পার্থ-অর্পিতার বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ ইডির। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির ৫৮ দিনের মাথায় চার্জশিট পেশ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সোমবার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে পেশ করা হল চার্জশিট। এই চার্জশিটে ইডি জানাল, পার্থ-অর্পিতার ১০৩ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ২টি ট্রাঙ্ক ভর্তি করে ব্যাঙ্কশাল আদালতে চার্জশিট নিয়ে যাওয়া হয়।
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ এবং অর্পিতার নামে কোটি কোটি টাকার নামে-বেনামে সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে বলে আদালতে আগেই জানিয়েছিল ইডি। এবার তারা চার্জশিটে জানাল, ১০৩ কোটির সম্পত্তির হদিস মিলেছে। অর্পিতার জোড়া ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৫০ কোটি নগদ উদ্ধার করেছিলেন তদন্তকারীরা। সেই সঙ্গে মিলেছিল বিদেশি মুদ্রা ও ৫ কোটি টাকার গয়না। গত ২৩ জুলাই গ্রেফতার করা হয় পার্থ ও অর্পিতাকে। তার ৫৮ দিনের মাথায় চার্জশিট পেশ করল কেন্দ্রীয় সংস্থা।
এ দিন মোট ১৭২ পাতার চার্জশিট পেশ করেছে ইডি। ট্রাঙ্কে ভরে ব্যাঙ্কশাল আদালতে নথি নিয়ে যাওয়া হয়। চার্জশিটে নাম রয়েছে পার্থ ও অর্পিতা-সহ আরও বিভিন্ন 'ভুয়ো' সংস্থার ডিরেক্টরদের। ১০৩ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৪০ টি অস্থাবর সম্পত্তি। সেই সঙ্গে ৩৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮ কোটির হদিস মিলেছে বলে দাবি ইডির। এই চার্জশিটে, নিয়োগ দুর্নীতিতে পার্থ-অর্পিতার প্রত্যক্ষ যোগ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্যাদি দেওয়া হয়েছে।
গত ২২ জুলাই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থর নাকতলার বাড়িতে অভিযান চালায় ইডি। ওই দিনই ইডির আর একটি দল তল্লাশি চালায় তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের টালিগঞ্জের ফ্ল্যাটে। ২৩ জুলাই গ্রেফতার করা হয়েছিল পার্থ ও অর্পিতাকে। অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে নগদ প্রায় ২২ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটেও খোঁজ মেলে প্রায় ২৮ কোটি টাকা। প্রায় ৫০ কোটি নগদ টাকা উদ্ধার করে ইডি। সেই সঙ্গে ৫ কোটির সোনা ও বিদেশি মুদ্রা।
আরও পড়ুন- এবার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার সুবীরেশ ভট্টাচার্য