সোমবার ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’ কনক্লেভে আইপ্যাক-ইডি বিতর্কে মুখ খোলেন।শুধু কলকাতাতেই রেইড কেন? প্রশ্ন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সোমবার ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’ কনক্লেভে আইপ্যাক-ইডি বিতর্কে মুখ খোলেন। কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। বলেন 'আইপ্যাকের তিন জন ডাইরেক্টর রয়েছেন। একজন দিল্লিতে, একজন তামিলনাড়ুতে এবং একজন বাংলায়। চেন্নাই, দিল্লি ও কলকাতায় আইপ্যাকের অফিস রয়েছে। তা হলে খালি কলকাতার অফিসেই রেড কেন?' নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর অভিযোগ, 'আমার চার বছরের ছেলে, ন’ বছরের মেয়েকে এয়ারপোর্টে আটকে দেওয়া হয়েছিল।' বলেন, 'ইডি ডেকেছে গিয়েছি। সিবিআই ডেকেছে গিয়েছি। কী ভেবেছেন? ভয় পাব? আমাদের ধমকে চমকে লাভ নেই।' তিনি আরও বলেন, 'আসলে ওরা রেড করতে আসেনি। তথ্য চুরি করতে এসেছিল। সেই কারণেই চেন্নাই, দিল্লির বেলায় বাদ। বেছে বেছে কলকাতাতেই তল্লাশি চালানো হল।' তাঁর প্রশ্ন, 'গত ৩ বছরে কয়লা কাণ্ডে ইডি কাউকে সামারি দিতে পারেনি। তাহলে হঠাৎ নির্বাচনের এক মাস আগে ওদের তল্লাশির টনক নড়ল কেন?'
গত সপ্তাহে বৃহস্পতিবার(৮ জানুয়ারি) আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে যায় ইডি। লাউডন স্ট্রিটে তল্লাশির মাঝেই সেখানে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গাড়ি থেকে নেমে তিনি সরাসরি ঢুকে যান প্রতীকের বাড়িতে। কিছুক্ষণ পর একটি সবুজ রঙের ফাইল হাতে বাড়ি থেকে বেরোতে দেখা যায় তাঁকে। মমতার দাবি ছিল, ইডি তাঁর দলের আইটি সেক্টরের অফিস এবং আইটি সেক্টর ইনচার্জের বাড়িতে হানা দিয়েছে। দলের হার্ড ডিস্ক, প্রার্থিতালিকা, পার্টির স্ট্র্যাটেজি ও পরিকল্পনার নথি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেন।
প্রতীকের বাড়ির পরেই মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছন সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে। তখনও সেখানে ইডির তল্লাশি চলছিল। এর আগেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-মন্ত্রীরা। দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিট নাগাদ মমতা আইপ্যাকের দফতরে পৌঁছন। ভবনের বেসমেন্ট দিয়ে সাধারণ লিফ্টে উঠে তিনি ১১ তলায় যান। প্রায় এক ঘণ্টা দফতরে থাকার পর তিনি নিচে নামেন।
এই সময় গোটা এলাকা ঘিরে রাখে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের বাহিনী। আইপ্যাকের দফতরে তল্লাশি চলাকালীন বহুতলের প্রবেশ ও বাহিরের ফটক সিল করে দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।
আইপ্যাকের দফতর থেকে নামার সময় পুলিশকর্মীদের হাতে ফাইলের গোছা দেখা যায়। সেই ফাইল মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ির পিছনের আসনে রাখা হয়। গাড়িটি ঘিরে রাখা হয় কড়া নিরাপত্তায়। সেখান থেকেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে মমতা বলেন, 'ওরা আমার দলের সমস্ত নথিপত্র নিয়ে যাচ্ছিল। আমি যদি বিজেপির পার্টি অফিসে হানা দিই, তা হলে কী হবে?'