পারিশ্রমিক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত রাজ্যের ভোকেশনাল শিক্ষক ও SACT (কলেজের শিক্ষক) টিচারদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। তাঁদের প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে বাড়ানো হল। আজ বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এই কথা জানান অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। গত সোমবার রাজ্য বাজেট পেশের সময় আশা-অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিল শুভেন্দু অধিকারী সরকার। রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীদের জন্য ডিএ ঘোষণা করা হলেও পারিশ্রমিক বৃদ্ধি করা হয়েছিল না ভোকেশনাল শিক্ষক ও SACT টিচারদের। তবে এবার তাঁদের জন্যও খুশির খবর শোনালেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বিধানসভায় আজ সেই প্রসঙ্গে বলেন, 'অনেকের হয়তো বেতনটা বাড়াতে পারা যায়নি। আমি বলছি না, তাঁদের দাবি অনায্য। তাঁদের দাবি ন্যায়সঙ্গত। তবে পরবর্তী বাজেটে সহানুভূতির সঙ্গে দেখা হবে। অনেকের দাবি মেনে SACT দের মাসিক বেতন ২ হাজার টাকা বাড়ানো হল। ভোকেশনাল শিক্ষকদেরও পারিশ্রমিক ২ হাজার টাকা বৃদ্ধি করলাম।'
কেন ডিএ একসঙ্গে ২০ শতাংশ বাড়ালেন তারও জবাব দেন স্বপন দাশগুপ্ত। বলেন, 'আমরা ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিলাম সরকারি কর্মীদের মনে ক্ষোভ আছে। তাঁদের অনেক ডিএ বাকি। তাঁরা বুঝতে পারছিলেন না কোথায় যাবেন, কোথায় গেলে সুরাহা হবে। অভিভাবকদের মনেও ক্ষোভ ছিল। যে শিক্ষকরা পড়াচ্ছেন তাঁরা আসল না নকল-সেটা নিয়েও ধোঁয়াশায় ছিলেন। এভাবে একটা রাজ্য চলতে পারে না। সেজন্য এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা দাবি করছি, সরকারি কর্মীরা আমাদের সঙ্গে থাকবেন।'
অন্নপূর্ণা যোজনা ও আগের সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যে সম্পূর্ণ আলাদা প্রকল্প এবং উদ্দেশ্যও আলাদা, সেটাও পরিষ্কার করে দেন অর্থমন্ত্রী। বলেন, 'অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে আমাদের আলাদা ফিলোজফি রয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ছিল সবার জন্য। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার হল প্রয়োজনের। যাঁদের দরকার সবথেকে বেশি, তাঁরাই পাবেন। এটাই মাপকাঠি।'
রাজ্যের উন্নতি ও বিকাশ এই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য বলেও দাবি করেন তিনি। জানান, তাঁদের উদ্দেশ্য কলকাতাকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। সেজন্যই এমন বাজেট করেছেন। তাঁর কথায়, 'এই শহরটাকে বৃদ্ধদের শহর বলে মনে করছিলেন অনেকে। বাইরে, অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছিলেন। সেই জন্য আমরা নতুন আশা সঞ্চার করার চেষ্টা করেছি। অনেকে বলছেন, বেশি বরাদ্দ করতে পারতেন। তবে এই বাজেটে দিশা দেখানোর চেষ্টা করেছি মাত্র। সব আবেদন একটা বাজেটে পূরণ করা যাবে না। আমরা সারা দেশকে দেখাতে চাই, পশ্চিমবঙ্গ ফের জেগে উঠেছে।'