ছাতু দিয়ে ৫টি অভিনব রেসিপি।বাঙালির বিকেল মানেই চা আর কিছু মুখরোচক খাবার। তবে এখন অনেকেই স্বাদ আর স্বাস্থ্যের মধ্যে সমঝোতা করতে চান না। সেই জায়গায় ‘দেশি সুপারফুড’ হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ছাতু। ভাজা ছোলা গুঁড়ো করে তৈরি এই উপাদান প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও আয়রনে সমৃদ্ধ। পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় ডায়েট চার্টেও জায়গা করে নিয়েছে ছাতু। অনেকেই জিমের পরে প্রোটিন শেকের বদলে সত্তুর শরবত পান করেন। কিন্তু শুধু সরবত কেন? ছাতু দিয়ে বানানো যায় একাধিক স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু স্ন্যাকস। কম সময়ে, সহজ উপকরণে বানানো যায় এমন ৫টি চটপটে রেসিপি রইল আপনার জন্য।
১) ছাতু পরোটা
প্রোটিনে ভরপুর ছাতু পরোটা বিকেলের জমাটি নাস্তা হতে পারে।
একটি পাত্রে ছাতুর সঙ্গে কুচোনো পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা, লেবুর রস, সর্ষের তেল, নুন ও ধনেপাতা মিশিয়ে নিন। মশলাদার পুর তৈরি হলে গমের আটার লেচির মধ্যে ভরে বেলে নিন। তাওয়ায় অল্প ঘি বা তেল দিয়ে দুই পিঠ সোনালি করে সেঁকে নিলেই প্রস্তুত। আচার, দই বা পুদিনা চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করুন।
২) ছাতু চিলা
হালকা অথচ পেটভরা স্ন্যাকস চাইলে ছাতু চিলা আদর্শ।
ছাতুর সঙ্গে জল, জোয়ান, কুচোনো পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা ও প্রয়োজনমতো মশলা মিশিয়ে ব্যাটার তৈরি করুন। তাওয়ায় প্যানকেকের মতো ছড়িয়ে দুই দিক সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। ধনে-পুদিনা চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করলে স্বাদ আরও বাড়বে।
৩) ছাতু কাটলেট
চায়ের সঙ্গে কড়কড়ে কিছু চাইলে ছাতু কাটলেট বানাতে পারেন।
সেদ্ধ মিষ্টি আলু ম্যাশ করে তাতে ছাতু, সেদ্ধ ভুট্টা বা কুচোনো পেঁয়াজ, গাজর ও মটরশুঁটি মিশিয়ে নিন। নুন ও মশলা দিয়ে মেখে কাটলেটের আকার দিন। ব্রেডক্রাম্বে গড়িয়ে অল্প তেলে শ্যালো ফ্রাই করুন। বাইরে মচমচে, ভিতরে নরম; এই কাটলেট চাটনি বা সসের সঙ্গে দারুণ লাগে।
৪) ছাতু টিক্কি
সন্ধ্যার আড্ডায় ছাতু টিক্কি হতে পারে নতুন সংযোজন।
সেদ্ধ আলুর সঙ্গে ছাতু, জিরে, ধনে গুঁড়ো ও নুন মিশিয়ে ছোট টিক্কির আকার দিন। অল্প তেল বা মাখনে শ্যালো ফ্রাই করুন। চাইলে দই, তেঁতুল চাটনি ও মশলা ছড়িয়ে চাটের মতো পরিবেশন করতে পারেন।
৫) ছাতু স্টাফড চিলা রোল
স্কুল টিফিন বা অফিসের লাঞ্চবক্সে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে এই রোল দুর্দান্ত।
বেসন, দই, হলুদ ও মশলা দিয়ে পাতলা চিলা বানান। আলাদা করে ছাতুর সঙ্গে সর্ষের তেল, কুচোনো পেঁয়াজ, নুন, চাট মশলা ও বিট নুন মিশিয়ে শুকনো পুর তৈরি করুন। চিলার মধ্যে পুর ভরে রোল করে নিলেই তৈরি। ঝটপট বানানো যায়, বহন করাও সহজ।
কেন ছাতু এত জনপ্রিয়?
ছাতু কম ক্যালোরি ও উচ্চ প্রোটিনযুক্ত হওয়ায় ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় হজমেও উপকারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ছাতু রাখলে শক্তি বৃদ্ধি ও পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে।
স্বাদে অনন্য, পুষ্টিতে ভরপুর; বিকেলের নাস্তায় ছাতুর এই পাঁচ পদ ট্রাই করলে পরিবারের সবাই মুগ্ধ হবেন। একবার বানালেই রেসিপি চাইবে সকলেই!