মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নামটি আপাতত ব্যবহার করতে পারছে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, দুই শিবিরই। অতএব বিকল্প প্রতীক ও নামের ভাবনাচিন্তা ও প্রস্তাব দেওয়া শুরু করে দিয়েছে মমতাপন্থী শিবির ও ঋতব্রতপন্থী শিবির।
তিনটি নামের প্রস্তাব ঋতব্রত শিবিরের
নির্বাচন কমিশন জোড়াফুল প্রতীকটি ফ্রিজ করে দেওয়ায় এখন নতুন নাম ও প্রতীক বেছে নিতে হবে দুই শিবিরকেই। কোন শিবির কোন নাম ও প্রতীক নেবে, সেই সম্পর্কে দলীয় সূত্রে কিছু খবর উঠে আসছে। একাধিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, ঋতব্রত শিবির তিনটি নামের প্রস্তাব কমিশনে জমা দিয়েছে। প্রথমটি হল, জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস ও ওয়েস্ট বেঙ্গল তৃণমূল কংগ্রেস।
মমতাপন্থী তৃণমূল তা হলে কোন নাম নেবে?
সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির তাদের দলের নামে মমতাকে রাখতে চাইছে। যেহেতু ওই শিবিরের মুখ মমতা, তাই তাঁর নাম ব্যবহার করেই নতুন নাম নিতে প্রস্তাব রেখেছে মমতা-শিবির। অতীতে যেমন ইন্দিরা কংগ্রেস যখন গঠন হয়েছিল, তখন নাম রাখা হয়েছিল কংগ্রেস (আই)। মমতা শিবিরও চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস (এম) নামটি। যাতে তা মমতাপন্থী হিসেবে তুলে ধরা যায় ভোটারদের কাছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থীরা মোট তিনটি নামের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রথমটি হল, মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস, দ্বিতীয়টি হল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মমতা ও তৃতীয়টি হল কালীঘাট তৃণমূল।
কী প্রতীক নিতে পারে মমতা-শিবির?
এছাড়াও সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকা দুটি প্রতীক বেছে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রতীকই খেলাধুলো সংক্রান্ত। তবে কোন প্রতীক, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি> এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চ্যালেঞ্জ হল, তাঁর শিবিরই যে প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস, তা ভোটের ময়দানে প্রমাণ করতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মোদ্দা বিষয়, মমতাপন্থী শিবিরের প্রতীক আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখটিই।
প্রতীক ইস্যুতে মমতার পাশে দাঁড়াল কংগ্রেস
অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীক হারানোর ঘটনায় পাশে থাকল কংগ্রেস। সর্বভারতীয় কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল সোশাল মিডিয়ায় লিখলেন, 'জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করার এই সিদ্ধান্ত হচ্ছে জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জ্ঞানেশ কুমারের গভীর রাতের উপহার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিজেপির বিরুদ্ধে যাঁরা লড়েছিলেন তাঁদের সামনে এখন লাল কার্পেট বিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার জন্য। একই ঘটনা শিব সেনা ও এনসিপির ক্ষেত্রে ঘটেছে।'
অন্যদিকে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কটাক্ষ, 'এটাই ডিভাইন জাস্টিস। মনে আছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূল কংগ্রেস একদা ফতোয়া জারি করেছিল, পদ্মফুলের ছবি রয়েছে, এমন কোনও জিনিস বিক্রি করা যাবে না। এখন তৃণমূল কংগ্রেস প্রতীকটাই চলে গেল। তৃণমূল কংগ্রেস বলে আর কোনও দল নেই। তৃণমূল মৃত। তৃণমূল শেষ।'