
রাজ্যে শুরু হল ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের অনুদান বিতরণ। আবেদনকারীদের দ্রুত মাসিক সহায়তা পৌঁছে দিতে ডেটা এন্ট্রির কাজ ত্বরান্বিত করেছে কলকাতা পুরসভা। যদিও নির্বাচনী বিধি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা সামনে, তার আগেই প্রকল্পটি চালু করতে প্রশাসন তৎপর বলে সূত্রের খবর।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা শহরে প্রায় ২ লক্ষ ২০ হাজার তরুণ-তরুণী ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছেন। অর্থাৎ এত সংখ্যক যুবক-যুবতী অন্তত মাধ্যমিক পাশ করলেও এখনও স্থায়ী কর্মসংস্থান পাননি। তাঁদের দ্রুত মাসিক সহায়তা পৌঁছে দিতে আবেদনকারীদের তথ্য তালিকাভুক্ত ও যাচাইয়ের কাজ চলছে জোরকদমে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, শনিবার থেকেই এই প্রকল্পের অধীনে অনুদান দেওয়া শুরু হবে। তিনি বলেন, 'আজ (৭ মার্চ) থেকেই আমরা এই টাকা জমা দিচ্ছি। এটি ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। যেমন লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা ফেব্রুয়ারি থেকেই দেওয়া হয়েছে, তেমনই আমরা যা প্রতিশ্রুতি দিই, তা পূরণ করি।'
পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ‘যুব সাথী’ প্রকল্পে ৭৩ হাজারের বেশি অনলাইন আবেদন এবং প্রায় ১ লক্ষ ৫১ হাজার অফলাইন আবেদন জমা পড়েছে। এত বিপুল সংখ্যক আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ করতে চারটি সংস্থাকে ডেটা এন্ট্রির কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ভোট-অন-অ্যাকাউন্ট বাজেটে প্রথমে ঘোষণা করা হয়েছিল যে প্রকল্পটি ১৫ আগস্ট থেকে চালু হবে। পরে ফেব্রুয়ারিতে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১ এপ্রিল থেকেই এই প্রকল্প চালু করা হবে। তবে শনিবার তিনি ঘোষণা করেন, সেই দিন থেকেই অনুদান বিতরণ শুরু হচ্ছে।
সূত্রের খবর, বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার আগেই কিছু আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দিতে চায় রাজ্য সরকার। এতে ‘যুব সাথী’ প্রকল্পটি একটি চলমান প্রকল্প হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং নির্বাচনের দিন ঘোষণার পরেও তা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে।
রাজ্যের এক শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তার কথায়, 'একবার অনুদান দেওয়া শুরু হলে এটি চলমান প্রকল্প হিসেবে ধরা হবে। তখন নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না, অথবা অনুমতি পাওয়াও সহজ হবে।'
এই প্রকল্পের আওতায় ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক উত্তীর্ণ বেকার যুবক-যুবতীরা পাঁচ বছর বা চাকরি পাওয়া পর্যন্ত মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। তবে যারা অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন, তারা সাধারণত এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না। যদিও বৃত্তিপ্রাপ্ত পড়ুয়ারা নির্দিষ্ট আর্থ-সামাজিক শর্ত পূরণ করলে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আবেদনকারীরা ফর্ম জমা দেওয়ার সময় একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, যদি কোনও তথ্য বা নথি পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর অনুদান বাতিল করা হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।