
অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিতর্কগর্ভনিরোধক পিল, ম্যাসাজের যন্ত্র, কন্ডোম। রয়েছে পৃথক মেকআপ রুমও। তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় মুকুন্দপুরের ওয়ার্ড অফিস এখন ঘোর চর্চায়। এখন প্রশ্ন উঠছে, ওই অফিসে কি পুরসভার কাজ চলত, নাকি অন্যান্য বিতর্কিত ব্যাপারও দেদার চলত। তার আগে একটু আলোকপাত করা যাক অনন্যার উত্থানের দিকে।
মিস ক্যালকাটার প্রেমে পড়েছিলেন জয়
প্রয়াত অভিনেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন স্ত্রী অনন্যা গ্র্যাজুয়েট হন ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে। প্রথম দিকে এয়ার হস্টেস ছিলেন। পরবর্তীকালে মিস ক্যালকাটার শিরোপা উঠেছিল তাঁর মাথায়। অনন্যা চলে আসেন লাইমলাইটে। টলিউডে বেশ কিছু কাজ পেলেও, খুব একটা পসার জমাতে পারেননি। সেই অনন্যা রাজনীতিতে অল্প সময়েই সাফল্য লাভ করেন। অনন্যা যে বছর মিস ক্যালকাটা হয়েছিলেন, বিচারকের আসনে ছিলেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ও। অনন্যার প্রেমে পড়ে যান জয়।

অনন্যার সঙ্গে জয়ের বিচ্ছেদ ও তৃণমূল যোগ
শোনা যায়, অনন্যার নাকি ইচ্ছে ছিল না তাড়াতাড়ি বিয়ে করার। একরকম পরিবারের চাপেই পাত্র দেখার ৪ দিনের মধ্যেই জয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। এটি ২০০০ সালের ঘটনা। জয় নাকি ভীষণ মদ খেতেন। কিন্তু জয়ের মদে আসক্তির জন্যই অনন্যার বিয়ে টেকেনি, এটা স্পষ্ট করা বলা যায় না। অন্য কী কারণ, তা নিয়ে অবশ্য অনন্যা প্রকাশ্যে কখনওই মুখ খোলেননি। জয় বিজেপি করতেন। ২০১০ সালে অনন্যা যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে।
অনন্যার সঙ্গে বিচ্ছেদের পরে ২০১৯ সালে জয় ফের বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। অনন্যা অবশ্য আর বিয়ে করেননি। ২০২১ সালে অনন্যা তৃণমূলের টিকিটে পুরসভায় জিতে যান। টলিউডেও প্রভাব বেড়ে যায়। বিশেষ করে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে কানাঘুষো অনেক কিছু শোনা যায়। অরূপের সঙ্গে অনন্যার প্রচুর ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল। তৃণমূল আমলে অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসের টলিউডে প্রভাব নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। সেই প্রভাবের ক্ষীর খান অনন্যাও।

দেবের 'প্রধান' ছবিতে প্রথমবার অনন্যাকে বড়পর্দায় দেখা যায়। অরূপ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ হওয়ার জেরেই একের পর এক সিনেমায় অনন্যা গুরুত্বপূর্ণ রোল পেতে থাকেন বলেও দাবি করে অনেকে।

ওয়ার্ড অফিসে গর্ভনিরোধক ওষুধ, ম্যাসাজ যন্ত্র কীভাবে?
সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডে তালা ভেঙে ঢোকেন একদল লোক। ওই ওয়ার্ডেই কাউন্সিলর অনন্যা। একেবারে লাক্সারি ঝাঁ চকচকে অফিস। অভিযোগ, গর্ভনিরোধক ওষুধ, ম্যাসাজ যন্ত্র, কন্ডোম, প্রমোটারদের নাম সহ টাকার রেট চার্ট ইত্যাদি জিনিও উদ্ধার হয়েছে অফিসে। কী বলছেন অনন্যা? তাঁর কথায়, 'কোথাও তো মেকআপ রুম দেখতে পাইনি। প্রত্যেক অফিসেই চেম্বার যেমন থাকে, তেমন অ্যান্টি চেম্বারও থাকে, যেখানে সবাই বসে খাওয়াদাওয়া করে, আলোচনা করে। সেই জায়গাকে অন্য নাম দিলে আমার কিছু করার নেই। এটা তো কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বরের ওয়ার্ড অফিস। কোনও দলীয় কার্যালয় নয়। ৮ জুন বোর্ডটাই ভেঙে গিয়েছে। আর এই ওয়ার্ড অফিস শুধু এলাকার জনপ্রতিনিধির নয়। পুরসভায় যে সরকারি আমলারা কাজ করেন, তাঁরাও যান। এটা তাঁদেরও অফিস।'

ফাদার, নান সম্পর্ক নিয়ে যৌনগন্ধী মন্তব্য ও বিতর্ক
অনন্যাকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয় ২০২৪ সালে। সে বার বাজেট বিতর্ক চলাকালীন একটি 'রূপক' উদাহরণ দেন। তাতে, 'ফাদার' এবং 'নান'দের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে একটি গল্প বলেন। বাইবেলের ১১২ নম্বর অধ্যায়ে 'গভীরে যাও, আরও গভীরে যাও' বাণী রয়েছে, বলেন অনন্যা। সেটার সঙ্গে নান-ফাদারের সম্পর্কের গল্প জুড়ে দেন। এরপরেই শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। অনন্যা যদিও বারবার বলেন, তাঁর এই গল্প নিছকই 'রূপকধর্মী'। কোনও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানা তাঁর উদ্দেশ্য নয়। তত্কালীন বিরোধী দল বিজেপি তো বটেই, এমনকী তৃণমূলেরই ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুস্মিতা ভট্টাচার্য এর প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, 'ফাদার-নান সম্পর্কে 'সেক্স' শব্দটি উচ্চারণ করে অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ করেছেন অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়।