21 July Rally 2026: ছাব্বিশে একুশে জুলাই কার? কংগ্রেসের মেগা প্ল্যান, ওদিকে এখনও কিছু ঠিকই নেই মমতার TMC-র

এখন প্রশ্ন হল, ২০২৬ সালে একুশে জুলাই কার? কংগ্রেস নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের? খোঁজ নিয়ে যা জানা গেল, তাতে একটি বিষয় স্পষ্ট, এ বছর একুশে জুলাই নিয়ে বড় আয়োজনের প্ল্যান কংগ্রেসের। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের এখনও পর্যন্ত ঠিকই হয়নি, কী হবে, কোথায় হবে বা শহিদ দিবসের সেই মেগা শো আদৌ হবে কিনা। তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, ততদিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসে অবশিষ্ট কারা থাকবেন। 

Advertisement
ছাব্বিশে একুশে জুলাই কার? কংগ্রেসের মেগা প্ল্যান, ওদিকে এখনও কিছু ঠিকই নেই মমতার TMC-র ২০২৬ সালে একুশে জুলাই নিয়ে কংগ্রেসের মেগা প্ল্যান
হাইলাইটস
  • প্রদেশ কংগ্রেসের কী প্ল্যান একুশে জুলাই নিয়ে? 
  • এখনও প্ল্যানই নেই তৃণমূল কংগ্রেসের
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কি এ বছর প্রদেশ কংগ্রেস শহিদ দিবসে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে?

'চিরদিন কাহারো সমান নাহি যায়'! নজরুলের এই গানটি রাজনীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রযোজ্য বললে অত্যুক্তি হয় না। যার নির্যাস, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অনেকদিন পরে রাজনৈতিক আলোচনায় কংগ্রেস। ২১ জুলাইয়ে এ বার বড় আয়োজন করছে প্রদেশ কংগ্রেস। দীর্ঘ দিন ধরেই শহিদ দিবস হিসেবে পরিচিত একুশে জুলাই দিনটিতে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেগা সভা হিসেবে দেখে এসেছে পশ্চিমবঙ্গবাসী। ঠিক যেমন বামফ্রন্ট ব্রিগেড জনসভা করে, তেমনই একুশে জুলাইয়ে বিশাল জনসভা হয় মমতার। কিন্তু ২০২৬ সালে সব তালগোল পাকিয়ে গিয়েছে!

এখন প্রশ্ন হল, ২০২৬ সালে একুশে জুলাই কার? কংগ্রেস নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের? খোঁজ নিয়ে যা জানা গেল, তাতে একটি বিষয় স্পষ্ট, এ বছর একুশে জুলাই নিয়ে বড় আয়োজনের প্ল্যান কংগ্রেসের। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের এখনও পর্যন্ত ঠিকই হয়নি, কী হবে, কোথায় হবে বা শহিদ দিবসের সেই মেগা শো আদৌ হবে কিনা। তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, ততদিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসে অবশিষ্ট কারা থাকবেন। 

এ বছর একুশে জুলাই পালনের ক্ষেত্রে প্রদেশ কংগ্রেসকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধর্মতলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেগা র‍্যালি নিয়ে দেখা গিয়েছে, দু'মাস আগে থেকে তোড়জোড় শুরু হয়ে যেত। সুবিশাল আয়োজন। ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ। সকলের মনে প্রশ্ন থাকত, এ বছর একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে কী বার্তা দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়,কী চমক থাকছে। আর এই উচ্ছ্বাস শুধু ক্ষমতায় আসার পর থেকে নয়, তার আগেও, বিশেষ করে সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম আন্দোলন পর্বেও দেখা গিয়েছিল, একুশে জুলাই ঘিরে মমতার সুবিশাল আয়োজন।

প্রদেশ কংগ্রেসের কী প্ল্যান একুশে জুলাই নিয়ে? 

