প্রতীকী ছবি বিশ্বকর্মা পুজোর ছুটির দিন বদল করল রাজ্য সরকার। আগে ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর বিশ্বকর্মা পুজো ১৮ সেপ্টেম্বর পড়ায় সেই ছুটির দিন পরিবর্তন করা হল। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বরশুক্রবার বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে রাজ্য সরকারি ছুটি থাকবে।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর জারি করা বিজ্ঞপ্তি নম্বর ৪১৮৮-F(P2)-এর মাধ্যমে আগে ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে জানা যায়, ২০২৬ সালে বিশ্বকর্মা পুজো ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার পড়ছে। সেই কারণে আগের ছুটির দিন পরিবর্তন করে ১৮ সেপ্টেম্বর ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
কোন কোন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে?
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকারের সমস্ত অফিস বন্ধ থাকবে। এর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, স্ট্যাটিউটরি বডি, বোর্ড, কর্পোরেশন এবং রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন বা মালিকানাধীন বিভিন্ন সংস্থাতেও ছুটি থাকবে। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সরকারি দফতর ও প্রতিষ্ঠানও ওই দিন বন্ধ থাকবে।
অর্থাৎ, বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে ১৭ সেপ্টেম্বর নয়, ১৮ সেপ্টেম্বর সরকারি ছুটি থাকবে। আগের বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষিত ছুটির দিন সংশোধন করে নতুন তারিখ কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে।
পশ্চিমবঙ্গে বিশ্বকর্মা পুজো শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শ্রমজীবী মানুষের সংস্কৃতি, কারিগরি পেশা এবং বাংলার শিল্পাঞ্চলের নিজস্ব ঐতিহ্য। প্রতি বছর ভাদ্র সংক্রান্তির দিন সাধারণত বিশ্বকর্মা পুজো পালিত হয়। এই দিনে বিভিন্ন কারখানা, ওয়ার্কশপ, গ্যারাজ, ছাপাখানা, নির্মাণস্থল এবং ছোট-বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ধুমধাম করে পুজোর আয়োজন করা হয়।
বিশ্বকর্মাকে দেবতাদের স্থপতি ও কারিগর হিসেবে মনে করা হয়। তাই যন্ত্রপাতি, মেশিন এবং কাজের সরঞ্জামকে এই পুজোর দিনে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুজোর আগে কারখানা বা ওয়ার্কশপ পরিষ্কার করা হয়। মেশিনপত্র ধুয়ে-মুছে সাজানো হয়। অনেক জায়গায় যন্ত্রের উপর ফুল, চন্দনের ফোঁটা ও মালা দেওয়া হয়। এরপর পুরোহিতের মাধ্যমে বিশ্বকর্মার পুজো করা হয়।
বাংলার শিল্পাঞ্চলগুলিতে বিশ্বকর্মা পুজোর আলাদা আবহ দেখা যায়। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, আসানসোল, দুর্গাপুরের মতো শিল্প ও শ্রমনির্ভর এলাকাগুলিতে কারখানা ও বিভিন্ন ওয়ার্কশপে এই উৎসব ঘিরে বিশেষ আয়োজন থাকে। কোথাও কর্মীদের জন্য ভোগ বা প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়, আবার কোথাও পুজো উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়।
বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে ঘুড়ি ওড়ানোরও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে বাংলায়। বিশেষ করে কলকাতা ও শহরতলিতে এই দিন আকাশে নানা রঙের ঘুড়ি দেখা যায়। বাড়ির ছাদে ছোটদের পাশাপাশি বড়রাও ঘুড়ি ওড়ান। কোথাও কোথাও ঘুড়ি ওড়ানোকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়।
আরও একটি বিশেষ বিষয় হল, এই পুজোকে ঘিরে শ্রমজীবী ও কারিগরদের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। যাঁদের প্রতিদিনের কাজ যন্ত্রপাতি, গাড়ি, লোহা, কাঠ বা বিভিন্ন কারিগরি সরঞ্জামের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের কাছে দিনটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। শহর থেকে গ্রাম- পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে তাই বিশ্বকর্মা পুজো একদিকে যেমন পুজোর উৎসব, অন্যদিকে তেমনই শ্রম, কারিগরি দক্ষতা এবং কর্মসংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত একটি বিশেষ সামাজিক অনুষ্ঠান।