RN Ravi vs Mamata Banerjee: রাজ্যপালের মুখে 'পরিবর্তন', মমতার পাল্টা 'লাটসাহেব', দ্বন্দ্ব শুরু

ফের কি একবার সংঘাতের পথে নবান্ন ও রাজভবন সম্পর্ক? পয়লা বৈশাখের দিনের ঘটনাপ্রবাহ কিন্তু তেমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এরআগে ধনখড় ও বোসের আমলে নবান্ন-রাজ্যপাল সংঘাত দেখেছে বাংলা। এককথায় যাকে আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক বলাই যায়। তবে রবীন্দ্রনারায়ণ রবির বাংলায় দায়িত্ব নেওয়ার দিন শপথ অনুষ্ঠানে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন মমতা বলেছিলেন, ‘বাংলাকে যাঁরা ভালোবাসেন, বাংলাও তাঁদের ভালোবাসে।’ রাজ্যপালের বাংলায় দায়িত্ব নেওয়ার দিনেই মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। এবার বুধবারের ঘটনা নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Advertisement
 রাজ্যপালের মুখে 'পরিবর্তন', মমতার পাল্টা 'লাটসাহেব', দ্বন্দ্ব শুরুফের কি সংঘাতের পথেই সম্পর্ক?

ফের কি একবার সংঘাতের পথে নবান্ন ও রাজভবন সম্পর্ক?  পয়লা বৈশাখের দিনের ঘটনাপ্রবাহ কিন্তু তেমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এরআগে ধনখড় ও বোসের আমলে নবান্ন-রাজ্যপাল সংঘাত দেখেছে বাংলা।  এককথায় যাকে  আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক বলাই যায়। তবে  রবীন্দ্রনারায়ণ রবির বাংলায় দায়িত্ব নেওয়ার দিন শপথ অনুষ্ঠানে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন মমতা বলেছিলেন,  ‘বাংলাকে যাঁরা ভালোবাসেন, বাংলাও তাঁদের ভালোবাসে।’ রাজ্যপালের বাংলায় দায়িত্ব নেওয়ার দিনেই মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। এবার বুধবারের ঘটনা নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 রাজ্যপালের পরিবর্তনের ডাক 
 পয়লা বৈশাখের দিন বাংলার অর্থনৈতিক অতীত ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে তরুণ প্রজন্মকে পরিবর্তনের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। ভোট বাংলায় লোকভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ষাটের দশকে দেশের মোট জিডিপির ১০ শতাংশের বেশি অবদান ছিল বাংলার। শিল্প, সংস্কৃতি ও বৌদ্ধিক পরিমণ্ডলে অগ্রণী এই রাজ্য আজ অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। আশির দশকে যেখানে মাত্র চারটি রাজ্যের আয় বাংলার চেয়ে বেশি ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫-তে। জাতীয় পুঁজিতে বাংলার অংশীদারিত্ব ১০.৬ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ৫ শতাংশে নেমে এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও জাতীয় গড়ের তুলনায় পিছিয়ে থাকার কথাও তুলে ধরেন রাজ্যপাল।

রাজ্যপালকে  বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী
এর কয়েক ঘন্টা পরেই উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর কোর্ট ময়দানের জনসভা থেকে নাম না করে রাজ্যপাল আর এন রবিকে  কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, বাংলার ‘লাটসাহেব’ উৎসবের দিনে শুভেচ্ছা জানানোর বদলে তাঁকে গালি দিচ্ছেন। মমতা বলেন, 'বাংলার লাটসাহেব, যিনি সবচেয়ে বড় বাড়িতে থাকেন, আজ বিবৃতি দিয়েছেন। আজ নববর্ষ, মানুষকে শুভেচ্ছা জানানোর বদলে আমাকে আক্রমণ করেছেন।' একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের দিকেও আঙুল তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের হাতে এখন আইনশৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণ নেই। তাঁর যুক্তি, ভোটের সময় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এখন নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের হাতে রয়েছে, তাই কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির দায়ভারও তাদেরই নিতে হবে। রাজ্যপালের এই ধরনের সক্রিয়তা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে যায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

Advertisement

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে—তবে কি মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় সরাসরি রাজ্যপাল? যদিও দু’পক্ষের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্য সংঘাত তেমন দেখা যায়নি। গত ১৩ মার্চ দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে ২১ মার্চ সাক্ষাৎও হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর।  এ অবস্থায় নবান্ন এবং লোক ভবনের সমীকরণ আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে কৌতূহল দানা বাঁধতে শুরু করেছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বাংলা রাজ্য-রাজ্যপালের সংঘাতের সাক্ষী হয়েছে আগেই। জগদীপ ধনখড়ের সময় নবান্ন ও রাজভবনের সম্পর্ক মোটেও ভালো ছিল না। এরপর সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গেও সংঘাত হয়েছে যথেষ্ট। যদিও তাঁর ইস্তফার সময় বোসের পাশে দাঁড়িয়ে সরব হন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

POST A COMMENT
Advertisement