আখরুজ্জামানের সঙ্গে অশান্তি, কুণালকে বিধানসভা থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দেওয়া হল

যদিও স্বেচ্ছায় বেরিয়ে যাননি কুণাল। তিনি যেতে চাননি। তখন মার্শালরা তাঁকে চ্যাংদোলা করে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দেন। একবার তো পড়েও যান কুণাল। 

Advertisement
আখরুজ্জামানের সঙ্গে অশান্তি, কুণালকে বিধানসভা থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দেওয়া হল কুণাল ঘোষকে বের করে দেওয়া হচ্ছে
হাইলাইটস
  • মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষকে বিধানসভা থেকে বের করে দিলেন মার্শাল
  • বিধানসভায় তুমুল অশান্তি

বিধানসভায় বিরাট অশান্তি। মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষকে বিধানসভা থেকে বের করে দিলেন মার্শাল। স্পিকার রথীন বসু কুণালকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কুণাল নিজে থেকে বেরোতে চাননি। এর ফলে তাঁকে কার্যত চ্যাংদোলা করে বাইরে নিয়ে যান মার্শালরা। কুণালকে সাসপেন্ডও করা হয় বিধানসভা থেকে। 

এদিন ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে ওঠেন। ঠিক তখন কুণাল ঘোষ নিজের আসন ছেড়ে সেখানে চলে যান। তারপর আখরুজ্জামানকে কিছু বলতে থাকেন। তাতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণালের এই আচরণের নিন্দা করেন বাকি বিধায়করা। তাঁরা অভিযোগ করেন, বিধায়সভার ভিতরে একজন বিধায়ককে নিগ্রহ ও অসম্মান করা হচ্ছে। 

এভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মমতা-পন্থী বিধায়করা ওয়লে নামেন। ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদেরও দেখা যায়। তারইমধ্যে ওয়েলে নেমে আসেন বিজেপির বিধায়করাও। যদিও রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এসে তাঁদের দলের বিধায়কদের নিজের নিজের আসনে বসতে বলেন। 

তখন দেখা যায়, কুণাল ঘোষ ঋতব্রত-পন্থী বিধায়কদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়েছেন। স্পিকার রথীন বসু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে থাকেন। তিনি বারবার কুণাল ঘোষকে বসতে বলেন নিজের আসনে। তবে কুণাল ঘোষ সেই কথায় কর্ণপাত করেননি। তাঁকে ওয়েলে বাকি বিধায়কদের সঙ্গে বচসা করতে দেখা যায়। 

তখন রথীন বসু সতর্ক করে দেন কুণালকে। তিনি বারবার বলতে থাকেন, 'কুণালবাবু আপনি যদি না বসেন তাহলে আমি কিন্তু আপনাকে বের করে দেব। আপনি অনুগ্রহ করে বসে যান। এমন আচরণ করবেন না।' তবে কুণাল ঘোষ নির্দেশ মানেননি। তখন তাঁকে স্পিকার বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। 

মার্শালরা বের করে দিচ্ছেন কুণাল ঘোষকে
মার্শালরা বের করে দিচ্ছেন কুণাল ঘোষকে

যদিও স্বেচ্ছায় বেরিয়ে যাননি কুণাল। তিনি যেতে চাননি। তখন মার্শালরা তাঁকে চ্যাংদোলা করে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দেন। একবার তো পড়েও যান কুণাল। 

বিধানসভার এই ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কুণাল ঘোষের ব্যবহারের কড়া নিন্দা করেন। বলেন, 'আখরুজ্জামান সাহেব এই বিধানসভার অনেকদিনের সদস্য। তিনি প্রাক্তন মন্ত্রী। আজ যেভাবে মমতা-পন্থী তৃণমূলের একজন সদস্য আখরুজ্জামান সাহেবকে কার্যত শারীরিকভাবে নিগ্রহ করতে গিয়েছিলেন, আমি মুখ্যমন্ত্রী ও বিধানসভার দলনেতা হিসেবে তার নিন্দা করছি।' 

Advertisement

শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, এমন অসভ্যতা বরদাস্ত করা হবে না। আমরাও বিরোধী আসনে ছিলাম। শাসকের আসনেও আছি। এমন আচরণ কাম্য নয়।' এরপরই শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় কুণালকে এই অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করার প্রস্তাব দেন স্পিকারকে। তখন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমি প্রস্তাব দেব আজকের জন্য সাসপেন্ড করা হোক। কালকে আসুক। যদি আবার অসভ্যতা করেন তার পর দেখা যাবে।' 

 

POST A COMMENT
Advertisement