Antisocial Activities Act 2026: বাংলায় লাগু গুন্ডাদমন আইন, কারা গুন্ডা? শায়েস্তা করতে পুলিশের হাতে কত ক্ষমতা দেওয়া হল?

সোমবার থেকে কার্যকর হয়ে গেল ‘গুন্ডাদমন আইন’। এই আইনের আওতায় পুলিশকে কী কী বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হল? গুন্ডা হিসেবে বিবেচিত হবেন কারা? তাদের বিরুদ্ধে কী কী কড়া পদক্ষেপ করা হবে?

Advertisement
বাংলায় লাগু গুন্ডাদমন আইন, কারা গুন্ডা? শায়েস্তা করতে পুলিশের হাতে কত ক্ষমতা দেওয়া হল?গুন্ডাদমন আইন ২০২৬
হাইলাইটস
  • ‘গুন্ডাদমন আইন’-এ পুলিশের কী কী বিশেষ ক্ষমতা?
  • গুন্ডা হিসেবে বিবেচিত হবেন কারা?
  • তাদের বিরুদ্ধে কী কী কড়া পদক্ষেপ করা হবে?

পশ্চিমবঙ্গে সোমবার থেকে কার্যকর হয়ে গেল ‘গুন্ডাদমন আইন’। যার পোশাকি নাম ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ় অ্যাক্ট, ২০২৬’। শুক্রবার বারুইপুরে গিয়ে সেই আইন কার্যকর করার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও মজবুত করতে এবং অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চার করতেই এই কড়া আইনি পদক্ষেপ। এই আইন বলবৎ হওয়ার পর পুলিশের হাতে কী কী ক্ষমতা থাকবে? 

অপরাধদমনে প্রশাসনকে বেশ কিছু ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছে-
১) বিনা বিচারে ১ বছর পর্যন্ত আটক ও এলাকাছাড়া করার ক্ষমতা
২) ‘প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন’ অর্থাৎ আটক করে রাখার ক্ষমতা
৩) প্রশাসন যদি মনে করে, কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি জননিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন কিংবা কোনও বড়সড় সমাজবিরোধী অপরাধের চক্রান্ত করছেন, তবে অপরাধ ঘটানোর আগেই তাঁকে বিনা বিচারে সর্বোচ্চ ১২ মাস অর্থাৎ ১ বছর পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে
৪) জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা
৫) সমাজবিরোধী কার্যকলাপের পরিধি বাড়ল
৬) ভাঙচুর রুখতে 'ক্লেম কমিশন' ক্ষতিপূরণ নেওয়ার ক্ষমতা
৭) অপরাধীদের এলাকাছাড়া করার ক্ষমতা 
৮) আইনের অপব্যবহার রুখতে নজরদারির জন্য 'অ্যাডভাইসরি বোর্ড' বা উপদেষ্টামণ্ডলী থাকবে
৯) জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার বা ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিকেরা যদি নিশ্চিত হন যে, কোনও দাগী অপরাধী বা গুন্ডা নির্দিষ্ট এলাকায় থাকলে অশান্তি ছড়াতে পারে, তবে সেই অপরাধীকে অনধিক এক বছরের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা বা সমগ্র জেলা থেকে ‘বহিষ্কার’-এর নির্দেশ দিতে পারবেন
১০) সিন্ডিকেটের মতো সংগঠিত অপরাধের মাধ্যমে যদি কোনও সম্পত্তি বা টাকা উপার্জনের চেষ্টা করা হয়ে থাকে,  তবে সেই সম্পত্তি সরাসরি বাজেয়াপ্ত করার আইনি অধিকারও দেওয়া হয়েছে

'গুন্ডা' কারা?
সিন্ডিকেটরাজ, তোলাবাজি এবং গায়ের জোরে সাধারণ মানুষের জমি বা বাড়ি দখল করা, বেআইনি ভাবে নদী থেকে বালি তোলা, অবৈধ খনি কারবারকে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে গণ্য করা হবে।

Advertisement

সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা দেওয়াও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ। 

সাইবার অপরাধ এবং বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতিকেও এই আওতায় আনা হয়েছে।

 ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’
আন্দোলন বা ক্ষোভ-বিক্ষোভের নামে সরকারি এবং বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, ট্রেন-বাস পোড়ানো, সরকারি ভবনে ভাঙচুর বা পুলিশের উপর হামলার ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর হচ্ছে এই আইন। এর অধীনে একটি বিশেষ ‘ক্লেম কমিশন’ গঠন করা হবে। কোনও দাঙ্গা, বিক্ষোভ বা হিংসাত্মক আন্দোলনের জেরে যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হবে, তার সম্পূর্ণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ চিহ্নিত অভিযুক্তদের থেকে উশুল করবে এই কমিশন।

 

POST A COMMENT
Advertisement