
দিলীপ ঘোষ ও শুভেন্দু অধিকারী। ফাইল ছবিবিধানসভা নির্বাচনের পরে উপ নির্বাচনেও বিরাট ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি। লক্ষ্য এখন পুর নির্বাচন। ২০১৫ সালে কলকাতা ও হাওড়া পুরনির্বাচনে খুব একটা বেশি সাফল্য পায়নি গেরুয়া শিবির। সম্ভবত ৭টি আসনে কলকাতায় জিতেছিল বিজেপি। পরে সেই সব কাউন্সিলরদের মধ্যে কেউ কেউ আবার দলবদলও করেন। আর মাসখানেক পরেই কলকাতায় পুরনির্বাচন। ১৯ তারিখের নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ইতিমধ্যে ঘর গোছাতে শুরু করেছে বিভিন্ন শিবির। কিন্তু প্রশ্ন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল এখন কতটা প্রস্তূত এই নির্বাচনকে ঘিরে।
সংগঠন তেমন শক্তিশালী নয়
বিগত কয়েকটি নির্বাচনের দিকে যদি নজর রাখা যায়। বিশেষ করে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে নজর রাখলে দেখা যাবে যে রাজ্যের অন্য জায়গায় ফলাফল বাড়লেও, কলকাতায় তেমন সাফল্য পায়নি বিজেপি। রাজনৈতিক মহলে কান পাতলেও শোনা যায়, কলকাতায় বিজেপির সংগঠন তেমন একটা ভালো নয়। একই দশা হাওড়াতেও। ফলে মাসখানেক পরেই নির্বাচনে কী করবে বিজেপি? তবে পুর নির্বাচনের প্রচার শুরু হওয়ার আগেই শাসকদলের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলতে শুরু করে দিয়েছে পদ্ম শিবির।

কী বলছেন দিলীপ ঘোষ
এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, "পুরনির্বাচনে আমরা লড়বই। কলকাতা ও হাওড়ার জন্য আমরা আলাদা টিম তৈরি করেছি। পুরো শক্তি নিয়ে বিজেপি লড়াই করবে। কলকাতার মেয়র পদপ্রার্থী হিসাবে এখনও কাউকে ভাবা হয়নি। পরিস্থিতি অনুযায়ী ভাবা হবে। এর আগে কলকাতা পুরনির্বাচনের ইতিহাস সকলের জানা আছে। তখন যেভাবে ভোট লুঠ হয়েছিল, তা দেখে কতটা সুষ্ঠু ভোট হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে আমাদের। পশ্চিমবঙ্গের অনেক বদনাম হয়েছে এই নিয়ে। বিধানসভা নির্বাচন এবং উপনির্বাচন যেভাবে হয়েছে তাতে গণতন্ত্র ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে। তাই বাঙালির কথা ভেবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। তৃণমূল প্রশাসন ও পুলিশকে বাদ দিয়ে ভোটে জিততে পারবে না। তাই প্রশাসনে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে। এটা গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকারক। আমাদের এই পরিস্থিতির মধ্যে লড়াই করে পরিবর্তন করতে হবে। সেই মানসিকতা নিয়েই আমরা কাজ করছি।"
নজর নির্বাচনে
রাজনৈতিক মহলে মতে, উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় সাংসদ বিধায়ক রয়েছে বিজেপির। কিন্তু দেখা গিয়েছে, সেখানে জেতা পঞ্চায়েতও ধরে রাখতে পারেনি তারা। আর কলকাতা ও হাওড়াতে সাংসদ-বিধায়ক নেই তাদের। ফলে এখানে আরও সতর্ক ভাবেই তাদের লড়াই করতে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। তবে কলকাতা পুরসভার বেশ কিছু এলাকায় এখনও বিজেপি বেশ শক্ত। বিশেষ করে মীনা দেবী পুরোহিত। বিজেপির এই নেত্রী বহু বছর ধরে কাউন্সিলর হয়ে জিতে আসছেন। ইতিমধ্যে পুরনির্বাচনের জন্য কলকাতা ও হাওড়াতে আলাদা কমিটিও গড়েছে পদ্ম শিবির। এখন বিজেপি এই হাইভোল্টেজ পুর নির্বাচনে কতটা দাগ কাটতে পারে সেটা সময়ই বলবে।