কলকাতার দুর্গাপুজোর ভবিষ্যৎ কী? ১ লক্ষ ১০ হাজার। গত বছর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদান্যতায় এই বিপুল পরিমাণ অঙ্কের অনুদান পেয়েছিল রাজ্যের পুজো কমিটিগুলি। তৃণমূলের আমলে দুর্গাপুজো মানেই ছিল জাঁকজমক, মহালয়ার আগে থেকেই প্যাণ্ডেলে প্যাণ্ডেলে জনতার ঢল আর পুজো শেষে তাক লাগানো কার্নিভ্যাল। তবে বদলেছে সেই জমানা। রাজ্যে এখন গেরুয়া সরকার। ইতিমধ্যেই সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে নেতা ঘনিষ্ঠ ক্লাবগুলির অন্দরমহলে। তবে কি এবার জৌলুস হারাবে জনপ্রিয় পুজোগুলি? খোঁজ নিল bangla.aajtak.in.
গত বছর বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছিল টালা প্রত্যয়ের পুজো। শততম বর্ষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত থিমেই সেজে উঠেছিল ক্লাব। তবে মমতা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হতেই তৎকালীন শাসক ঘনিষ্ঠ এই ক্লাব নিয়ে নানা জল্পনা রটেছে। কীভাবে তারা এ বছরের পুজোর কথা ভাবছে? জানালেন টালা প্রত্যয়ের সম্পাদক শান্তনু ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, 'পুজো তো করতেই হবে। বরাবরই সহযোগিতা পেয়েছি, এবারও আশা করি পাব। এখনও আমরা নিজেরাই সেভাবে আলোচনায় বসিনি। আমাদের কমিটিতে সব দলের সমর্থকই রয়েছেন। তবে আমরা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যোগাযোগ রাখি না।' জৌলুস কমবে বলে মনে করছেন না তিনি। বরং বলছেন, 'আমি চাইব বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী আমাদের পুজো উদ্বোধন করতে আসবেন, আমাদের তাতে আরও সুনাম হবে।'
কখনও বুর্জ খলিফা তো কখনও আবার ডিজনি ল্যান্ড বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সুজিত বসুর শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব। কিন্তুপুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন সেই সুজিতই। সেক্ষেত্রে আদৌ হবে তো এই পুজো? যে পুজোয় মহালয়ার আগে থেকেই লম্বা লাইন পড়ে, সে পুজোর এবছরের থিমও ঠিক হয়নি এখনও। ক্লাবের সদস্যরা জানাচ্ছেন, ভোটের কারণে কোনও মিটিং হয়নি পুজোর। কয়েকজন মিস্ত্রী এসে পুরনো বছরের থিমের প্যান্ডেলের একাংশ খুলছেন। এবারের প্যান্ডেল সম্পর্কে কিছুই জানা নেই তাঁদের। তবে অনেকেরই বিশ্বাস সুজিত বসু না থাকলেও পুজো হবেই, হয়তো জাঁকজমকটা থাকবে না।
ছোট-বড় মিলিয়ে কলকাতার প্রায় ৬০০ পুজো রয়েছে ফোরাম ফর দুর্গোৎসব প্ল্যাটফর্মে। প্রশাসন এবং পুজো কমিটিগুলির মধ্যে সমন্বয় রক্ষাকারী এই প্ল্যাটফর্মও কিছুটা বিভ্রান্ত। রাজ্যের পালাবদলের পর পুজো নিয়ে কী ভাবছে ক্লাবগুলি? bangla.aajtak.in-এ এই ফোরামের সম্পাদক অভিষেক ভট্টাচার্য বলেন, 'ক্রীড়ামন্ত্রী, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, দমকল কলকাতা পুরসভা সকলের সঙ্গেই আমাদের সমন্বয় রেখে চলতে হয়। পুজোর জন্য যা ভাল বুঝবে নতুন সরকার, সেটাই আমরা স্বাগত জানাব। অস্থিরতা তো একটা রয়েইছে, তবে আমরা নতুন সরকারের থেকেও সহযোগিতা আশা করছি। এখন অপেক্ষা করা ছাড়া তো কোনও উপায় নেই।'
'পরিবর্তনই চিরন্তন সত্য', বলছে বালিগঞ্জ কালচারাল পুজো কমিটি। হাতিবাগান নবীনপল্লীর কথায়, 'বাংলা হোক আরও সাফল্যের অধিকারী'। একে একে বহু জনপ্রিয় পুজোই নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে। সেক্ষেত্রে পুরনো শাসক ঘনিষ্ঠের তকমা থেড়ে তারা কি বেরিয়ে আসতে চাইছে? রাজনৈতিক রঙের বদলে প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনেই পুজোর পক্ষে ক্লাবগুলি? ইতিমধ্যেই দক্ষিণ কলকাতার একাধিক পুজো কমিটিগুলির অন্দরমহলে বিস্তর অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে ফোরামের সম্পাদক বলছেন, 'দু'একটা পুজো ছাড়া শহরের সব পুজো কমিটিতেই সমস্ত রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ রয়েছেন। হয়তো বিগ বাজেট সেই পুজোগুলির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অন্যরকম। তবে এই মুহুর্তে সরকারের নির্দেশিকার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় তো নেই।'