এ বছর একুশে জুলাই কংগ্রেস পালন করতে চলেছে শহিদ মিনারে, আগেই জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। bangla.aajtak.in-কে প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরী জানালেন, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের কেউ উপস্থিত থাকবেন শহিদ মিনারে একুশে জুলাইয়ের সভায়। রাহুল গান্ধী আসছেন? প্রশ্নে সুমন বললেন, 'আমরা দিল্লির নেতৃত্বের কাছে আবেদন জানিয়েছি, সর্বোচ্চ স্তরের নেতৃত্বের মধ্যে কেউ যদি সে দিন উপস্থিত থাকেন, আমরা আশাবাদী, দিল্লি থেকে কেউ না কেউ আসবেন। শহিদ মিনারে সভা হচ্ছে যখন বড় করেই হবে। ছোটখাটো হবে না। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, জয়রাম রমেশ, এঁরা সবাই তো সর্বোচ্চ নেতৃত্ব, এঁদের মধ্যে কেউ না কেউ আসবেন।' যদিও প্রদেশ কংগ্রেসে তরফে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতার দাবি, রাহুল গান্ধীর আসারই বেশি সম্ভাবনা। 

Advertisement

একুশে জুলাই নিয়ে এখনও প্ল্যানই নেই তৃণমূল কংগ্রেসের

প্রদেশ কংগ্রেস যখন শহিদ দিবস পালন নিয়ে মেগা কিছু করার প্ল্যান করে ফেলেছে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসে যেন 'শিবরাত্রির সলতে' জ্বলছে। অথচ মাস খানেক পরেই একুশে জুলাই। তৃণমূল নেত্রী ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে শহিদ দিবসের প্ল্যান নিয়ে জিগ্গেস করা হলে তিনি বললেন, 'এখনও কিছু ঠিক নেই, হলে জানাব। কিছু ঠিক হয়নি, যখন ঠিক হবে, নিশ্চয়ই মিডিয়াকে জানানো হবে।'

১৯৯৩ সালে ২১ জুলাইয়ে রাইটার্সের সামনে তত্‍কালীন কংগ্রেস যুবনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
১৯৯৩ সালে ২১ জুলাইয়ে রাইটার্সের সামনে তত্‍কালীন কংগ্রেস যুবনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কী হয়েছিল ১৯৯৩ সালের একুশে জুলাই

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসে থাকাকালীনই ১৯৯৩ সালে একুশে জুলাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী।  নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার জন্য, সচিত্র পরিচয়পত্রের দাবিতে ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে এই কর্মসূচির দিন ঠিক হয়ে ছিল ১৪ জুলাই। কিন্তু ওই সময় প্রাক্তন রাজ্যপাল নুরুল হাসানের প্রয়াণের কারণে, কর্মসূচির দিন পিছিয়ে ২১ জুলাই করা হয়। সারা কলকাতা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। অশান্তির ভরকেন্দ্র ছিল মধ্য কলকাতা। ধীরে ধীরে সারা কলকাতা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের ভ্যানে অগ্নি সংযোগের মতো ঘটনাও ঘটে। বিক্ষোভকারীরা এগোতে থাকে, পিছু হঠতে শুরু করে পুলিশ। তখন গুলি চালাতে শুরু করে পুলিশবাহিনী। আর তাতেই প্রাণ যায় ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর।

ওই ১৩ জন কংগ্রেস কর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই প্রতি বছর একুশে জুলাই পালন করে কংগ্রেস। পরবর্তীকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস দল তৈরি করার পরে ওই দিনটি তিনি মেগা সভার আয়োজন করা শুরু করেন।  

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কি এ বছর প্রদেশ কংগ্রেস শহিদ দিবসে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে?

সুমনের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন উঠে যাওয়া দলের নেত্রী। তাঁর সঙ্গে জাতীয় কংগ্রেসের সম্পর্ক নেই। উনি তো আর কংগ্রেসে নেই। ওঁকে ডাকার কোনও প্রশ্নই নেই।

POST A COMMENT
Advertisement