ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল ভেঙে গেল। বিধায়কদের নিয়ে নতুন বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী তৈরির প্রক্রিয়া শুরু৷ তাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রথম বার বিধায়ক হওয়া ঋতব্রত এবং সন্দীপন৷ সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে এই বিক্ষুব্ধরা আলাদা ব্লক তৈরি করে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বদলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করবেন৷ টানটান উত্তেজনা বাংলার রাজনৈতিক মহলে।
৮০ থেকে ৭৮ হয়েছে তৃণমূল। বহিষ্কার করা হয়েছে দুই জেতা বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে। সেই ঋতব্রতর নেতৃত্বেই এবার ৫০ জন তৃণমূল বিধায়কের বড় পদক্ষেপ। বুধবারই তৃণমূল ভেঙে পড়তে চলেছে। এই ৫০ জন বিধায়কের সই সহ চিঠি তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী অধ্যক্ষকে চিঠি দিতে পারেন। তার আগে বিধানসভায় দলের বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা৷
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে থাকার অনুরোধ করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমরা ৮০ জন তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছিলাম। তার মধ্যে ৬০ জনের সমর্থন নিয়ে প্রধান বিরোধী ব্লক হিসেবে পথচলা শুরু করলাম। প্রশাসনিক সভায় আমরা অংশ নেব। মানুষের কাছে আমরা দায়বদ্ধ। কিন্তু ওয়াকআউট করে আমরা বিধানসভার কার্যনির্বাহ ভঙ্গ করব না।'
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বলেন, 'বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করব না। দায়িত্বশীল বিরোধী হিসেবে ভূমিকা পালন করব। হাউসের ভিতরে ও বাইরে বিরোধিতা হবে। কিন্তু যদি সরকার সদর্থক ভূমিকা পালন করে, তবে প্রশংসাও করব।'
বুধবার বিকেলে বিধানসভায় সাংবাদিক বৈঠক করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দল একটা টিম, কেউ নেতা, কেউ ভৃত্য হতে পারে না। আজকে পর্যন্ত ৫৮ জনের বিধায়কের টিম এটা। অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মুখ্য বিরোধী। রঘুনাথগঞ্জের জনপ্রিয় বিধায়ক আখরুজ্জামান চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করবেন। প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহা ডেপুটি লিডারের ভূমিকা পালন করবেন। রাজ্য বিধানসভার মাননীয় অধ্যক্ষকে স্বাক্ষর করা চিঠি দিয়েছি আমরা। সিংহ ভাগ বিধায়কই উপস্থিত ছিলেন। হামিদুর রহমান এবং রথীন ঘোষ অসুস্থতার কারণে উপস্থিত নেই। তাঁরাও আমাদের সমর্থনে রয়েছেন।'
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার চেয়ারে বসলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ৬০ জন তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষর রয়েছে তাঁর সমর্থনে।
কুণাল ঘোষ পৌঁছলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। তাঁর বক্তব্য, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আসল তৃণমূল। যিনি তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম দিয়েছেন, যিনি তৃণমূল কংগ্রেসের মা, তিনিই আসল তৃণমূল।'
কুণাল ঘোষ এদিন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, 'প্রথম দিন এলাম। আমি বেলেঘাটার বিধায়ক হিসেবে যোগ দিয়েছিলাম। আমার এলাকার নির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। হাসপাতাল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বলেছি।' পাশাপাশি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা মনোনীত করার ক্ষেত্রে ৫৮ বিধায়কের স্বাক্ষর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমরা সকলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নিয়ে লড়েছি। এখন বিরোধী দল হয়েছি বলে বড় বড় কথা বললে তো হবে না।'
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের রাজনৈতিক নাটক চলছে। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নবান্নে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে তৃণমূলের ১৮ জন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত বিধায়কদের তালিকায় রয়েছেন জাভেদ খান, ফিরহাদ হাকিম, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, বহিষ্কৃত বিধায়ক সন্দীপন সাহা, অশোক দেব, অরুণাভ সেন, সমীর পাঞ্জা, প্রিয়া পাল, গুলশন মল্লিক, তাপস মাইতি, নীলিমা মিস্ত্রি, আব্দুল খালেক মোল্লা, বাহারুল ইসলাম, পরেশ রাম দাস, জয়দেব হালদার এবং সমীর জানা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা দাবি করছে, তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যদিও এ বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নবান্নের এই বৈঠকে এত সংখ্যক তৃণমূল বিধায়কের উপস্থিতি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গিয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও।
সূত্রের খবর, বুধবার বিধানসভায় সশরীরে উপস্থিত ছিলেন ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়ক, স্পিকারের কাছে দেওয়া চিঠিতে তাঁদেরই সই রয়েছে।
নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। তাত্পর্যপূর্ণ বিষয় হল, গত ১৫ বছরে বিরোধী বিধায়করা মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠকে থাকতেন না। আজ হঠাত্ কুণাল, ফিরহাদ, নয়নারা হাজির হলেন শুভেন্দুর মিটিংয়ে।
তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের একাংশ দাবি করেছেন, তাঁরা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমোদন ও নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছেন। বিদ্রোহী বিধায়কদের পদক্ষেপকে নাকচ করে দিয়েছেন তাঁরা। বুধবার বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কদের একটি দল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সঙ্গে দেখা করে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা দেয়। সেই চিঠিতে দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। তবে তৃণমূলের নেতৃত্বের একাংশ এই উদ্যোগকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে এবং বিদ্রোহী বিধায়কদের এই পদক্ষেপকে বৈধ বলে মানতে নারাজ।
তৃণমূলে বিদ্রোহের আবহে বিক্ষুব্ধদের কি দলে নেবে BJP? দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, 'দল কোনও দাগীদের নেবে না। BJP-র তৃণমূলীকরণ হবে না।'
বিদ্রোহের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস সমস্ত পার্টি কমিটি ভেঙে দিল বলে খবর।
বুধবার ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে বিধানসভায় হাজির হন দলের বিক্ষুব্ধ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। একে একে অন্য বিধায়কেরাও পৌঁছোন। বিদ্রোহী বিধায়কেরা বিধানসভার কাউন্সিল চেম্বারে বৈঠক করেন। ঘণ্টা দেড়েকের বৈঠকের পর তাঁরা স্পিকারের ঘরে যান। চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের সভানেত্রী বলে উল্লেখ করেছেন বিদ্রোহীরা। ডেপুটি লিডার হিসাবে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, শিউলি সাহাকে। অন্য দিকে, মুখ্যসচেতক হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে আখরুজ্জামানকে।
সূত্রের খবর, বিধায়কদের সই করা চিঠি নিয়ে বিধানসভায় স্পিকারের ঘরে গিয়েছেন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। নব এই তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। উপ-দলনেতা হলেন শিউলি সাহা ও জাভেদ খান।
বিধানসভায় নতুন বিরোধী দলনেতা হওরা দাবি জানালেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, মোট ৬০ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি দেওয়া হয়েছে স্পিকারের কাছে। আরও ২ জন বিধায়ক সই করবেন বলে জানা যাচ্ছে। স্পিকারের কাছে বিদ্রোহী বিধায়করা চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের দলনেত্রী ও বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন এখন স্পষ্ট। ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায়ের সহযোগী বিধায়কেরা দাবি করছেন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে অন্য কোনও প্রবীণ নেতাকে দেওয়া হোক। বিদ্রোহী টিএমসি বিধায়কদের একজন মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, "৫৯ জন টিএমসি বিধায়ক স্বাক্ষর করেছেন। আমরা সবাই মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে নই, কিন্তু আমরা চাই অন্য একজন প্রবীণ নেতাকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিযুক্ত করা হোক।”
বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে অবিলম্বে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুকে চিঠি পাঠান তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকার কলকাতায় নেই বলে সেই চিঠি অবশ্য বিধানসভায় গ্রহণ করা হয়নি।
সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, নতুন দল গঠনের কোনও পরিকল্পনা এখন করছেন না ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায় ও তাঁর সহযোগী বিধায়কেরা। বর্তমানে বিধানসভার ভেতরে 'বিদ্রোহী' বিধায়কদের একটি বৈঠক চলছে বলে জানা গিয়েছে। স্পিকারও বিধানসভায় এসে পৌঁছেছেন।
নতুন তৃণমূলের দলনেতা হতে পারেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সহকারী দলনেতা হবেন সন্দীপন সাহা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সঙ্গী জাভেদ খান। চিফ হুইপ হবেন আখরুজ্জামান।