মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।।West Bengal Storm Update: শুক্রবার দুপুরের পর থেকে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি। কার্যত বিপর্যস্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা। কলকাতা, বিধাননগর-সহ বিভিন্ন জায়গায় গাছ পড়ে রাস্তা অবরুদ্ধ। কোথাও ভেঙে পড়েছে বাড়ি। বজ্রপাত এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানান, ঝড়-বৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কলকাতা ও বিধাননগর কর্পোরেশন, পুলিশ প্রশাসন এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পুরুলিয়ায় বড় আকারে ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে বলে জানান। বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। কলকাতাতেও একাধিক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়ে। বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন বলে খবর।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'এই ঝড়ে এবং বিভিন্ন কারণে, ইলেকট্রিক শক আছে, বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনাও রয়েছে। ৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন।' একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারের তরফে আহতদের প্রয়োজনীয় সাহায্য করা হবে।
শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই আবহাওয়ার আচমকা পরিবর্তনে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে শহর কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকা। কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। শুরু হয় প্রবল ঝড় ও বৃষ্টি। বহু জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিভিন্ন রাস্তায় জল জমে যানজটেরও সৃষ্টি হয়। ট্রাফিক স্বাভাবিক করতে পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কলকাতা শহরের পুরনো এবং বড় গাছগুলি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, পরিবেশবিদদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কীভাবে শহরের গাছগুলি সংরক্ষণ করা যায়, তা নিয়ে মুখ্যসচিব এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে কথা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর সূত্রে খবর, ঝড়ের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দ্রুত স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হয়েছে। রাস্তা থেকে গাছ সরানো, বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার কাজ চলছে।