Sona Pappu: TMC-র দেবাশিসের 'কাছের লোক'? গোলপার্কের অশান্তির 'হোতা' সোনা পাপ্পু কে?

গোলপার্কে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে চলল গুলি। ঘটনায় নাম জড়িয়েছে সোনা পাপ্পুর। যার সঙ্গে তৃণমূলের প্রথমসারির নেতাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কে এই সোনা পাপ্পু, কেন তাঁকে ত্রাস মনে করে এলাকার লোকজন?

Advertisement
TMC-র দেবাশিসের 'কাছের লোক'? গোলপার্কের অশান্তির 'হোতা' সোনা পাপ্পু কে?সোনা পাপ্পু
হাইলাইটস
  • গোলপার্কে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে চলল গুলি
  • নাম জড়িয়েছে সোনা পাপ্পুর
  • তৃণমূলের প্রথমসারির নেতাদের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে তাঁর সঙ্গে

রবিবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ঢাকুরিয়ার কাঁকুলিয়া রোড এলাকা। এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে দুই গ্যাংয়ের মধ্যে মারপিঠকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত। এতেই নাম জড়িয়েছে সোনা পাপ্পু ও তাঁর বাইক বাহিনীর। জানা যাচ্ছে, শাসকদলের প্রথমসারির নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে ওঠাবসা রয়েছে তাঁর। নাম জড়িয়েছিল খুনের মামলাতেও। কে এই সোনা পাপ্পু? 


সোনা পাপ্পুর 'ডেরা' কোথায়?
সোনা পাপ্পুর আসল নাম বিশ্বজিৎ পোদ্দার। কসবা, ঢাকুরিয়া, রামলাল বাজার এলাকার ত্রাস হিসেবেই পরিচিত সে। কলকাতা পুরসভার ৬৭ নম্বর এবং ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে শাসকদলের হয়ে কাজ করেন তিনি ও তাঁর দলবদল, স্থানীয়রা জানাচ্ছেন এমনটাই। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরভোট হোক বা অন্যান্য নির্বাচন, বিরোধী এজেন্টদের বুথ পর্যন্ত পৌঁছতে না দেওয়ার কাজটা করেন এই সোনা পাপ্পুই। ৬৭ এবং ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫০-৫৫টি বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ কলকাতা পুরসভায় জমা পড়েছিল। প্রতিটি বেআইনি নির্মাণের পিছনে সোনা পাপ্পুর হাত রয়েছে বলে খবর। 

কসবা বিধানসভার এই এলাকাজুড়ে বেআইনি নির্মাণের রমরমা কারবারের সঙ্গে যুক্ত এই সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ। তবে শাসকদলের হাত মাথার উপর থাকায় তাঁর কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারে না কেউই, এমনটাই মত স্থানীয় বাসিন্দাদের। 

Sona Pappu
সোনা পাপ্পুর বাইকবাহিনী

প্রভাবশালী পাপ্পু!
কসবা থানার সুইনহো লেনের জাহাজ বাড়ি এলাকায় বাড়ি বিশ্বজিৎ ওরফে পাপ্পুর। আগে বাবার পিকনিক গার্ডেনের সোনার দোকানে হাত মিলিয়ে কাজ করতেন তিনি। কিন্তু পরবর্তীতে তৃণমূল সরকারের আমলে বাবার ব্যবসা ছেড়ে ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাটাপুকুর এলাকায় কয়েক জনকে নিয়ে সিন্ডিকেটের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। তখন থেকেই ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীণ তৃণমূলের ব্লক সভাপতি বিজনলাল মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। 

বর্তমানে সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার বিধায়ক তথা দক্ষিণ কলকাতার জেলা তণমূল সভাপতি দেবাশিস কুমারের খাস লোক বলেই পরিচিত। ঘনিষ্ঠতা রয়েছে মেয়র পারিষদ বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেও। যে ৯০ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় রবিবার রাতে অশান্তি হয় তা বৈশ্বানরের স্ত্রী চৈতালী চট্টোপাধ্যায়ের ওয়ার্ড। 

Advertisement

সম্প্রতি দেশপ্রিয় পার্কের দুর্গোৎসবের সভাপতি তথা দেবাশিস কুমারের ভাই সুদীপ্ত কুমারের প্রয়াণের দিন দেখা গিয়েছিল এই সোনা পাপ্পুর 'দাপট'। দেবাশিস কুমারের বাড়িতে ছিলেন তিনি। শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গেই ওঠাবসা করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। সুদীপ্ত কুমারের মরদেহ নিয়ে শ্মশানযাত্রার সময়ে সোনা পাপ্পু ও তাঁর প্রায় ৪০-৫০ জন বাইকবাহিনীও সঙ্গে গিয়েছিল। 

Sona Pappu
দেবাশিস কুমারের সঙ্গে সোনা পাপ্পু

খুনের মামলাতেও অভিযুক্ত
এই সোনা পাপ্পু ২০১৭ সালে তালবাগান এলাকার তৃণমূল কর্মী পলাশ জানা খুনের মামলায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন। সে সময়ে বিশ্বজিৎ পোদ্দারকে ফোন করেছিলেন এক পুলিশ কর্তা। শোনা যায়, ওই পুলিশকর্তার ফোনের জবাবে তিনি বলেছিলেন, 'আমাকে ছোঁয়ার চেষ্টা করবেন না। আমার চেন কতদূর, তা আপনি জানেন না।'

কী বলছে শাসকদল?
তাঁর সঙ্গে সোনা পাপ্পুর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে দেবাশিস কুমার সংবাদমাধ্যমে বলেন, 'আমার সঙ্গে ছবি থাকতেই পারে। কোনও অনুষ্ঠানে আমার পাশে দেখা যেতেই পারে। তার মানে কেউ যদি অভিযুক্ত হয় তাঁকে অবশ্যই আইন মেনে গ্রেফতার করতেহবে। তাঁর শাস্তি দাবি করছি।'

 

POST A COMMENT
Advertisement