বিজেপির অন্দরে গেরুয়া উত্তরীয় বা গামছা শুধু পোশাক নয়, বরং আদর্শ, রাজনৈতিক পরিচয় এবং সাংগঠনিক সংস্কৃতিরও প্রতীক।Suvendu Adhikari oath ceremony: শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপরেই কাঁধে গেরুয়া উত্তরীয়-গামছা তুলে দেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সেই মুহূর্তই এখন রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো চর্চার বিষয়। বিজেপির অন্দরে গেরুয়া উত্তরীয় বা গামছা শুধু পোশাক নয়, বরং আদর্শ, রাজনৈতিক পরিচয় এবং সাংগঠনিক সংস্কৃতিরও প্রতীক।
শনিবার ব্রিগেডের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন রাজ্যের ২৩ জন মুখ্যমন্ত্রীও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেই মঞ্চেই যোগী আদিত্যনাথ শুভেন্দুর কাঁধে গেরুয়া উত্তরীয় তুলে দেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মুহূর্ত শুধুমাত্র সৌজন্য বিনিময় নয়, বরং বিজেপির বৃহত্তর রাজনৈতিক দর্শনের প্রতীক।
গেরুয়া রং ভারতীয় রাজনীতিতে বহুদিন ধরেই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। হিন্দু ধর্মে গেরুয়া ত্যাগ, আত্মনিয়োগ এবং আধ্যাত্মিকতার প্রতীক। সন্ন্যাসীদের পোশাকেও গেরুয়া রঙের ব্যবহার দেখা যায়। সেই সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতীককেই রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে বিজেপি এবং বৃহত্তর সঙ্ঘ পরিবার। বিজেপির পতাকা, দলীয় কর্মসূচি সর্বত্রই গেরুয়া রংকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির ক্ষেত্রে গেরুয়া উত্তরীয় বা গামছা এক ধরনের ‘আইডেন্টিটি মার্কার’। দলীয় কর্মী থেকে শীর্ষ নেতা; সকলের কাছেই এটি রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতীক। নির্বাচনী প্রচারে বহু সময় দেখা যায়, বিজেপি সমর্থকরা গেরুয়া গামছা পরে রাস্তায় নামছেন। আবার কোনও নতুন নেতা দলে যোগ দিলে তাঁকে গেরুয়া উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানানোরও রীতি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যোগী আদিত্যনাথের হাতে শুভেন্দুকে গেরুয়া উত্তরীয় পরানো আরও বড় রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। যোগী নিজেও বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির অন্যতম মুখ। তাঁর হাতে শুভেন্দুর কাঁধে গেরুয়া উত্তরীয় ওঠা মানে বাংলায় বিজেপির নতুন সরকারকে আদর্শগতভাবে বৃহত্তর বিজেপি পরিবারের সঙ্গে একসূত্রে বেঁধে দেওয়ার বার্তা।
শুধু রাজনৈতিক নয়, সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও গেরুয়া গামছার গুরুত্ব রয়েছে। বিজেপি এবং আরএসএসের বিভিন্ন কর্মসূচিতে গেরুয়া রঙের ব্যবহার কর্মীদের মধ্যে ঐক্য এবং শৃঙ্খলার প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই এই গামছা দলীয় সংগ্রাম, আন্দোলন এবং মতাদর্শের স্মারক হয়ে ওঠে।
শনিবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও সেই প্রতীকী রাজনীতি আরও একবার ফুটে উঠল। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন শুভেন্দু অধিকারী। তার কিছু পরেই যোগীর হাতে গেরুয়া উত্তরীয় গ্রহণ। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই দুই ছবিই আগামিদিনে বাংলার নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের অন্যতম প্রতীক হয়ে থাকতে পারে।