বেগুন পকোড়ারিমঝিম বৃষ্টি আর গরম গরম পকোড়া... এই যুগলবন্দি আমাদের বড্ড প্রিয়। কিন্তু প্রতি বর্ষায় সেই একঘেয়ে আলু, পেঁয়াজ বা লঙ্কার পকোড়া খেতে খেতে যদি একঘেয়েমি এসে থাকে, তবে স্বাদ বদলাতে ট্রাই করতে পারেন মুচমুচে বেগুনের পকোড়া। বাইরে থেকে মুচমুচে আর ভিতরে নরম তুলতুলে এই পকোড়ার স্বাদ একবার পেলে অন্য সব পকোড়ার কথা ভুলেই যাবেন। যাঁরা বেগুন খেতে একদমই পছন্দ করেন না, তাঁরাও এটি চেটেপুটে খাবেন। জেনে নিন, এই স্পেশাল পকোড়া বা বেগুনি বানানোর সবচেয়ে সহজ রেসিপি।
উপকরণ
বেগুন: ১টি বড় (গোল বা লম্বা করে পাতলা স্লাইস করা)
বেসন: ১ কাপ
চালের গুঁড়ো: ২ টেবিল চামচ (পকোড়া বেশি মুচমুচে করার জন্য)
জোয়ান: আধ চা চামচ
লঙ্কা গুঁড়ো: ১ চা চামচ
হলুদ গুঁড়ো: আধ চা চামচ
চাট মশলা: ১ চা চামচ
ধনে পাতা: সামান্য (মিহি করে কুচোনো)
নুন: স্বাদমতো
জল: ব্যাটার তৈরির জন্য পরিমাণমতো
সাদা তেল: ডিপ ফ্রাই করার জন্য
প্রণালী
বেগুন প্রস্তুত করুন: প্রথমে বেগুনটি ভাল করে ধুয়ে গোল বা লম্বাটে পাতলা টুকরো করে কেটে নিন। কাটা টুকরোগুলি কিছুক্ষণ জলে ডুবিয়ে রাখুন, যাতে কালো না হয়ে যায়। ভাজার ঠিক আগে জল থেকে তুলে একটি পাত্রে জল ঝরিয়ে শুকনো করে নিন।
ব্যাটার বা গোলা তৈরি: একটি বড় পাত্রে বেসন, চালের গুঁড়ো, জোয়ান, লঙ্কা গুঁড়ো, হলুদ, নুন এবং কুচনো ধনে পাতা একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এ বার অল্প অল্প জল ঢেলে একটি ঘন এবং মসৃণ ব্যাটার তৈরি করুন। খেয়াল রাখবেন, গোলা যেন খুব বেশি পাতলা না হয়ে যায়, বেগুনের গায়ে যেন তা ঠিকমতো লেগে থাকে।
তেল গরম করুন: কড়াইতে বেশ খানিকটা তেল দিয়ে প্রথমে বেশি আঁচে গরম করুন। তেল ভাল মতো গরম হয়ে ধোঁয়া উঠলে গ্যাসের আঁচ মাঝারি করে দিন।
ভাজার পালা: এ বার বেগুনের টুকরোগুলোকে একে একে বেসনের গোলায় ভাল ভাবে ডুবিয়ে সাবধানে গরম তেলে ছাড়তে থাকুন।
সোনালি রং ধরলে নামিয়ে নিন: পকোড়াগুলোর দু’দিক উল্টেপাল্টে ভেজে নিন। যতক্ষণ না সেগুলি সোনালি রঙের এবং মুচমুচে হচ্ছে, ততক্ষণ ভাজতে থাকুন।
পরিবেশন: ভাজা হয়ে গেলে ছাঁকনির সাহায্যে তুলে কিচেন টাওয়েল বা টিস্যু পেপারের উপর রাখুন, যাতে অতিরিক্ত তেল ঝরে যায়। উপর থেকে সামান্য চাট মশলা ছড়িয়ে দিন। এর পর ঝাল ঝাল পুদিনা-ধনেপাতার চাটনি বা টম্যাটো কেচাপ আর এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কড়াপাকের চায়ের সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন।