
২০২৬-এর ৪ মে। এই তারিখের পর থেকেই শুরু হয়েছে তৃণমূলের রক্তক্ষরণ। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায় থেকে শুরু করে কুণাল ঘোষের মতো TMC-এর শীর্ষ নেতৃত্ব 'ডিম হামলার' শিকার। বিভিন্ন জেলায় জনরোষের শিকার হচ্ছেন তৃণমূল নেতারা। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদীয় দলেও ভাঙন ধরেছে। দিল্লি থেকে কলকাতা আলাদা আলাদা ফাটল ধরা পড়ায় কার্যত দিশেহারা মনে হচ্ছে TMC সুপ্রিমো মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কেও। তাঁকে কোণঠাসা করতে সাজানো রয়েছে রীতিমতো সাঁড়াশি প্ল্যান।
তৃণমূলের অন্দরে কী দেখা যাচ্ছে?
তৃণমূল কংগ্রেসের একজোট হয়ে লড়াইয়ের সম্ভাবনা এখন খানখান হয়ে গিয়েছে। বিদ্রোহী সাংসদ ও বিধায়করা তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেতে লম্বা লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দিল্লিতে এক ধরনের কৌশল এবং কলকাতায় আর এক ধরনের কৌশল তৈরি করা হয়েছে।
দিল্লিতে কী হয়েছে?
দিল্লিতে টিএমসি-র ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ একটি পৃথক গোষ্ঠী গঠন করে এনসিপি-র সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এর আগে, ২৮ মে NCP প্রেসিডেন্ট শিউলি কুন্ডু নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর ২৭ মে প্রাথমিক সদস্যপদও ছেড়ে দেন।
এখন TMC-র বিদ্রোহী গোষ্ঠী কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে এনসিপি-র রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটির নির্বাচিত সভাপতি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে, ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ এখন এনসিপি-র অংশ।
কলকাতায় কী পরিস্থিতি?
কলকাতার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৫ জন বিধায়ক বিদ্রোহী দলে নাম লিখিয়েছেন। বিধানসভার স্পিকার ঋতব্রতকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
ঋতব্রত দাবি করেছেন, এটি তৃণমূলের বিভাজনের সূচনা মাত্র। এই বিভাজন সংগঠনের ব্লক ও অন্যান্য স্তরেও প্রতিফলিত হবে বলে মনে করেছেন তিনি। ঋতব্রত তাঁর গোষ্ঠীকে আসল টিএমসি বলে দাবি করেছেন।
মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় এই মুহূর্তে উভয় সঙ্কটে রয়েছেন। দল বাঁচাতে তাঁকে এখন দুই রণাঙ্গনে আইনি লড়াই লড়তে হবে। প্রথমত, কলকাতায় TMC সুপ্রিমোকে প্রমাণ করতে হবে তাঁর গোষ্ঠীই আসল টিএমসি। অন্যদিকে, দিল্লিতে তিনি লড়ে প্রমাণ করতে চাইবেন , ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ দলত্যাগ করতে পারেন না এবং তাঁদের অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত।
এছাড়াও, তৃণমূল কংগ্রেসের আসল লড়াইটা হতে চলেছে নির্বাচন কমিশনের সামনেও। হতে পারে TMC-র নির্বাচনী প্রতীক বাজেয়াপ্ত করে দুটি গোষ্ঠীকে আলাদা নির্বাচনী প্রতীক দেওয়া হল।