Puja Parikrama 2026 Details: সপ্তমী থেকে শুরু পরিবহণ দফতরের পুজো পরিক্রমা, কীভাবে টিকিট বুক করবেন? থাকল ভাড়া সহ সব তথ্য

শরতের আকাশে শিউলির গন্ধ। কাশফুলে সেজে উঠছে মাঠ-ঘাট। হাটে-বাজারে কেনাকাটার ঢল। হাতে আর মাত্র কয়েকদিন। তারপরই বাঙালি মাতবে বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসবে। আর দুর্গা পুজোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে উতসবপ্রিয় বাঙালির জন্য বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পুজোয় কীভাবে ঘুরবেন, কোন কোন প্যান্ডেলের ঠাকুর দেখবেন, আর আলাদা করে এসব ভাবার প্রয়োজন নেই। কারণ এ রাজ্যের পরিবহণ দফতর পুজো পরিক্রমা নিয়ে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছে। এই পরিকল্পনাসূচিতে রয়েছে কলকাতা ও শহরতলীর বিখ্যাত পুজোগুলি ঘুরে দেখার নানা সুযোগ।

Advertisement
সপ্তমী থেকে শুরু পরিবহণ দফতরের পুজো পরিক্রমা, কীভাবে টিকিট বুক করবেন? থাকল ভাড়া সহ সব তথ্যআকর্ষণীয় সুযোগ দিচ্ছে পরিবহণ দফতর

শরতের আকাশে শিউলির গন্ধ। কাশফুলে সেজে উঠছে মাঠ-ঘাট। হাটে-বাজারে কেনাকাটার ঢল। হাতে আর মাত্র কয়েকদিন। তারপরই বাঙালি মাতবে বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসবে। আর দুর্গা পুজোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে উতসবপ্রিয় বাঙালির জন্য বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পুজোয় কীভাবে ঘুরবেন, কোন কোন প্যান্ডেলের ঠাকুর দেখবেন, আর আলাদা করে এসব ভাবার প্রয়োজন নেই। কারণ এ রাজ্যের পরিবহণ দফতর পুজো পরিক্রমা নিয়ে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছে।  এই পরিকল্পনাসূচিতে রয়েছে কলকাতা ও শহরতলীর বিখ্যাত পুজোগুলি ঘুরে দেখার নানা সুযোগ।

কলকাতার পাশাপাশি শহরতলি থেকে বাসে কলকাতার বিখ্যাত বারোয়ারি পূজামণ্ডপগুলি ঘুরে দেখানোর বন্দোবস্তও করা হয়েছে।  একডালিয়া, বাগবাজার, সিংহী পার্ক, মুদিয়ালী, শিবমন্দিরের মতো মণ্ডপগুলি ঘুরে দেখানো হবে। এছাড়াও জলপথে উত্তর কলকাতার বিখ্যাত পুজোগুলি ঘুরে দেখার ব্যবস্থা থাকছে।  জলপথে দেখানো হবে আহিরীটোলা, শোভাবাজার রাজবাড়ী, কুমোরটুলি পার্ক, বলরাম মন্দির ও মায়ের বাড়ি দেখার সুযোগ।  বনেদি বাড়ির পুজো থেকে বাস ও ট্রামে পুজো পরিক্রমা— কলকাতা ও নিকটবর্তী জেলার বাসিন্দাদের জন্য দারুণ সুযোগ করে দিচ্ছে রাজ্যের পরিবহণ দফতর। ইতিমধ্যেই পুজো পরিক্রমার সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। দেখে নেওয়া যাক বিস্তারিত।

বনেদি বাড়ির পুজো
সপ্তমী (১৭ ও ১৮ অক্টোবর), অষ্টমী (১৯ অক্টোবর), নবমী (২০ অক্টোবর) পরিক্রমা হবে। এসপ্ল্যানেড বাস স্ট্যান্ড থেকে যাত্রা শুরু হবে। সকাল ৮টায় বাস ছাড়বে। তবে পর্যটকদের জন্য রিপোর্টিং টাইম সকাল সাড়ে সাতটা। ঘুরবেন, বদনচন্দ্র রায় বাড়ি, বাগবাজার হালদার বাড়ি, শোভাবাজার রাজবাড়ি ১ ও ২, ছাতুবাবু ও লাটুবাবুর বাড়ি (অষ্টমী বাদ রাখা হচ্ছে), রানি রাসমণির বাড়ি, বেহালা রায় বাড়ি, বেহালা সোনার দুর্গা বাড়ি, সাবর্ণ রায় চৌধুরীর বাড়ির পুজো এবং সাবর্ণ রায় চৌধুরীর মেজো বাড়ির পুজো।
জনপ্রতি ভাড়া ২,৪০০ টাকা। ৫-১০ বছরের শিশুদের ভাড়া ১৮৫০ টাকা। ০-৫ বছরের শিশুদের কোনও ভাড়া লাগবে না (আসন সংরক্ষণ করা যাবে না)। দর্শনার্থীদের সচিত্র পরিচয় পত্র বহন করতে হবে।

