
ঝিরঝিরে বৃষ্টি হোক বা পড়ন্ত বিকেলের সোনালি রোদ, চায়ের কাপের সঙ্গে যদি পাতে থাকে গরম গরম চিকেন স্ন্যাক্স, তবে আড্ডাটা যেন ঠিক জমে ওঠে। বর্তমানের ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেকেই রাস্তার ধারের দোকানের ভাজাপুুজিতে ভরসা রাখি। কিন্তু বাজারের সেই খাবারে অনেক সময়ই মেশানো থাকে ক্ষতিকারক প্রিজারভেটিভ। তাই স্বাদ আর স্বাস্থ্যের সঠিক ভারসাম্য রাখতে বাড়িতেই বানিয়ে নেওয়া যায় রেস্তোরাঁ স্টাইল সুস্বাদু পদ।

উপকরণের জাদুতে স্বাস্থ্যকর স্বাদ
বাড়িতে তৈরি খাবারের সবচেয়ে বড় গুণ হলো এর বিশুদ্ধতা। মুরগির মাংসের প্রোটিন আর ঘরোয়া মশলার মেলবন্ধনে তৈরি এই পদগুলি যেমন পুষ্টিকর, তেমনই খেতেও খাসা। বিকেলের নাস্তায় বাড়ির ছোট থেকে বড়, সকলের মন জয় করতে এই ঘরোয়া রেসিপির জুড়ি মেলা ভার। আজ থাকল তেমনই এক জিভে জল আনা চিকেন স্ন্যাক্সের হদিশ।

প্রস্তুতির প্রথম ধাপ
এই পদের প্রধান উপকরণ হলো হাড় ছাড়া মুরগির মাংস বা বোনলেস চিকেন। মাংসের টুকরোগুলো প্রথমে ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর ছুরি দিয়ে সেগুলোকে লম্বা ও পাতলা ফালির আকারে কেটে নিতে হবে। মাংসের টুকরোগুলো সমান মাপের হলে ভাজার সময় তা দেখতেও সুন্দর হয় এবং ভেতর পর্যন্ত সমানভাবে সেদ্ধ হয়।

ম্যারিনেশনের কামাল
স্বাদ বাড়াতে ম্যারিনেশন অত্যন্ত জরুরি। লম্বা করে কাটা মাংসের টুকরোগুলোতে পরিমাণমতো নুন, সামান্য লেবুর রস, গোলমরিচ গুঁড়ো এবং রসুন বাটা ভালো করে মাখিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি মাখিয়ে অন্তত এক ঘণ্টা ঢাকা দিয়ে রেখে দিতে হবে। এতে মশলার স্বাদ মাংসের গভীরে পৌঁছবে এবং মাংস নরম হবে।

মচমচে আবরণের কৌশল
এক ঘণ্টা পর শুরু হবে আসল কারিকুরি। ম্যারিনেট করা মাংসের টুকরোগুলো প্রথমে শুকনো ময়দায় একবার গড়িয়ে নিন। এরপর ফেটানো ডিমে চুবিয়ে তুলে নিতে হবে। সবশেষে মচমচে ভাব আনতে গুঁড়ো করা কর্নফ্লেক্সের ওপর রেখে ভালো করে চেপে চেপে কোট করে নিন। এই কর্নফ্লেক্সের আস্তরণই চিকেন স্ট্রিপকে দেয় বাড়তি মুচমুচে ভাব।

পরিবেশনের পালা
কড়াইয়ে সাদা তেল গরম করে আঁচ মাঝারি রাখুন। এবার তৈরি করা চিকেন স্ট্রিপগুলো সাবধানে ডুবো তেলে ছাড়ুন। সোনালি রং ধারণ করা পর্যন্ত এপিঠ-ওপিঠ করে ভাজতে হবে। ভাজা হয়ে গেলে কিচেন টিস্যুতে তুলে রাখুন বাড়তি তেল শুষে নেওয়ার জন্য। ব্যাস, টমেটো সস বা পুদিনার চাটনির সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন মুচমুচে চিকেন স্ট্রিপ।

