মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক 'ঘাসের উপর জোড়াফুল' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির পাচ্ছে, তা আজ অর্থাত্ বৃহস্পতিবারও ফয়সালা হল না। কমিশন সূত্রের খবর, শুক্রবার বেলা ১১টা পর্যন্ত দুই শিবিরের নথি স্ক্রুটিনি করার সময় নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে প্রতীক নিয়ে কোনও অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত জানাতে পারে কমিশন। আজ দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের প্রতিনিধি ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক ভাবে বৈঠক করেছে কমিশন।
তাৎক্ষণিক প্রশ্নটি শুধু রাজনৈতিকভাবে দলের নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা নয়। নির্বাচন কমিশনকে খতিয়ে দেখতে হবে, স্বীকৃত দলীয় সংগঠন, অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী এবং সংরক্ষিত নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের অধিকার নিয়ে দুই পক্ষের যে দাবি, তার মধ্যে কোনটি বৈধ। কমিশনের বৈঠক সেরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, 'আমরা আমাদের বক্তব্য নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। প্রতীক কে পাবে, তা তো নির্বাচন কমিশন বলতে পারবে। এটা কমিশনের সিদ্ধান্ত। তবে আমরা প্রতীক পাওয়ার বিষয়ে ১০০ শতাংশ আশাবাদী।'
নির্বাচন কমিশন ঠিক কী সিদ্ধান্ত নিতে পারে?
নির্বাচন কমিশন একমাত্র অথরিটি, যারা দুই শিবিরের প্রতীক দ্বন্দ্ব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচনী প্রতীক আইন, ১৯৬৮-র ১৫ নম্বর প্যারাগ্রাফে বলা হয়েছে,যুযুধান শিবিরগুলির মধ্যে কোনও একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে গণ্য হবে কি না, অথবা কোনও পক্ষই সেই স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য নয় কি না, তা নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই বিধান অনুযায়ী, কমিশন প্রাসঙ্গিক তথ্য ও পরিস্থিতি বিবেচনা করতে পারে।
যার নির্যাস, এটি শুধুই প্রতীকের লড়াই নয়, দলের অস্বিত্বের লড়াই সামগ্রিকভাবে। কারণ, কোন শিবির আসল তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে নির্বাচনে লড়াইয়ের স্বীকৃতি পাবে, তা নির্ভর করছে কমিশনের সিদ্ধান্তের উপরে। তখনই তারা একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়ে যাবে।
কেন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ?
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে ভোট ৬ অক্টোবর। তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরই প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, দুই শিবিরের মধ্যে কোন শিবির জোড়াফুল প্রতীকে প্রচার করতে পারবে। ফলে নির্বাচনী প্রতীকের বিষয়টি এখনও নিষ্পত্তি না হওয়ায় উপনির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও দুই গোষ্ঠীকে কীভাবে চিহ্নিত করা হবে, তার উপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
যদি কমিশন এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেয়?
দুই উপনির্বাচনের আগেই কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। কারণ, দুই শিবিরের একাধিক নথি, দাবি, স্বাক্ষর খতিয়ে দেখতে আরও কিছু সময় নিতেই পারে কমিশন। কারণ, সূত্রের খবর, ঋতব্রত শিবিরের থেকে আরও কিছু নথি চেয়েছে কমিশন। অর্থাত্ গোটা প্রক্রিয়াটিই স্ক্রুটিনির মধ্যে রয়েছে। কমিশন চূড়ান্ত নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত, কোনও একটি পক্ষই একমাত্র ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করে, এমন দাবি শুধুই সেই পক্ষের বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত হবে, নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।
জোড়াফুল প্রতীকটি আপাতত ফ্রিজ করে দিতে পারে কমিশন?
অতীতের একাধিক এই ধরনের কেসে দেখা গিয়েছে, কমিশন অনেক সময় অন্তর্বর্তী কোনও সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। স্ক্রুটিনির উপর নির্ভর করছে, সেই অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত। এমনকী, কমিশন মনে করলে, আপাতত জোড়াফুল প্রতীকটিই ফ্রিজ করে দিতে পারে। নির্বাচন কমিশনের সরকারি নথিতে শিবসেনা এবং ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির মতো দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের নজির রয়েছে। এসব ঘটনা থেকে দেখা যায়, কোনও দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে বিস্তারিত শুনানি, নথিপত্র যাচাই এবং বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার প্রয়োজন হতে পারে।