উত্তম কুমারের মূর্তি 'তুমি একবার আমাকে বলো, উত্তম কুমার...'। কেওড়াতলা মহাশ্মশানে সদ্য উদ্বোধন হওয়া মহানায়কের আবক্ষ মূর্তি দেখে 'বসন্ত বিলাপ' সিনেমার এই ডায়লগই আওড়াচ্ছেন সকলে। সত্যিই কি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে উদ্বোধন হওয়া ওই মূর্তিটি উত্তম কুমারের মতো দেখতে হয়েছে? এই নিয়ে গত ২-৩ দিন ধরে বিতর্কের ঝড় বইছে। নেটপাড়ায় চলছে দেদার লেখালেখি। তৃণমূল (মমতাপন্থী) বিধায়ক কুণাল ঘোষ থেকে শুরু করে বাংলা পক্ষের গর্গ চট্টোপাধ্যায় কিংবা অভিনেতা দেবদূত ঘোষ, সকলেই এই মূর্তি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন।
মূর্তি উদ্বোধন
কেওড়াতলা মহাশ্মশানে গত ২৪ জুলাই, মহানায়ক উত্তম কুমারের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন টলি জগতের বিশিষ্টরা। বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উত্তম কুমারের সেই আবক্ষ মূর্তিটির উদ্বোধন করেন। তামাটে রঙা সেই মূর্তির মুখ প্রকাশ্যে আসতেই নাক শিঁটকান অনেকে। অধিকাংশেরই মত, সেটি আদৌ উত্তম কুমারের মুখের আদলে তৈরি হয়নি।
কুণালের কটাক্ষ
উত্তম কুমারের ব্রোঞ্জের মূর্তির একটি ছবি প্রকাশ করে কুণাল ঘোষ লেখেন, 'এটা উত্তম কুমারের মূর্তি? ইয়ার্কি হচ্ছে? এটা রাজ্য সরকার বসাল? এই মূর্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বোধন করলে কী হত ভাবতে পারছেন?' তিনি আরও লেখেন, 'BJP-র অভিনেতা-অভিনেত্রীরা দেখতে পাচ্ছেন না? অবিলম্বে এই মূর্তি সরিয়ে ঠিকঠাক মূর্তি বসাক রাজ্য। উত্তম কুমারকে নিয়ে ছেলেখেলা করবেন না।'
কটাক্ষ করেছেন বামমনস্ক অভিনেতা দেবদূত ঘোষও। তিনি ফেসবুকে লেখেন, 'মহানায়ক উত্তম কুমারের কেওড়াতলায় সদ্য প্রতিষ্ঠিত মূর্তিটি দেখলাম। অত্যন্ত খারাপ লাহল। অমন সুন্দর মানুষটির এ কী রূপ! রূপাদি, রুদ্র, পাপিয়াদি সহ সরকারের কাছে অনুরোধ মূর্তিটি বদল করা হোক।'
আরও একধাপ এগিয়ে কটাক্ষের সুরে বাংলা পক্ষের গর্গ চট্টোপাধ্যায় লেখেন, 'ওটা উত্তম কুমারের মূর্তি না রজনীগন্ধা শেখরের বিজ্ঞাপন?'
নেটপাড়ায় ট্রোল
কেওড়াতলা মহাশ্মশানের এই মূর্তি নিয়ে হাসির রোল উঠেছে নেটপাড়াতে। কেউ বলছেন, 'এ তো উত্তম নয় অধম।' আবার কেউ লিখেছেন, 'বাবা রামদেবের দাঁতের মাজনের বিজ্ঞাপন।' কারও কথায়, 'ইনি উত্তম কুমার হলে, আমি চার্লি চ্যাপলিন!'
মেসির মূর্তি নিয়ে বিতর্ক
কলকাতায় GOAT ট্যুরে লিও মেসি এসে উদ্বোধন করেছিলেন লেকটাউনে বিশালাকার মূর্তি। বিশ্বকাপ হাতে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মূর্তি নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি। শিল্পী ছিলেন মন্টি পাল। তবে মূর্তির মুখ মেসির মতো না হওয়ায় সমালোচনা হয়েছিল তীব্র। তৃণমূল আমলে, তৎকালীন মন্ত্রী সুজিত বসুর উদ্যোগে তৈরি এই মূর্তি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বর্তমান BJP নেতা-মন্ত্রীরা। শেষ পর্যন্ত রাজ্যে পালাবদলের পর মেসির সেই বিরাট মূর্তি লেকটাউন থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শিল্পী জানিয়েছিলেন, সুজিত বসু তাড়া দেওয়াতেই মেসির মূর্তি দ্রুত বানাতে গিয়ে বিভ্রাট হয়েছে। সরু হয়ে গিয়েছে পা। এবারও কি তবে উত্তম কুমারের মূর্তি তৈরির জন্য অত্যন্ত কম সময় পেয়েছিলেন শিল্পী? উঠছে প্রশ্ন।
এবার দাবি উঠছে, কেওড়ালার এই উত্তম কুমারের মূর্তিও হয় সরিয়ে ফেলা হোক বা বদল করা হোক। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের উদ্যোগে বসানো এই মহনায়কের মূর্তিটির শিল্পী কে, তা অবশ্য এখনও প্রকাশ্যে জানায়নি প্রশাসন।