মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়মহারাষ্ট্রের মতোই পরিস্থিতি হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে? ধর্মতলায় ওয়াই চ্যানেলে যখন ধর্নায় বসতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তখন আরেকদিকে তাঁর দল ভাঙার তোড়জোড় চলছে জোর কদমে। সূত্রের খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের ভেঙে যাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। মমতা যখন দলের অস্তিত্ব রাখতে মরিয়া, তখন মমতার পাশে না থেকে বিধানসভায় ছুটলেন ফিরহাদ হাকিম। সেখানে আবার গিয়েছেন তৃণমূল ভাঙার চেষ্টার অন্যতম কারিগর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
একাধিক মিটিং সেরে ফেলেছেন প্রায় ৫০ জন বিধায়ক
এখনও পর্যন্ত খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের দুই বহিষ্কৃত নেতা বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার সঙ্গে একাধিক মিটিং সেরে ফেলেছেন প্রায় ৫০ জন বিধায়ক। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ছে। দল থেকে বহিষ্কারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। সূত্রের খবর, সোমবার রাতে কলকাতার বিধায়ক হস্টেলে কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গে বৈঠক করেন এই দুই বহিষ্কৃত নেতা। এরপরই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে, তৃণমূলের অন্দরে কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-বিরোধী একটি নতুন গোষ্ঠী তৈরি হচ্ছে?
#WATCH | Kolkata, West Bengal: Suspended TMC leader, Riju Dutta, says, "Two TMC MLAs, Ritabrata Bandopadhyay and Sandipan Saha, wrote a letter to the Speaker claiming their signatures were forged. Upon hearing this, the Trinamool Congress expelled these two MLAs. Since I also… pic.twitter.com/Z0wdl2IY47
— ANI (@ANI) June 2, 2026
পশ্চিম মেদিনীপুরের এক মহিলা বিধায়কও গোপন মিটিংয়ে
সূত্রের দাবি, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের এক মহিলা বিধায়কও। যদিও বৈঠকে উপস্থিত এক বিধায়কের বক্তব্য, তাঁরা কোনও নতুন দল গঠন বা তৃণমূল ভাঙার পরিকল্পনা করছেন না। তাঁর দাবি,'আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করছি না। তৃণমূলের পতাকার তলাতেই কাজ করব।' অন্যদিকে, বহিষ্কারের পর থেকেই প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি অভিষেকের নেতৃত্ব ও দলের সাংগঠনিক পরিচালনায় আই-প্যাক (IPAC)-এর প্রভাব নিয়ে আপত্তি জানান। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরেই দলের অন্দরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
'তৃণমূল ভাঙলে দুঃখ পাবো নাকি!' কটাক্ষ তাপস রায়ের
এর আগে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেছিলেন, ঋতব্রত ও সন্দীপন দক্ষিণ কলকাতার একটি হোটেলে কয়েকজন বিধায়কের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে দল ভাঙার চেষ্টা করছেন। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন ঋতব্রত। তাঁর দাবি, তিনি কোনও দলবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত নন। দলীয় সূত্রে খবর, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। আপাতত 'ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ' নীতিতেই এগোতে চাইছে দল। তবে বহিষ্কৃত দুই বিধায়কের সক্রিয়তা এবং তাঁদের সঙ্গে একাধিক জনপ্রতিনিধির যোগাযোগ তৃণমূলের অন্দরের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
তৃণমূলের এই পরিস্থিতিতে বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় এদিন বিধানসভায় ঢোকার সময় বললেন, 'আমি ভীষণ খুশি। তৃণমূল ভাঙলে দুঃখ পাবো নাকি! পরিষদীয় দলের বেশির ভাগ বিধায়ক যদি সই করে তাদের নেতা নির্বাচিত করেন, তাহলে তো ভাবতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেস বলে কোনও দল ছিলই না। তৃণমূল উঠে যাবে। উঠে যাওয়াই উচিত। এরকম রাজনৈতিক দল থাকা উচিত নয়। ঋতব্রত উদ্যোগ নিয়েছে শুনলাম, জানলাম।'