কলকাতা পূর্ণাঙ্গ জেলা হলে নাগরিক পরিষেবায় কী কী পরিবর্তন, এক নজরে জেনে নিন

পূর্ণাঙ্গ জেলা ঘোষণার ফলে কলকাতায় একজন জেলাশাসক (ডিএম) নিয়োগ করা হবে। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে উঠবে জেলা প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ পরিকাঠামো। প্রাক্তন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহার মতে, এতে প্রশাসনিক কাজের গতি যেমন বাড়বে, তেমনই নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে। বর্তমানে কলকাতাকে একাধিক প্রশাসনিক ভাগে বিভক্ত করে ভোট পরিচালনা করতে হয়। জেলাশাসক থাকলে সেই দায়িত্ব একক প্রশাসনিক নেতৃত্বের অধীনে আসবে।

Advertisement
কলকাতা পূর্ণাঙ্গ জেলা হলে নাগরিক পরিষেবায় কী কী পরিবর্তন, এক নজরে জেনে নিন
হাইলাইটস
  • রাজ্যের নতুন বাজেটে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হিসেবে কলকাতাকে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
  • এই ঘোষণার পর প্রশাসনিক মহল থেকে সাধারণ নাগরিক, সব স্তরেই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে।

রাজ্যের নতুন বাজেটে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হিসেবে কলকাতাকে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এই ঘোষণার পর প্রশাসনিক মহল থেকে সাধারণ নাগরিক, সব স্তরেই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের প্রকৃত সুফল পেতে হলে প্রয়োজন সুস্পষ্ট রূপরেখা এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন।

বর্তমানে কলকাতাকে অনেক ক্ষেত্রেই জেলা হিসেবে গণ্য করা হলেও, অন্যান্য জেলার মতো পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো এখানে নেই। কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক প্রধান হলেন পুর-কমিশনার, কিন্তু তাঁর হাতে একজন জেলাশাসকের মতো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা নেই। সেই ক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা পুলিশের কমিশনারের হাতে রয়েছে। ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা বিশেষ আইন অনুযায়ী কলকাতা পুলিশ দেশের অন্যান্য পুলিশ কমিশনারেটের তুলনায় আলাদা মর্যাদা ও ক্ষমতা ভোগ করে।

পূর্ণাঙ্গ জেলা ঘোষণার ফলে কলকাতায় একজন জেলাশাসক (ডিএম) নিয়োগ করা হবে। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে উঠবে জেলা প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ পরিকাঠামো। প্রাক্তন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহার মতে, এতে প্রশাসনিক কাজের গতি যেমন বাড়বে, তেমনই নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে। বর্তমানে কলকাতাকে একাধিক প্রশাসনিক ভাগে বিভক্ত করে ভোট পরিচালনা করতে হয়। জেলাশাসক থাকলে সেই দায়িত্ব একক প্রশাসনিক নেতৃত্বের অধীনে আসবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে কলকাতা পুলিশের কমিশনারের কিছু প্রশাসনিক ক্ষমতা জেলাশাসকের হাতে চলে যেতে পারে। বর্তমানে ১৪৪ ধারা জারি করা, অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, পানশালা বা রেস্তোরাঁ সংক্রান্ত বিভিন্ন অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা পুলিশ কমিশনারের হাতে রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ জেলা গঠনের পর এসব ক্ষমতার একটি বড় অংশ জেলাশাসকের অধীনে আসতে পারে।

এছাড়া বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তা নির্বাচন, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করা কিংবা প্রশাসনিক শংসাপত্র সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের কাজও আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে এসব ক্ষেত্রে নাগরিকদের বিভিন্ন দফতরে ঘুরতে হয়। জেলাশাসক থাকলে একক প্রশাসনিক ছাতার তলায় অনেক সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে।

Advertisement

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত কিছু এলাকা বর্তমানে প্রশাসনিকভাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার আওতায় পড়ে। ফলে কর প্রদান, জমির খাজনা, ঠিকানা সংক্রান্ত নথি এবং বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা গ্রহণে নাগরিকদের নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। পূর্ণাঙ্গ জেলা গঠনের ফলে এই ধরনের দীর্ঘদিনের সমস্যারও সমাধান হতে পারে।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, কলকাতাকে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে গড়ে তোলার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে শহরের প্রশাসনিক দক্ষতা ও পরিষেবা প্রদানের মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে সরকার ঠিক কী ধরনের প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করতে চলেছে, তার বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশের দিকেই এখন নজর সকলের।

 

POST A COMMENT
Advertisement