গরিয়ায় খুনের ঘটনালিভ-ইন সম্পর্কের জেরে খুন। ভয়াবহ অপরাধের ঘটনা ঘটল খাস কলকাতায়। যতদূর খবর, গড়িয়ার ফর্তাবাদে ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে ২৫ বছরের এক যুবকের দেহ। তাঁকে ধারাল কোনও অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তাঁর লিভ-ইন পার্টনার এবং ওই তরুণীর মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কালীপুজোর আবহে এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম সার্থক সরকার। তাঁর বাড়ি বারাসতে। অভিযুক্ত সঞ্চালিকা বসুর সঙ্গে ফর্তাবাদের ওই ফ্ল্যাটে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকতেন তিনি। অভিযুক্ত তরুণী আইনের ছাত্রী। সার্থক ইঞ্জিনিয়ার।
এমতাবস্থায় শনিবার রাতে দু'জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় ধারাল অস্ত্র দিয়ে সার্থকের কাঁধে আঘাত করেন সঞ্চালিকা। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় সঞ্চালিকা বসু এবং তাঁর মা মৌমিতা বসুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারপরই শুরু হয়েছে তদন্ত। কী কারণে দু'জনের মধ্যে অশান্তি হয়েছিল, খুনের ঘটনায় তরুণীর মায়ের ভূমিকা কী ছিল, এই সব বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
যদিও কলকাতায় লিভ-ইন সম্পর্ক ঘিরে এমন ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। চলতি বছরের জুলাই মাসেও নিউটাউনের চন্ডিবেড়িয়ায় এক তরুণীর রহস্য মৃত্যু ঘটে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
সেবার একটি ফ্ল্যাট থেকে তৃষা সাহা (২৫) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই ফ্ল্যাটে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁর লিভ-ইন পার্টনার সৌভিক রায়কে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, প্রায় চার মাস ধরে একসঙ্গে থাকছিলেন তৃষা ও সৌভিক। তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে কোনও বিবাদ থেকেই এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল। তৃষার শরীরেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল।
তবে ঠিক কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। তৃষাকে মারধর করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, কিংবা ঘটনার পর সৌভিক আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছিল পুলিশ।
ফলে কয়েক মাসের ব্যবধানে কলকাতায় লিভ-ইন সম্পর্ক ঘিরে পরপর এমন ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।