সিভি আনন্দ বোস ও মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়(ফাইল ছবি) রাজ্যপালের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন আগেই। তবে এখনও কলকাতায় আছেন। কাল বুধবার ছাড়বেন শহর। তার আগে প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে জানান, বোসকে তিনি জানিয়ে এসেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর সঙ্গে অবিচার করেছে।
রাজ্যপাল পদত্যাগ করার পরই মমতা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর সঙ্গে কোনওরকম পরামর্শ না করে আর এন রবিকে রাজ্যপালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি। সেজন্য সরাসরি কেন্দ্রীয় অমিত শাহর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে দায়ি করেছিলেন। সঙ্গে জানিয়েছিলেন, ভোটের আগে ষড়যন্ত্র করে রাজ্যপাল বদলানো হচ্ছে।
যদিও রাজনৈতিক কারণে বা চাপের কাছে নতিস্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন, এমন অভিযোগ নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি বোস। তিনি বলেছিলেন, 'প্রবেশ ঘটলে প্রস্থান অনিবার্য। রাজ্যপাল হিসেবে ১২০০ দিন কাটিয়েছি। ক্রিকেটের হিসেবে ১২টি সেঞ্চুরি। সেটা যথেষ্ট। থামারও সময় আছে। আমার মনে হয়েছে, এটাই প্রস্থানের সঠিক সময়।'
এই আবহে আজ বোসের সঙ্গে দেখা করেন মমতা। সাক্ষাৎ শেষে বলেন, 'যেহেতু উনি কাল চলে যাচ্ছেন। তাই দেখা করতে এসেছি। ওঁর সঙ্গে তো অনেক দিন একসঙ্গে কাজ করেছি। আমার ভালো সম্পর্কই ছিল। আমি ওঁর পরিবারকেও চিনি। বাংলার সৌজন্য হিসেবে আমি তাঁর সুস্থতা কামনা করছি। তাঁর প্রতি অবিচার হয়েছে। অন্যায় হয়েছে। আরও দেড় বছর মেয়াদ থাকতে নির্বাচনের আগে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি তাঁকে আমার কথা বলে এসেছি। তাঁকে অনুরোধ করেছি, বাংলাকে যেহেতু ভালোবাসেন, তাই বাংলায় যাতে আবার আসেন।'
রাষ্ট্রপতিকে রিসিভ বিতর্কে মমতা এদিন ফের বলেন, 'রাজ্যপাল যেতে পারেননি কারণ সেদিনই তো বোসকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল সিদ্ধান্ত নিয়ে। সেদিন তো ওঁর বাগডোগরা যাওয়ার কথা ছিল। উনি তো রাজ্যপাল হিসেবে রাজভবনে থাকতেই পারতেন। তবে থাকেননি। অবিচার হয়েছে বলে সৌজন্য দেখিয়ে বেরিয়ে চলে এসেছেন।'