Rakesh Singh BJP: কংগ্রেসের দফতরে ভাঙচুরে গ্রেফতার ৩, এখনও অধরা BJP র রাকেশ সিং

প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দফতরে ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতার তিন। এন্টালি থানার পুলিশ সূত্রে খবর, এঁরা প্রত্যেকেই বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তবে এখনও পর্যন্ত  মূল অভিযুক্ত রাকেশ সিং ধরা পড়েননি।

Advertisement
কংগ্রেসের দফতরে ভাঙচুরে গ্রেফতার ৩, এখনও অধরা BJP র রাকেশ সিংবাঁদিকে, অভিযুক্ত রাকেশ সিং। পাশে সেদিনের ভাঙচুরের ছবি।
হাইলাইটস
  • প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দফতরে ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতার তিন। 
  • এন্টালি থানার পুলিশ সূত্রে খবর, এঁরা প্রত্যেকেই বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
  • তবে এখনও পর্যন্ত  মূল অভিযুক্ত রাকেশ সিং ধরা পড়েননি।

প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দফতরে ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতার তিন। এন্টালি থানার পুলিশ সূত্রে খবর, এঁরা প্রত্যেকেই বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তবে এখনও পর্যন্ত  মূল অভিযুক্ত রাকেশ সিং ধরা পড়েননি। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা ও অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। বিহারে কংগ্রেস সভামঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ্য করে অশালীন মন্তব্য করা হয়। তার প্রতিবাদেই শুক্রবার কলকাতার আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রোডের প্রদেশ কংগ্রেস সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভে বসেন বিজেপি কর্মীরা। সেই বিক্ষোভই পরে রণক্ষেত্রের চেহারা ন্যায়। প্রদেশ কংগ্রেসের অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।

ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। রাহুল গান্ধীর ছবিতে কালি মাখিয়ে পোস্টও করেন বিজেপি নেতা রাকেশ সিং। হামলার আগে ফেসবুকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, রাকেশ সিং নিজে একসময় কংগ্রেসেই ছিলেন। পরে দল বদলে বিজেপিতে যোগ দেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় রাকেশ সিং সহ প্রায় ২০, ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনসহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।এর মধ্যে অনেকগুলিই জামিন অযোগ্য। শুক্রবার রাতেই রাকেশ সিংহের আলিপুরের বাড়িতে যায় পুলিশ। কিন্তু সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এন্টালি থানা সূত্রে খবর, যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে মূল অভিযুক্ত রাকেশ সিং কোথায় আছেন, তাই নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।

কংগ্রেসের ক্ষোভ
এই ঘটনার পর ক্ষোভে ফুঁসছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, 'পুলিশ বলছে গ্রেফতার হবেই, পাতালে থাকলেও। আমরা দেখতে চাই, তাঁকে কোন শক্তি আড়াল করে রেখেছে। কোথা থেকে ফেসবুক লাইভ করছেন? কংগ্রেস কখনও রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতিকে সমর্থন করে না। যদি করতাম, গতকালই বিজেপি দফতরে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দিতাম।'

বিজেপির সাফাই
ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাপে পড়েছে গেরুয়া শিবিরও। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমে বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর মা-কে নিয়ে অশালীন মন্তব্য হয়েছে। কর্মীরা আবেগে উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন। প্রতিবাদ ঠিক ছিল। তবে কোনও দলের পতাকা পোড়ানো আমাদের অনুমোদিত নয়। প্রতিবাদের সঙ্গে দল ছিল, কিন্তু হিংসার সঙ্গে নয়।'

Advertisement

রাকেশ সিংহের পরিবারের বক্তব্য
রাকেশ সিংহের মেয়ে সিমরান সিং পুলিশের অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, 'বাবা কোথাও পালাননি। পুলিশ গল্প বানাচ্ছে। শুক্রবার রাতে ৫০,৬০ জন লোক এসে তাঁকে ধরতে চেয়েছিল, কিন্তু পারেনি।'

এদিকে, রাকেশ সিংহ ফেসবুকে লাইভ করে নিজের পক্ষে সাফাই দিয়েছেন। পুলিশের খাতায় পলাতক হয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকার ঘটনায় আরও প্রশ্ন উঠছে।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
তৃণমূল কংগ্রেসও ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, 'পুলিশ খুঁজছে, সবাই ধরা পড়বে। এই ধরনের আক্রমণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।'

শনিবার শহরের বিভিন্ন প্রান্তে কংগ্রেস কর্মীরা রাস্তায় নামেন। তাঁরা রাকেশ সিংহের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান।

কলকাতার রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন, কবে ধরা পড়বেন রাকেশ সিংহ? পুলিশের দাবি, তদন্ত দ্রুত এগোচ্ছে। তবে এ ঘটনায় ক্রমশই চড়ছে রাজনীতির পারদ।

POST A COMMENT
Advertisement