অমৃতিজিলিপির তুতো ভাই হলেও, স্বাদে এবং চেহারায় সে কিন্তু একেবারেই আলাদা! মুঘল হেঁশেলে জন্ম নেওয়া এই মিষ্টি আজ রাজস্থান, পশ্চিমবঙ্গ থেকে শুরু করে দক্ষিণ ভারতেও (যেখানে এটি 'জাংরি' নামে পরিচিত) রাজত্ব করছে। বিউলির ডালের ব্যাটার দিয়ে তৈরি, ফুলের মতো সুন্দর প্যাঁচানো এই মিষ্টির রসে ডোবানো স্বাদ এক বার খেলে মুখে লেগে থাকে।
ভাবছেন তো, দোকানের মতো নিখুঁত ‘অমৃতি’ বা ‘আমিত্তি’ বাড়িতে বানানো কি আদৌ সম্ভব? কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে আপনার হেঁশেলেও তৈরি হতে পারে এই রাজকীয় মিষ্টি। রইল তার সহজ রেসিপি।
অমৃতি তৈরির উপকরণ
বিউলির ডাল: ১ কাপ (অন্তত ২ ঘণ্টা জলে ভেজানো)
চালের গুঁড়ো: ১/৪ কাপ
অরেঞ্জ ফুড কালার: কয়েক ফোঁটা (ঐচ্ছিক, তবে সুন্দর রঙের জন্য জরুরি)
চিনি: ২ কাপ
জল: ১ কাপ
জাফরান: ৫-৬টি
ছোট এলাচ গুঁড়ো: ১/২ চা চামচ
সাদা তেল: ভাজার জন্য (চাইলে ঘিও ব্যবহার করতে পারেন)
জ়িপলক ব্যাগ: অমৃতির আকার দেওয়ার জন্য
কী ভাবে বানাবেন?
ব্যাটার তৈরির কায়দা
প্রথমে ভিজিয়ে রাখা বিউলির ডালের অতিরিক্ত জল ভাল করে ঝরিয়ে নিন। মিক্সিতে ডাল ও ১/৪ কাপ জল দিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করতে হবে। তবে এখানে একটা ছোট্ট কৌশল আছে। মিক্সি টানা না চালিয়ে ৩০ সেকেন্ড অন্তর ৫ মিনিটের বিরতি দিন। খেয়াল রাখবেন ডাল বাটার সময় ব্যাটার যেন গরম না হয়ে যায়। গোটা প্রক্রিয়াটিতে প্রায় আধ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
ডাল বাটা হয়ে গেলে একটি বড় পাত্রে ঢেলে নিন। এর মধ্যে চালের গুঁড়ো ও ফুড কালার দিয়ে হাত দিয়ে ২-৩ মিনিট খুব ভাল করে ফেটিয়ে একপাশে সরিয়ে রাখুন।
চিনির রস প্রস্তুতি
গ্যাসে একটি পাত্র বসিয়ে তাতে চিনি ও জল দিয়ে ৫ মিনিট ভাল করে ফুটিয়ে নিন। রসের মধ্যে এলাচ গুঁড়ো ও জাফরান দিয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিন। ব্যস, রস তৈরি!
অমৃতি ভাজার পালা
একটি জ়িপলক ব্যাগের এক কোণে সুঁচ দিয়ে খুব ছোট্ট একটি ফুটো করে নিন। ব্যাগের অর্ধেকটা ব্যাটার দিয়ে ভরুন। সরাসরি গরম তেলে ফেলার আগে একটি থালায় প্যাঁচ দেওয়ার অভ্যাস করে নেওয়া ভাল। প্রথমে পরপর দুটো বড় গোল রিং করে তার ওপর ছোট ছোট প্যাঁচ দিয়ে ফুলের মতো নকশা করতে হবে। দু-একবার করলেই হাত পেকে যাবে!
এবার একটি চওড়া ও চ্যাপ্টা পাত্রে অল্প তেল (প্রায় ১ ইঞ্চি গভীরতা) দিয়ে হালকা আঁচে গরম করুন। তেল যেন খুব বেশি গরম না হয়। তেলের নীচে যখন ছোট ছোট বুদবুদ উঠতে শুরু করবে, তখন ওই জ়িপলক ব্যাগের সাহায্যে তেলে অমৃতির নকশা আঁকুন।
এক পিঠ ভাজা হলে উল্টে দিয়ে মুচমুচে করে ভেজে নিন। সাবধানে তেল থেকে তুলে সরাসরি হালকা গরম চিনির রসে ফেলে ২-৩ মিনিট রাখুন। এর পর রস থেকে তুলে ট্রে-তে সাজিয়ে পরিবেশন করুন মুচমুচে, রসে টইটম্বুর অমৃতি!