Durga Puja 2026 Grants: এবার দুর্গাপুজোর অনুদান পাবে কোন কোন ক্লাব? নবান্নে হয়ে গেল বৈঠক

পুজোর অনুদান ও অন্য বিষয় নিয়ে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠক করেন কলকাতার পুজো কমিটিগুলির সংগঠন 'ফোরাম ফর দুর্গোৎসব'-এর কর্তারা। সেই বৈঠকে ছিলেন ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। নবান্নে সূত্র জানাচ্ছে, রাজ্যের যেসব পুজো কমিটির দুর্গা পুজোর বাজেট ১০ লাখ টাকার কম হবে তাদেরকেই আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে রাজ্য সরকার। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনার পরেই সেই সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্যের অর্থ দফতর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেই সংক্রান্ত তথ্য জানিয়ে দেবেন বলেই আশা করা হচ্ছে।

Advertisement
এবার দুর্গাপুজোর অনুদান পাবে কোন কোন ক্লাব? নবান্নে হয়ে গেল বৈঠকএবারও মিলবে পুজো অনুদান, কোন কোন ক্লাব পাচ্ছে ? নবান্নে হয়ে গেল বৈঠক

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৮ সালে প্রথমবার পুজো অনুদান ঘোষণা করেছিলেন। সেই বছর রাজ্যের প্রতিটি দুর্গাপুজো কমিটিকে ১০,০০০ টাকা করে দেওয়া হয়। তারপর যত দিন গিয়েছে,  লাফিয়ে লাফিয়ে অনুদানের অঙ্ক বাড়িয়েছেন  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বছরও প্রতিটি পুজো কমিটিগুলির জন্য ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা  অনুদান  ঘোষণা করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৫ সালে এই অনুদান দেওয়ার জন্য রাজ্যের মোট খরচ হয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। সেই সময় বিরোধী দল বিজেপি এই হারে ক্লাবগুলিকে অনুদান দেওয়ার বিরোধিতা করে। এবার ২০২৬ সালে সেই বিজেপিই ক্ষমতায়। এবার কি দুর্গাপুজোর অনুদান দেওয়া হবে? কারণ পুজোর আর দু'মাস বাকি। এই অবস্থায় সব পুজো কমিটিগুলি এবার অনুদান পাবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।  জানা যাচ্ছে দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে এবার বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটতে পারে রাজ্য সরকার।

নবান্ন সূত্রে খবর, ১০ লক্ষ টাকার কম বাজেটের দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকেই আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, আগের মতো সব অনুমোদিত পুজো কমিটিকে একই হারে অনুদান না দিয়ে, প্রয়োজনের ভিত্তিতে বেছে বেছে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার নীতি নিতে পারে নতুন সরকার। প্রসঙ্গত,  আগের বছর পর্যন্ত সকল পুলিশ অনুমোদিত পুজোগুলিকে অনুদান দিত রাজ্য সরকার। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে এবার সেই প্রক্রিয়ার বদল ঘটতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলের মতো সব পুজোকে অনুদান দেওয়া হবে না। সেই সিদ্ধান্তেই সিলমোহর পড়তে চলেছে।  নবান্ন সূত্রের খবর, এবার থেকে সমস্ত পুজো কমিটিকে একসঙ্গে আর্থিক অনুদান দেওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজনের ভিত্তিতে প্রকৃত প্রাপকদের চিহ্নিত করে সাহায্য করা হবে।
 
কারা পাবে এবার দুর্গা পুজোর অনুদান?
নবান্নে সূত্র জানাচ্ছে, রাজ্যের যেসব পুজো কমিটির দুর্গা পুজোর বাজেট ১০  লাখ টাকার কম হবে তাদেরকেই আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে রাজ্য সরকার। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে  চূড়ান্ত আলোচনার পরেই সেই সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্যের অর্থ দফতর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেই সংক্রান্ত তথ্য জানিয়ে দেবেন বলেই আশা করা হচ্ছে।

