স্বাস্থ্য ভবনের কড়া নির্দেশিকা সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে তামাকমুক্ত করতে কড়া নির্দেশিকা জারি করল স্বাস্থ্য ভবন। একইসঙ্গে কোনও সরকারি হাসপাতাল চত্বরে যাতে যত্রতত্র থুতু না ফেলা হয়, সে বিষয়েও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন। নির্দেশিকা অমান্য করলেই মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনতে হবে।
হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং স্বাস্থ্য দফতরের অধীনস্থ সরকারি প্রতিষ্ঠানে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার ও যত্রতত্র থুতু ফেলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে ১০ দফা নির্দেশিকা জারি করেছে স্বাস্থ্য ভবন। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালে রাজ্যে বহাল থাকা নির্দেশিকা পুনরায় কার্যকর করা হবে। একইসঙ্গে নির্দেশিকাগুলির আরও কঠোর বাস্তবায়নেও নজর দেওয়া হবে। রাজ্যের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, ডিরেক্টর এবং মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের নির্দেশিকা সঠিক ভাবে মানা না হওয়ায় এই কড়া বিজ্ঞপ্তি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
১০ দফা নির্দেশিকা কী কী?
> রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্র হবে টোবাকো ফ্রি এবং স্পিটিং ফ্রি চত্বর। অর্থাৎ যত্রপত্র থুতু ফেলা এবং তামাক সেবন করা যাবে না।
> প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একজন করে টোবাকো ফ্রি ও স্পিটিং ফ্রি নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হবে। তাঁরপ নাম ও যোগাযোগের নম্বর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান চত্বরে দৃশ্যমান ভাবে প্রদর্শিত হবে।
> হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ধূমপান, যে কোনও ধরনের তামাক সেবন এবং থুতু ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। নিয়মিত পরিদর্শন ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন অমান্য হলে মোটা টাকা জরিমানা করা হবে।
> হাসপাতালের প্রবেশদ্বার, OPD, করিডর, শৌচাগার, লিফট, ক্যান্টিন, সিঁড়ির প্রতিটি ল্যান্ডিংয়ে টোবাকো ফ্রি/নো স্মোকিং জোন/নো স্পিটিং জোন সাইনবোর্ড থাকবে।
> হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান চত্বরে তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রি, মজুত, প্রদর্শন বা প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
> হাসপাতালের ক্যান্টিন, কিয়স্ক, দোকান, ভেন্ডর, ঠিকাদার ও অন্যান্য সংস্থাকেও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি বা প্রচার না করার জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া থাকবে।
> জেলা টোবাকো কন্ট্রোল সেলের মাধ্যমে নিয়মিত এনফোর্সমেন্ট ড্রাইভ চালাতে হবে। কোথায় নিয়ম ভাঙা হয়েছে, কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কত টাকা জরিমানা আদায় হয়েছে, তা রেকর্ড রাখতে হবে ওই সেলকে।
> স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে কি না তা নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে। জেলা স্তরে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন সংশ্লিষ্ট CMOH।
> তামাক ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনে টোবাকো সিসেশন কাউন্সেলিং এবং টোবাকো সিসেশন সেন্টারে রেফার করার ব্যবস্থা করতে হবে।
> যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান বারবার নিয়ম লঙ্ঘন করবে, তাদের বিশেষ নজরদারির আওতায় এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করতে হবে। আইন ভাঙলে জরিমানা করা হবে।
কত টাকা জরিমানা করা হবে?
The West Bengal Prohibition of Smoking and Spitting and Protection of Health of Non-Smokers and Minors Act, 2001-এর কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আইনের ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান চত্বরে থুতু ফেলাও নিষিদ্ধ। এছাড়াও ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ৫ ও ৬ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করলে যথাক্রমে সর্বোচ্চ ১ হাজার এবং ২ হাজার থেকে ৫ হাজার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
Cigarettes and Other Tobacco Products Act, 2003 (COTPA) অনুযায়ী, হাসপাতাল, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস ও কর্মস্থলের মতো জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গায় ধূমপান নিষিদ্ধ। নিয়ম লঙ্ঘন করলে ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। COTPA-র Section ৬(a) ধারা অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সীদের তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ। ৬(b) ধারা অনুযায়ী, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ১০০ গজের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ। আইন ভাঙলে তামাকজাত দ্রব্য বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি জরিমানাও করা হবে।
এই নির্দেশ সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল, স্টেট জেনারেল হাসপাতাল, গ্রামীণ হাসপাতাল, ব্লক স্তরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং অন্যান্য সরকারি স্বাস্থ্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর করতে বলেছে স্বাস্থ্য ভবন।