WB Gov Employees Media Guidelines: মিডিয়ায় যথেচ্ছ মুখ খোলা যাবে না, সরকারি কর্মীদের ঠিক কী কী নির্দেশিকা শুভেন্দুর?

গত সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি কর্মীরা বলছেন, সপ্তম পে কমিশন গঠন হয়ে কার্যকর হলে, একলাফে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে কর্মীদের বেসিক পে। আর এসবের মাঝেই সরকারি আধিকারিকদের জন্য এবার নতুন নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। যেকোন সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করা বা কোনও মিডিয়া প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করার আগে এবার থেকে রাজ্যের অনুমতি নিতে হবে সরকারি কর্মচারীদের।

Advertisement
 মিডিয়ায় যথেচ্ছ মুখ খোলা যাবে না, সরকারি কর্মীদের ঠিক কী কী নির্দেশিকা শুভেন্দুর?সরকারি কর্মীদের জন্য কড়া নির্দেশিকা শুভেন্দুর

 গত সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি কর্মীরা বলছেন, সপ্তম পে কমিশন গঠন হয়ে কার্যকর হলে, একলাফে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে কর্মীদের বেসিক পে। আর এসবের মাঝেই সরকারি আধিকারিকদের জন্য এবার নতুন নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। যেকোন সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করা বা কোনও মিডিয়া প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করার আগে এবার থেকে রাজ্যের অনুমতি নিতে হবে সরকারি কর্মচারীদের। 

নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে?
 রাজ্যের সরকারি আধিকারিকদের জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সেই নির্দেশিকায় বলাহয়েছে, অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমে (Media) কোনও মন্তব্য, প্রশাসনিক তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবেন না রাজ্য সরকারি কর্মীরা। মূলত প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সরকারি তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। বুধবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা রাজ্যের সমস্ত দফতর, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছেন।

রাজ্যের মুখ্যসচিবের দফতর থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বুধবার রাজ্যের কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের তরফেও এই বিজ্ঞপ্তি রাজ্যের সব দফতর, জেলাশাসক এবং পুলিশ কর্তাদের কাছে পাঠিয়ে তা অধীনস্থ সমস্ত বিভাগে প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্নের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অল ইন্ডিয়া সার্ভিস, ডব্লিউবিসিএস, ডব্লিউবিপিএস থেকে শুরু করে রাজ্যের সমস্ত স্তরের সরকারি কর্মচারী, পুলিশ ও জেল কর্মী এবং সরকার পোষিত বা সাহায্যপ্রাপ্ত বিভিন্ন সংস্থা, পর্ষদ, কর্পোরেশন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কঠোরভাবে প্রযোজ্য হবে। ১৯৫৯, ১৯৬৮ এবং ১৯৮০ সালের সরকারি আচরণবিধি বা 'কন্ডাক্ট রুলস'-এর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নবান্ন মোট ৫ দফা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, সংবাদপত্র বা সাময়িকীতে লেখা, পত্রিকার সম্পাদনা বা রেডিও-তে বক্তব্য পেশের ক্ষেত্রেও সরকারের অনুমতি বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের কোনও নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনসমক্ষে বিরূপ মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। কোনও বক্তব্য যদি ভারত বা বিদেশি রাষ্ট্রের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তবে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

Advertisement

নবান্ন সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি কর্মচারীদের একাংশের সংবাদমাধ্যমে যথেচ্ছ মন্তব্য, সোশাল মিডিয়ায় নীতি সংক্রান্ত আলোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নথি বাইরে চলে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে । বুধবার জারি করা এই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, আইএএস বা ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের পাশাপাশি পুলিশ ও জেল প্রশাসনের কর্মী, বিভিন্ন সরকারি বোর্ড, কর্পোরেশন, পুরসভা, পুরনিগম এবং সম্পূর্ণ বা আংশিক সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে । নতুন এই নিয়ম লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে কড়া বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

POST A COMMENT
Advertisement