Advertisement

কলকাতার বনেদি বাড়ি
 সপ্তমী (১৭ ও ১৮ অক্টোবর), ও নবমী (২০ অক্টোবর) পরিক্রমা হবে। বারাসত কলোনি মোড় থেকে যাত্রা শুরু হবে। সকাল ৮টায় বাস ছাড়বে। তবে পর্যটকদের জন্য রিপোর্টিং টাইম সকাল সাড়ে সাতটা। ঘুরবেন মানিকতলার ঘোষ পরিবারের পুজো, মানিকতলার সাহা পরিবার, কুমারটুলি সেন পরিবার, শোভাবাজার রাজা রাজকৃষ্ণ দেবের দুগাপুজো, শোভাবাজার বড় রাজবাড়ি, চোরবাগান চট্টোপাধ্যায় বাড়ির দুর্গাপুজো, চোরবাগান মিত্র পরিবারের পুজো, চোরবাগান শীল বাড়ির দুর্গাপুজো, জোড়াসাঁকো শিবকৃষ্ণ দাঁ বাড়ির দুর্গাপুজো, জানবাজার চৌধুরী বাড়ির দুর্গাপুজো, রানি রাসমণি বাড়ির দুর্গাপুজো, ঠনঠনিয়া দত্ত বাড়ির দুর্গাপুজো, লাহা বাড়ির দুর্গাপুজো। এই পরিক্রমার জন্য জনপ্রতি খরচ ২৫০০ টাকা। ৫-১০ বছরের শিশুদের ভাড়া ১৯০০ টাকা। ০-৫ বছরের শিশুদের কোনও ভাড়া লাগবে না (আসন সংরক্ষণ করা যাবে না)। দর্শনার্থীদের সচিত্র পরিচয় পত্র বহন করতে হবে।

বিলাসবহুল বাস
সপ্তমী (১৭ ও ১৮ অক্টোবর), ও নবমী (২০ অক্টোবর) পরিক্রমা হবে। বাস ছাড়বে এসপ্ল্যানেড ও বারাসত থেকে সকাল ৯টায় বিশেষ বাস থাকছে। পরিক্রমা হবে একডালিয়া, সিংহী পার্ক, বাদামতলা আষাঢ় সঙ্ঘ, মুদিয়ালি, শিবমন্দির, মহম্মদ আলি পার্ক, কলেজ স্কোয়ার, বাগবাজার সর্বজনীন, বাগবাজার পল্লির পুজো ৫ বছর বা তার ঊর্ধ্বে জনপ্রতি ভাড়া বারাসত থেকে ২৫০০ টাকা এবং এসপ্ল্যানেড থেকে ২৪০০ টাকা। স্ন্যাক্স, চা-কফি ও লাঞ্চের ব্যবস্থা থাকবে।


জলপথে পুজো পরিক্রমা
সপ্তমী (১৭ ও ১৮ অক্টোবর), ও নবমী (২০ অক্টোবর) পরিক্রমা হবে।  হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন সিটিসি টার্মিনাস, টালিগঞ্জ ট্রাম ডিপো, ডানলপ মোড় থেকে বাস ছাড়বে সকাল ৯.১৫ মিনিটে। ব্যারাকপুর থেকে বাস ছাড়বে সকাল ৮টায়। নির্ধারিত রুটে শহরের বিখ্যাত বারোয়ারি পুজোগুলি দেখতে পাবেন। একই জায়গায় বাস ফিরে আসবে। হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন সিটিসি টার্মিনাস, টালিগঞ্জ ট্রাম ডিপো থেকে বাসভাড়া জনপ্রতি ১০০০ টাকা, ডানলপ মোড়, ব্যারাকপুর থেকে বাসভাড়া ১১০০ টাকা (৫ বছর ও ঊর্ধ্বে)।