Advertisement

'ফোরাম ফর দুর্গোৎসব'-এর সঙ্গে বৈঠক
পুজোর অনুদান ও অন্য বিষয় নিয়ে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠক করেন কলকাতার পুজো কমিটিগুলির সংগঠন 'ফোরাম ফর দুর্গোৎসব'-এর কর্তারা। সেই বৈঠকে ছিলেন ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। ফোরামের তরফে বালিগঞ্জ কালচারালের অঞ্জন উকিল এবং বেহালা নূতন দলের সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায়রাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর ফোরামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি বার্তা দেন অঞ্জন উকিল। সেখানে তিনি লেখেন, 'মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ফোরামের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-ও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বড় রাস্তা ও গলির পুজো, বিদ্যুতের ছাড়, হোর্ডিং-ব্যানারের উপর কর্পোরেশন ট্যাক্সে ছাড়, পুজোর অনুদান— এরকম বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে আলোচনা করে এই বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত চলতি মাসেই একটি বৈঠক করে সবাইকে জানিয়ে দেবেন। তিনি অত্যন্ত সদর্থক মনোভাব নিয়ে আমাদের প্রতিটি কথা শুনেছেন এবং বলেছেন । আপনারা সকলে মিলে শহরবাসীকে একটি সুন্দর পুজো উপহার দেওয়ার জন্য কাজে নেমে পড়ুন।'

ফোরাম কর্তার এই বার্তার পরেই আশায় বুক বাঁধছে শহরের ছোট পুজো কমিটিগুলি। অনুদান নিয়ে সরকারি অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট না হওয়ায় অনেকেই এখনও পুজোর বাজেট চূড়ান্ত করতে পারেনি। খরচ কমাতে বাধ্য হয়ে অনেকেই পুজোর থিম বাতিল করেছে। বদল করা হয়েছে থিমশিল্পীও। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন বড় পুজোর উদ্যোক্তারা। উত্তর কলকাতার খ্যাতনামা পুজো টালা প্রত্যয়ের অন্যতম কর্তা দেবাশিস সোম বলছেন, 'মুখ্যমন্ত্রী বড় পুজো কমিটিগুলিকে বাদ দিয়ে ছোট পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। আমাদের পুজো কমিটি নতুন করে তৈরি হয়েছে। নিজেদের ক্লাবের কর্তাদের উদ্যোগে সংগৃহীত অর্থ দিয়েই আমরা দেবী আরাধনা করব।' অন্যদিকে, অনুদানের আশায় রয়েছেন ছোট পুজোর উদ্যোক্তারা। দক্ষিণ কলকাতার বেহালা সাহাপুর সাংগঠনিক ক্লাবের সদস্য মৈনাক চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'আমরা একেবারেই ছোট করে পুজো করি। আমাদের পুজোর বাজেট 10 লাখ তো দূরের কথা পাঁচ লাখও নয়। সরকারি অনুদান পেলে আরও ভাল পুজো হবে। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।'

সরকারের বক্তব্য, সকলকে সমানভাবে অনুদান দেওয়ার পরিবর্তে অর্থের সঠিক ব্যবহার, স্বচ্ছতা এবং প্রয়োজনের ভিত্তিতে সহায়তা নিশ্চিত করাই নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য। ফলে যেসব পুজো কমিটির নিজস্ব আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, তাদের পরিবর্তে আর্থিকভাবে দুর্বল ও প্রয়োজনীয় কমিটিগুলিই অগ্রাধিকার পেতে পারে। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তে দুর্গাপুজোর অনুদান ব্যবস্থায় একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আসতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি অর্থ যাতে প্রকৃত প্রয়োজনেই কাজে লাগে, সেই লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন বলে জানানো হয়েছে। সরকারের স্পষ্ট বার্তা, সবার জন্য নয়, প্রয়োজনীয়দের জন্যই আর্থিক সহায়তা। একইসঙ্গে দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য ও উৎসবের আবহ বজায় রেখে সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং স্বচ্ছতার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

POST A COMMENT
Advertisement