকে আমরা শ্রদ্ধা করি। আমরা চাই তিনি আমেদের দলের পরামর্শদাতা হিসেবে থাকুন। প্রয়োজনে পরামর্শ দিন। আমরা তাঁকে সম্মান করব। তিনি ডাকলে বৈঠকে যাব।'
ঋতব্রত এও পরিষ্কার করে দেন বিধানসভার এই পরিষদীয় দলে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ের কোনও ভূমিকা নেই। তিনি বলেন, 'অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় কেউ নয়। তাঁর বিধানসভায় কোনও ভূমিকা নেই। তিনি কেউ নন। তাঁর তো সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। সেজন্য তো তাঁকে চোর চোর শুনতে হয়েছে। মার খেতে হয়েছে। উনি কোনও কাজ একসঙ্গে করতে চান না। সবেতেই একা। তাঁর কোনও গুরুত্ব নেই।'
ঋতব্রত জানিয়েছেন, বিধানসভায় মুখ্য সচেতক করা হয়েছে আখরুজ্জামানকে। ডেপুটি লিডার করা হয়েছে চার জনকে। তাঁরা হলেন জাভেদ আহমেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহা। তাঁদের সমর্থনের চিঠি বিধানসভার স্পিকারকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দলবিরোধী কাজের জন্য আগেই তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়ছেন ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায় এবং সন্দীপন সাহা। এদিকে তাঁরই নেতৃত্বে এদিন স্পিকারের কাছে যান তৃণমূলের বিধায়করা।