এসি ট্রামে পুজো পরিক্রমা
সপ্তমী (১৭ ও ১৮ অক্টোবর), ও নবমী (২০ অক্টোবর) পরিক্রমা হবে। সকাল ১০টায় বাস ছাড়বে। পরিক্রমা করাবে কাশিবোস লেন, হাতিবাগান সর্বজনীন, নলিনী সরকার স্ট্রিট, একডালিয়া, সিংহী পার্কে। জনপ্রতি ৮০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হবে। (৫ বছর ও তার ঊর্ধ্বে)

জলপথে পুজো পরিক্রমা
সপ্তমী (১৭ ও ১৮ অক্টোবর), অষ্টমী (১৯ অক্টোবর), নবমী (২০ অক্টোবর) পরিক্রমা হবে। মিলেনিয়াম পার্ক থেকে লঞ্চ ছাড়বে (১১টায় লঞ্চ ছাড়বে)। লঞ্চটি হাওড়া জেটি ঘুরে পৌঁছবে আহিরীটোলা ঘাট। সেখান থেকে এসি বাসে পুজো পরিক্রমা হবে।  দেখান হবে আহিরীটোলা ঘাট সংলঙ্গ পুজোগুলি, শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজো, কুমারটুলি পার্ক ও সর্বজনীন জগৎ মুখার্জি পার্কের পুজো। সেখান থেকে বলরাম মন্দির ও শ্রীশ্রী মায়ের বাড়ি। শেষে বাগবাজার সর্বজনীন পুজো। সেখান থেকে বাগবাজার স্টিমার ঘাট থেকে লঞ্চে হাওড়া জেটিঘাট ঘিরে মিলেনিয়াম পার্কে পৌঁছতে পারবেন। এই পরিক্রমার ভাড়া জনপ্রতি ৮০০ টাকা (৫ বছর ও তার ঊর্ধ্বে)।

জয়রামবাটি ও কামারপুকুরের পুজো
অষ্টমী (১৯ অক্টোবর), এসপ্ল্যানেড থেকে ভোর ৫টায় সিএনজি বাস ছাড়বে। বারাসত থেকে ভোর ৪.১৫ বাস ছাড়বে। তবে বাসটিতে এসপ্ল্যানেড ট্রাম অফিস, বাগবাজার বাটা ও ডানলপ মোড় থেকে ওঠা যাবে।
জয়রামবাটিতে পুজো দর্শনদের পরে কামারপুকুরে পুজো দর্শন হবে। এসপ্ল্যানেড থেকে ভাড়া ১৫০০ টাকা। বারাসত থেকে ভাড়া ১৭০০ টাকা। (৫ বছর ও তার ঊর্ধ্বে)।

 টিকিট বুকিং করবেন যেভাবে
এসপ্ল্যানেড ট্রাম ডিপো, কাঁকুড়গাছি S-3B বাস স্ট্যান্ড, যাদবপুর ৮বি বাস টার্মিনাস, গড়িয়া ৬নং বাস টার্মিনাস, বেহালা ১৪ নম্বর বাস টার্মিনাস, টালিগঞ্জ ট্রাম ডিপো (CTC অফিস), বারাসত কলোনি মোড় (CTC বুকিং কাউন্টার), বারাসত তিতুমীর 9 নম্বর বাসস্ট্যান্ড, এছাড়াও পরিবহণ ভবন (১১ আর এন মুখার্জি রোড, কলকাতা- ৭০০০০১ এবং ৪৫ গণেশ চন্দ্র এভিনিউ, গ্রাউন্ড ফ্লোর, কলকাতা-৭০০০১৩) অফিস থেকে টিকিট পাওয়া যাবে। বুকিং সংক্রান্ত কোনও অসুবিধা থাকলে যোগাযোগ করতে পারেন  9830177000 নম্বরে।  অন্যান্য যোগাযোগ নম্বর: 033 2213- 1212/13/14/25 এবং 8697733391। বিশেষ পরিষেবার রুট, সময়সূচি এবং অনলাইন বুকিং সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে WBTC-র ওয়েবসাইটে— WBTC Online Booking-এ।

Advertisement

পুজো পরিক্রমায় শুধু ঠাকুর দেখাই নয়, দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে খাবারের ব্যবস্থাও। জলখাবার, পুরনো দিনের হারিয়ে যাওয়া বাঙালি খাবার দিয়ে মধ্যাহ্নভোজ, চা এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকবে। প্রত্যেক দর্শনার্থীর সঙ্গে সচিত্র পরিচয়পত্র রাখা বাধ্যতামূলক। প্রতিটি বাসে থাকবেন একজন করে যাত্রী সহায়ক। পাশাপাশি রাখা হচ্ছে বিশেষ চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থাও।

POST A COMMENT
Advertisement