TMC Sashi Panja Sayani Ghosh PC: 'রামের নামে..., আমি আহত', বললেন শশী পাঁজা

TMC Sashi Panja Sayani Ghosh PC: সাংবাদিক বৈঠকে এদিন রীতিমতো বিধ্বস্ত দেখিয়েছে মন্ত্রী শশী পাঁজাকে। তিনি অভিযোগ করেন, দলীয় ফ্লেক্স লাগানোর সময় ‘রাম’ নাম জপে একদল বিজেপির দুষ্কৃতী তাঁদের ওপর হিংস্র আক্রমণ চালিয়েছে। মন্ত্রীর কথায়, “বিজেপি গুণ্ডা পুষছে। সরাসরি পেটে ইঁট মেরেছে।

Advertisement
'রামের নামে..., আমি আহত', বললেন শশী পাঁজাশশী পাঁজা

TMC Sashi Panja Sayani Ghosh PC: একদিকে যখন ব্রিগেডের ময়দান থেকে দুর্নীতির অভিযোগে সুর চড়াচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ঠিক তখনই পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক করে আক্রমণাত্মক মেজাজে ময়দানে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সভার পাল্টা দিতে গিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি, কাউকেই বিঁধতে ছাড়লেন না সায়নী ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী দেশের কাজ ছেড়ে এখন বিজেপির ‘প্রচারমন্ত্রী’র ভূমিকা পালন করছেন। অন্যদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে ‘গুণ্ডামি’ ও শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন। ভোটের আগে দুই শিবিরের এই সম্মুখ সমরে তপ্ত বাংলার রাজনীতির অলিন্দ।

প্রধানমন্ত্রী যখন ‘সবকা হিসাব হোগা’ বলে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, ঠিক তখনই যুব তৃণমূল সভানেত্রী সায়নী ঘোষের পাল্টা তোপ, “আপনার হিসাব করলে আপনি কোথায় লুকোবেন? এক দিনও হাউসে যান না।” সায়নী এদিন অভিযোগ তোলেন, বাংলার দুই লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া রেখে ১৮ হাজার কোটির খয়রাতি করে মানুষের চোখে ধুলো দেওয়া যাবে না। তাঁর দাবি, মিড-ডে মিল থেকে একশো দিনের কাজের টাকা আটকে রাখা হয়েছে, অথচ রাজস্থান বা উত্তরাখণ্ডের মতো রাজ্যে বেকারত্বের হার আকাশছোঁয়া। মেহুল চোকসি বা নীরব মোদীদের প্রসঙ্গে টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, টাকা মেরে যারা বিদেশে পালাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের ‘গ্যারান্টি’ কোথায়?

সায়নী ঘোষ এদিন অত্যন্ত কড়া সুরে রাষ্ট্রপতি ভবনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, “রাষ্ট্রপতি এখন বিজেপির রাষ্ট্রপতি।” রাজভবনে ‘অপরাজিতা বিল’ আটকে রাখার পেছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম যাতে না হয়, সেই চক্রান্ত কাজ করছে বলে তিনি মনে করেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশন, প্রতিটি সংস্থাকেই বিজেপি নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ ঘাসফুল শিবিরের। তারকেশ্বরে গিয়ে ‘তারকবাবা’র নাম নিলেই বাংলার বৈতরণী পার হওয়া যাবে না বলে কটাক্ষ করেন সায়নী।

Advertisement

সাংবাদিক বৈঠকে এদিন রীতিমতো বিধ্বস্ত দেখিয়েছে মন্ত্রী শশী পাঁজাকে। তিনি অভিযোগ করেন, দলীয় ফ্লেক্স লাগানোর সময় ‘রাম’ নাম জপে একদল বিজেপির দুষ্কৃতী তাঁদের ওপর হিংস্র আক্রমণ চালিয়েছে। মন্ত্রীর কথায়, “বিজেপি গুণ্ডা পুষছে। সরাসরি পেটে ইঁট মেরেছে। এরা কারা? এরা আমাদের অফিসের সামনে ফ্লেক্স ছিঁড়েছে।” এমনকি অজিত পাঁজাল বাসভবনেও হামলা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। মহিলা মন্ত্রী হয়েও যে তিনি নিগৃহীত হয়েছেন, তা জানিয়ে শশী প্রশ্ন তোলেন, “প্রধানমন্ত্রী কি তবে গুণ্ডাদের আশ্রয় ও প্রশ্রয় দেওয়ার গ্যারান্টি দিচ্ছেন?”

শশী পাঁজার দাবি, বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে বাসে করে ‘গুণ্ডা মাওয়ালি’দের নিয়ে আসা হয়েছে বাংলায় অশান্তি ছড়ানোর জন্য। সাদা পোশাকের পুলিশ থেকে শুরু করে মহিলা পুলিশ, কাউকেই ছাড় দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ মন্ত্রীর। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে সশরীরে প্রাণে মারার পরিকল্পনা ছিল। সিসিটিভি ফুটেজ ও রেকর্ডিং খতিয়ে দেখে নামে-বেনামে এফআইআর করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ‘সব হিসাব লে লে গা’ বক্তব্যের জবাবে শশী জানান, উন্নয়ন নয়, খুন ও হিংসার মাধ্যমেই বাংলা দখল করতে চায় গেরুয়া শিবির।

 

POST A COMMENT
Advertisement