কালবৈশাখীর পূর্বাভাসদক্ষিণবঙ্গজুড়ে তাপপ্রবাহ ও গরম-আর্দ্র আবহাওয়ার মধ্যেই ধীরে ধীরে বাড়ছে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা। IMD-এর প্রকাশিত বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে রাজ্যের আবহাওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। একদিকে যেমন ২৩ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় তাপপ্রবাহ ও অস্বস্তিকর গরম বজায় থাকবে, অন্যদিকে ২৫ এপ্রিলের পর থেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়-বৃষ্টির প্রকোপ বাড়বে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গজুড়ে একটি ট্রফ লাইনের উপস্থিতির জেরে এই পরিবর্তন হচ্ছে। তার সঙ্গে শুষ্ক পশ্চিমী ও উত্তর-পশ্চিমী বাতাস এবং প্রবল সূর্যতাপ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে তাপপ্রবাহের অনুকূল পরিবেশ। তবে পরবর্তী সময়ে আর্দ্রতার প্রভাবে বৃষ্টি ও ঝড়ের প্রবণতা বাড়বে।
তাপপ্রবাহ
দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও বীরভূমে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৩-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকতে পারে। কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এর ফলে অস্বস্তি বাড়বে।
আবহাওয়া দফতরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে রোদে কাজ করা এড়িয়ে চলা উচিত। পর্যাপ্ত জল পান করা, হালকা সুতির পোশাক পরা এবং মাথা ঢেকে রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাপঘাম, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা হিট ক্র্যাম্পের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কালবৈশাখী
অন্যদিকে, ২৫ এপ্রিল থেকে রাজ্যে কালবৈশাখীর প্রকোপ বাড়তে শুরু করবে। প্রথমে কিছু জেলায় হালকা বজ্রসহ বৃষ্টি হলেও, ২৬ থেকে ২৯ এপ্রিলের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে, সঙ্গে বজ্রপাতের আশঙ্কাও থাকবে।
উত্তরবঙ্গেও একই সময়ে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে এবং কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। ঝড়ের ফলে গাছ পড়ে যাওয়া, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, কাঁচা বাড়ির ক্ষতি এবং কৃষিক্ষেত্রে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঝড়ের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খোলা মাঠ, গাছের নিচে বা বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছে দাঁড়ানো বিপজ্জনক হতে পারে। এছাড়া মৎস্যজীবীদের ২৬ ও ২৭ এপ্রিল সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কারণ উপকূলবর্তী এলাকায় দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।