West Bengal-এর নাম বদলাতে আসছে বিল, নতুন নাম কী হবে?অবশেষে নাম বদল হতে চলেছে West Bengal-এর। গত সরকারের আমল থেকেই রাজ্যের নাম বদল নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তৃণমূল জমানায় নাম বদল সম্ভব হয়নি। এবার শুভেন্দু অধিকারীর আমলে নাম বদল হবে রাজ্যের। সোমবার এই কথা জানিয়েছেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য।
নতুন নাম কী হবে?
এরাজ্যের নাম বর্তমানে ইংরাজিতে রয়েছে West Bengal এবং বাংলায় পশ্চিমবঙ্গ। সোমবার রাজ্যের বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে 'Paschim Banga' করার জন্য রাজ্য সরকার শীঘ্রই বিধানসভায় একটি বিল আনবে।
অর্থাৎ বাংলায় রাজ্যের নাম পশ্চিমবঙ্গই থাকবে। শুধুমাত্র ইংরাজিতে West Bengal এর নাম বদলে হবে 'Paschim Banga'।
বারাণসীতে ‘পশ্চিমবঙ্গ ভবন’ নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে একটি প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, রাজ্যের নাম 'Paschim Banga' রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজেপি নেতা বলেন, “আপনাদের আর বাংলা বা ওয়েস্ট বেঙ্গলের মতো নাম উচ্চারণ করতে হবে না। কারণ রাজ্য সরকার খুব শীঘ্রই, সম্ভবত বিধানসভার এই অধিবেশনেই, আমাদের রাজ্যের নাম পশ্চিমবঙ্গ করার জন্য একটি বিল আনবে। এর মাধ্যমে রাজ্যের ইতিহাসকে সামনে রাখা হবে।”
তিনি জানান, রাজ্যের সংস্কৃতি ও পর্যটন দফতর, কেন্দ্র এবং কোচবিহারের রাজপরিবারের বংশধররা মিলে বারাণসীতে ‘পশ্চিমবঙ্গ ভবন’ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছেন। এটি একদিকে রাজ্যের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে, অন্যদিকে বাংলার পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের থাকার ব্যবস্থাও থাকবে।
শমীক বলেন, "বারাণসীর সঙ্গে বাংলার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে, রয়েছে আধ্যাত্মিক যোগসূত্রও। সেখানে এক বাঙালির উদ্যোগে প্রথম মহিলা কলেজ তৈরি হয়েছিল এবং বাঙালি পড়ুয়াদের জন্য ওই শহরে একাধিক স্কুল রয়েছে। সেখানে বাঙালি জনসংখ্যারও সংখ্যাও যথেষ্ট। কোচবিহারের রাজপরিবার ১৮৩৬ সালে বেনারস কালী বাড়ির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল এবং এক দশক পর সেখানে জোড়া মন্দির তৈরি করেছিল।"
রাজ্যের নাম বদলের চেষ্টা আগেও হয়েছিল
পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের চেষ্টা অবশ্য নতুন নয়। ১৯৯৯ সালে জ্যোতি বসুর নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ করার প্রস্তাব দিয়ে বিধানসভায় একটি প্রস্তাব পাশ করেছিল। এর আগে রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ করা হবে, নাকি অন্য কোনও নাম রাখা হবে, তা নিয়ে বিতর্কও হয়। কিন্তু রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং কেন্দ্রের অনুমোদন না পাওয়ায় সেই প্রক্রিয়া সফল হয়নি।
২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর ফের বিষয়টি সামনে আসে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার প্রথমে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামের প্রস্তাব দেয়। সরকারের যুক্তি ছিল, রাজ্যগুলির নামের ইংরেজি বর্ণানুক্রমিক তালিকায় West Bengal নিচের দিকে থাকায় জাতীয় স্তরের বৈঠকে রাজ্যের প্রতিনিধিদের কথা বলার জন্য প্রায়ই অপেক্ষা করতে হয়। এর ফলে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে অসুবিধা তৈরি হয় বলেও দাবি করা হয়েছিল।
২০১১ সালে সর্বদলীয় বৈঠকে এই প্রস্তাব সমর্থন পেলেও কেন্দ্র তা অনুমোদন করেনি। ২০১৬ সালে রাজ্য সরকার ফের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। তখন বাংলায় ‘বাংলা’, ইংরেজিতে ‘বেঙ্গল’ এবং হিন্দিতে ‘বাঙ্গাল’—এই তিনটি নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে বিধানসভা সর্বসম্মতভাবে ‘বাংলা’কে রাজ্যের একমাত্র নাম করার প্রস্তাব পাশ করে। কেন্দ্র ফের তা অনুমোদন করেনি। কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছিল, এর জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন। পাশাপাশি রাজ্যের একাংশ বিজেপি নেতার আপত্তিও ছিল, কারণ ‘বাংলা’ নামটির সঙ্গে বাংলাদেশের নামের মিল রয়েছে।