গুণ্ডা দমন বিল ফেরত পাঠালেন রাষ্ট্রপতিবিজেপি সরকারের গুণ্ডা দমন বিল ফেরত পাঠানো হল। স্বাক্ষর করলেন না রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। কেন বিলটি ফেরত পাঠানো হল? কেন্দ্রের তরফে ১৯৮৫ সালের নারকোটিকস ড্রাগ ও সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস আইনের (NDPS) সঙ্গে প্রস্তাবিত রাজ্যের আইনের সংঘাতের কথা বলা হয়েছে। সে কারণে বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে ফেরত পাঠান রাষ্ট্রপতি।
কেন্দ্রীয় সরকারের নোটে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বিলের সংশ্লিষ্ট ধারায় 'গুণ্ডা'র সংজ্ঞার মধ্যে এমন ব্যক্তিকেও রাখা হয়েছে, যিনি এনডিপিএস আইন, ১৯৮৫-এর আওতায় শাস্তিযোগ্য কোনও অপরাধ করেন, করার চেষ্টা করেন, মদত দেন, প্রচার করেন, অর্থ জোগান বা কোনওভাবে সহযোগিতা করেন। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই বিধান ১৯৮৮ সালের প্রিভেনশন অফ ইললিসিট ট্রাফিক ইন নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস আইনে (PITNDPS) থাকা প্রতিরোধমূলক আটকের বিধানের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হতে পারে। মাদকের অবৈধ কারবারে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রতিরোধমূলক আটকের জন্যই ওই কেন্দ্রীয় আইন।
কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, রাজ্যের প্রস্তাবিত বিধান কার্যকর হলে মাদক সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে পৃথক বা সমান্তরাল প্রতিরোধমূলক আটক ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে। এর ফলে সংবিধানের ২৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দুই আইন পরস্পরবিরোধী। তাই এনডিপিএস আইন, ১৯৮৫-এর আওতায় থাকা অপরাধকে প্রস্তাবিত বিলের সংশ্লিষ্ট ধারা থেকে বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র।
এখন কী করণীয়?
কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে যেখানে সংঘাত রয়েছে, সেখানে যথাবিহিত সংশোধন করে বিলটি ফের বিধানসভায় পেশ করার সুযোগ রয়েছে। তারপর আবার রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
গুণ্ডা দমন বিলে কী কী আছে?
অসামাজিক কার্যকলাপ রুখতে চলতি বছরের জুনে ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল, ২০২৬ বিধানসভায় পাশ করেছিল বিজেপি সরকার।
প্রস্তাবিত বিলে অসামাজিক কার্যকলাপ বলতে কী বোঝাবে এবং কাকে গুণ্ডা বলা হবে, তার সংজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কোনও এলাকা, জেলা বা জেলাগুলিতে ওই ব্যক্তির প্রবেশের উপর সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারির বিধানও রাখা হয়েছে।
কোনও জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার বা রাজ্য সরকারের অনুমোদিত ডিআইজি পদমর্যাদার নীচে নন এমন কোনও পুলিশ আধিকারিক যদি মনে করেন যে কোনও গুণ্ডা অসামাজিক কাজে যুক্ত রয়েছে বা ভবিষ্যতে এমন কাজে যুক্ত হতে পারে, তা হলে তা আটকানোর জন্য নির্দিষ্ট এলাকা, জেলা বা জেলার অংশবিশেষের বাইরে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই এলাকা ছাড়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক বছর সেখানে প্রবেশ বা ফিরে আসার উপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে তাঁর গতিবিধির রিপোর্ট দেওয়া বা নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতাও রাখা হয়েছে।
শুভেন্দুর আশ্বাস
বিরোধীদের সমালোচনার মুখে অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়েছিলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এই আইন ব্যবহার করা হবে না। প্রতিরোধমূলক গ্রেফতারের বিধান নিয়ে যাঁরা উদ্বিগ্ন, তাঁদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। প্রশাসন আইন মেনেই পদক্ষেপ করবে। কোনও ভাবেই আইনের অপব্যবহার করা হবে না।
কলকাতা হাইকোর্টে মামলা
গত ৬ অগাস্ট এই বিলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া তিনটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, বিলটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়নি। ফলে আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার আগেই সেটিকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর বিলটি আইনে পরিণত হলে মামলাকারীরা তার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।