'আমিই কথা বলতে চেয়েছিলাম CM শুভেন্দুর সঙ্গে', বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে? জানালেন শতাব্দী

ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই একের পর এক সাংসদ-বিধায়ক তৃণমূল নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মমতা ও অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায় তাঁদের কথা শুনতেন না। দলে একনায়কতন্ত্র চলছিল বলেও দাবি করেছিলেন তাঁরা। সেই একই সুর শোনা যায় অভিনেত্রীর গলায়।

Advertisement
'আমিই কথা বলতে চেয়েছিলাম CM শুভেন্দুর সঙ্গে', বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে? জানালেন শতাব্দীশতাব্দী রায়
হাইলাইটস
  • গতকাল সকালে দিল্লিতে প্রথমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন শতাব্দী রায়রা
  • দাবি করেন, সেখানে যাওয়ার পরই জানতে পারেন কোন কোন সাংসদরা যোগাযোগ করেছেন

সোমবার রাতে দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাড়িতে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বিষয়ে মুখ খুললেন বীরভূমের সাংসদ। জানালেন তিনি নিজেই কথা বলতে চেয়েছিলেন। সেই কারণে শুভেন্দু অধিকারী এসেছিলেন তাঁর বাসভবনে। 

শতাব্দীর দাবি,শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বাড়িতে আসবেন, সেটা অন্য সাংসদদের জানানোর পর তাঁরাও আসেন। তারপরই বৈঠক হয়। তাঁর কথায়, 'আমি মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছিলাম, আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাই। তাই তিনি আমার বাড়িতে এসেছিলেন। যৌথভাবে কীভাবে কাজ করা যায় সেটাও আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আসবেন জানার পরই আমি অন্যদের ফোন করলাম। তাঁরাও এসেছিলেন।' 

ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই একের পর এক সাংসদ-বিধায়ক তৃণমূল নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মমতা ও অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায় তাঁদের কথা শুনতেন না। দলে একনায়কতন্ত্র চলছিল বলেও দাবি করেছিলেন তাঁরা। সেই একই সুর শোনা যায় অভিনেত্রীর গলায়। বলেন, 'আমি ১৭ বছর ধরে এই দলে আছি। বারবার সমস্যা হয়েছে। আমি দলের ভিতরে সেগুলি তোলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কেউ শোনেনি। দিনের পর দিন বললেও কোনও পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি। আমি শুধু হারের পরেই কথা বলছি না। তার আগেও বহুবার বলা হয়েছে। এই হারের আসল কারণ দুর্নীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের আসন্ন বিপদটা বোঝা উচিত ছিল। তিনি এত বড় একজন রাজনীতিবিদ। তিনি দুর্নীতি সম্পর্কে জানতেন না, এটা কি বিশ্বাস করা যাবে? আমাদের মতো লোকেরা তাঁকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিল। তিনি কেন আমাদের কথা শোনেননি?' 

বিদ্রোহী সাংসদদের বৈঠকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, ওই এমপি-রা ভয়ে বিজেপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। তবে সেই অভিযোগ উড়িয়ে দেন শতাব্দী। তাঁর দাবি, তিনি আর পাঁচজনের মতো কোনও ঘটনায় অভিযুক্ত নন। বা তাঁর বিরুদ্ধে কাটমানির অভিযোগ নেই। সেহেতু কোনও ভয় নেই তাঁর। বলেন, 'কেউ আমাকে চাপ দেয়নি। আমার বিরুদ্ধে কাটমানির অভিযোগ নেই। সেই কারণে আমাকে চাপের কাছে নতিস্বীকার করতে হয়েছে এমন নয়। বরং গতকাল শুভেন্দু অধিকারী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, তাঁর সরকার আমাদের সমর্থন করবেন। নির্বাচনী এলাকায় কাজে সাহায্য করবেন।' 

Advertisement

গতকাল সকালে দিল্লিতে প্রথমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন শতাব্দী রায়রা। দাবি করেন, সেখানে যাওয়ার পরই জানতে পারেন কোন কোন সাংসদরা যোগাযোগ করেছেন। 

লোকসভায় আলাদা বসে তাঁদের ভূমিকা কী হবে সেই বিষয়ে জানান, কাকলি ঘোষ দস্তিদার মুখ্যসচেতক থাকবেন। তিনিও উপ-মুখ্য সচেতক হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন। তাঁর কথায়, 'আমি নিজের বিষয়ে কথা বলতে পারব। কাজ চালাব মানুষের স্বার্থে। তৃণমূল এত তাড়াতাড়ি ভেঙে যাবে সেটা এখনও বিশ্বাস করতে পারি না।' 
 

POST A COMMENT
Advertisement