scorecardresearch
 

Partha Chaterjee Unknown Facts Latest Update : অর্পিতা থেকে কুকুরের নামে ফ্ল্যাট, ১০ পয়েন্টে 'অজানা' পার্থ-কাহিনি

পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়ের গ্রেফতারির পর গত ৩ দিনে এরকম অনেক ঘটনা ঘটেছে। যা হয়তো আপনারা জানেন না। এই প্রতিবেদনে সেগুলির মধ্যে থেকেই বাছাই করা ১০ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরব।

Advertisement
ফাইল ছবি ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়ের গ্রেফতারির পর গত ৩ দিনে অনেক ঘটনা ঘটেছে
  • এই প্রতিবেদনে সেগুলির মধ্যে থেকেই বাছাই করা ১০ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরব।

'ডন' পার্থ চট্টোপাধ্যায়। হ্যাঁ ঠিকই পড়ছেন ডন। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সম্পর্কে এই শব্দই কলকাতা হাইকোর্টে ব্যবহার করেছেন ইডি অর্থাৎ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরটের আইনজীবী। তিনি মাননীয় বিচারপতি বিবেক চৌধুরীকে আরও জানান, এসএসকেএম-এ রাজার হালে রয়েছেন পার্থবাবু। 

পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়ের গ্রেফতারির পর গত ৩ দিনে এরকম অনেক ঘটনা ঘটেছে। যা হয়তো আপনারা জানেন না। এই প্রতিবেদনে সেগুলির মধ্যে থেকেই বাছাই করা ১০ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরব। 

১) তাহলে শুরু থেকে শুরু করা যাক। শুক্রবার সকাল। SSC- দুর্নীতিকাণ্ডের তদন্তে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাকতলার বাড়িতে যান ইডির আধিকারিকরা। শুরু করেন তল্লাশি অভিযান। টানা ২৭ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। করা হয় গ্রেফতারও। 


২) এবার আসি দ্বিতীয় পয়েন্টে- ED সূত্রে খবর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময়ই সেখান থেকেই উদ্ধার হয় একটি কাগজ। আর সেই কাগজেই পাওয়া যায় অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের নাম ও ঠিকানা। 

৩) তৃতীয় পয়েন্টে জানাব কীভাবে অর্পিতার বাড়িতে টাকা খুঁজে পেল ED। বাড়িতে হানা দেওয়ার পর প্রথমেই অর্পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা। শুরু হয় তল্লাশি অভিযানও। আর তখনই পর্দা ফাঁস হয়ে যায়।  অর্পিতার বেডরুম থেকে উদ্ধার হয় ২১ কোটিরও বেশি টাকা। সঙ্গে পাওয়া যায় সরকারি খাম। এছাড়াও ৫৬ লাখ টাকা মূল্যের বিদেশি মুদ্রা, ৭৯ লাখ টাকা মূল্যের সোনার গয়না, আটটি সম্পত্তির দলিল ও ২০ টি মোবাইল। 

৪) ED কীসের ভিত্তিতে  অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করল। চতুর্থ পয়েন্টে জানাব সেটাই। সূত্রের খবর, ২০১৩ সালে অর্পিতার সঙ্গে পরিচয় হয় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। টলিউড সূত্রে খবর, তারপর থেকে নাকি অর্পিতা অভিনয় ছেড়ে দেন। অভিনয় ছেড়ে দিলেও তাঁর জীবন-যাপন ছিল বিলাসবহুল। এও শোনা যাচ্ছে, পার্থ চট্টোপাধ্য়ায় অর্পিতার আবাসনেও যেতেন মাঝে মাঝে। 

Advertisement

৫)   এবার আসব মহামান্য হাইকোর্ট কেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে চিকিৎসার জন্য ভূবনেশ্বর AIIMS-এ পাঠালেন। কারণ, নিম্ন আদালত পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ২ দিনের ED হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল। আবার তাঁকে SSKM-এ ভর্তি করার অনুমতি দিয়েছিস। তারই বিরোধিতা করে মহামান্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। 

৬) ষষ্ঠ পয়েন্টটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কলকাতা হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি বিবেক চৌধুরীর কাছে সওয়াল জবাবে কী বলেছিলেন ED-র আইনজীবী। তিনি মাননীয় বিচারপতিকে জানান, ssKM-এ থাকাকালীন পার্থ চট্টোপাধ্য়ায় ডনের মতো ব্যবহার করছেন। তিনি ED আধিকারিকদের হুমকি দিচ্ছেন। সহযোগিতা করছেন না। 

৭) ED-এর আইনজীবী আরও জানান, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতারির পর তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু সেই পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিযুক্ত সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। 

৮) অষ্টম পয়েন্টে জানাব, মাননীয় বিচারপতি ঠিক কী নির্দেশ দেন। মোট ১১ পাতার নির্দেশনামায় উল্লেখ, তদন্তকারী সংস্থার হাত থেকে বাঁচতে শাসকদলের হেভিওয়েটরা এসএসকেএম হাসপাতালের নিরাপদ আশ্রয়ে ঢুকে পড়েন। ইডির হেফাজতে থাকা মন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি অসম্ভব নয়। 

৯) নবম পয়েন্টে জানাব, মাননীয় বিচারপতি এসএসসি চাকরি প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নির্দেশ নামায় উল্লেখ, এমন হলে অর্থাৎ হেভিওয়েটরা যদি এভাবে নিজেদের পিঠ বাঁচাতে থাকেন, তাহলে হাজার হাজার যোগ্য চাকরি প্রার্থীর চোখের জল বিচার ব্যবস্থাকে অভিশাপ দেবে। 

১০) এবার শেষ করব সেই 'ডন' প্রসঙ্গ দিয়ে। ইডির আইনজীবী কেন মহামান্য আদালতকে বললেন, যে হাসপাতালে ডনের মতো ব্যবহার করছেন পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়। ED-র দাবি, SSKM- পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়ের কাছে সেফ জোন। তিনি শাসকদলের নেতা-মন্ত্রী-প্রভাবশালী একজন। স্বাভাবিকভাবেই তিনি হাসপাতালে রাজার হালে রয়েছেন। তিনি ডনের মতো ব্যবহার করছেন। অথচ তিনি অভিযুক্ত। আর ED-র এই বক্তব্য শোনার পর পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ভূবনেশ্বর এইমস-এ নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় মহামান্য আদালত। সেই মতো আজ সকালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ভূবনেশ্বরে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও ভূবনেশ্বর AIIMS-এর তরফে জানানো হয়েছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই।

এবার শেষ পাওয়া খবর দিয়ে এই প্রতিবেদন শেষ করব। ডায়মন্ড সিটিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আরও তিনটি বাংলো খুঁজে পেয়েছে ED। এই বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মধ্যে একটি এমনও ছিল, যেখানে শুধু পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পোষা কুকুর থাকত। তারও তদন্ত শুরু হয়েছে। 
 

Advertisement