গীতায় যোগ নিয়ে শ্রীকৃষ্ণ কী বলেছেন? কলকাতায় যোগ দিবস ২০২৬-এর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখলেন PM মোদী। রবিবার রেড রোডে হাজির হওয়া হাজার হাজার মানুষকে যোগ-এর উপকারিতা বোঝালেন তিনি। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, গীতাতেও যোগ-এর বিষয়ে বলা হয়েছে।
গীতার প্রসঙ্গে নরেন্দ্র মোদী বলেন, "গীতায় ভগবান কৃষ্ণ যোগ নিয়ে বলেছেন, ভারসাম্য রেখে আহার-বিহার, ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ এবং ভারসাম্য রেখে ঘুম ও ঘুম থেকে ওঠার ফলে যোগ দুঃখ নাশ করে। এই ভারসাম্যই যোগ-এর আধার। এই ভারসাম্য আমাদের জীবনেরও ভিত্তি।"
তবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "দুঃখের বিষয় হল, আজ বেশিরভাগ মানুষই নিজেদের জীবনে ভারসাম্য না রেখে চলছেন ভারসাম্যহীনতার সঙ্গে তাঁরা লড়াই করছেন। যোগ আমাদের জীবনে ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে শেখায়। জীবনে কী করা উচিত, আর কী করা উচিত না...তা যোগই আমাদের শেখায়। যখন আমরা শরীরকে ঠিক ভাবে চালানো রপ্ত করে ফেলি, তখন স্বাস্থ্য আমাদের স্বভাব হয়ে দাঁড়ায়।"
তিনি বলেন, "যোগ যে শুধু শারীরিক সমস্যার উপর ফোকাস করে তা নয়। যোগ আদতে মানসিক স্বাস্থ্য থেকে শারীরিক সুস্থতার পক্ষে দাঁড়ায়। তাই যোগ-এর বিষয়ে বলা হয়েছে, আমাদের কী করা উচিত, কী করা উচিত না, তা আমাদের যোগ শেখায়।"
উল্লেখ্য, এদিন রেড রোডে যোগ-এর অনুষ্ঠানে শামিল হয়েছেন প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "১০০ দিনের অনলাইন যোগ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। ১৩০টি দেশের ৩০ লক্ষের বেশি মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। যখন সমাজ স্বাস্থ্যবান হবে, রাষ্ট্রও ততই সমৃদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী হবে। আমি সকলের জন্য কামনা করছি, সবাই সুখে থাকুন ও সব রোগ থেকে মুক্ত থাকুন।"
এদিন বক্তব্য রাখার পর যোগাসন করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজেও। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেভাবে আমায় কলকাতার মানুষ আমায় স্বাগত জানিয়েছেন, তা নাগরিকদের মধ্যে উদাহরণ তৈরি করেছেন। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, স্বামী বিবেকানন্দ, ঋষি অরবিন্দের জন্মদিনে যোগ দিবস পালন করার সুযোগ আমায় আত্মিক অনুভূতি দিচ্ছে। এই বাংলায় জন্ম নেওয়া গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ শিখিয়েছেন, একলা থাকা নয় সকলের সঙ্গে একজোট হয়ে থাকা আনন্দ দেয়। যোগাসনও সেটাই শেখায়। ঋষি অরবিন্দও শিখিয়েছিলেন, জীবনই যোগ।'