কলা, খেজুরবেশিরভাগ মানুষ চা বা কফি দিয়ে দিন শুরু করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক খাবার দিয়ে দিন শুরু করলে হজমশক্তি ঠিক থাকে, শক্তির মাত্রা বজায় থাকে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞরা, ফল দিয়ে সকাল শুরু করা আদর্শ বলে মনে করলেও, প্রতিটি ফলই অনন্য এবং খালি পেটে খেলে এর ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব পড়ে। এমনকী দুটি সাধারণ ফল, কলা এবং খেজুর, এর পুষ্টিগুণও আলাদা।
রাতে এত ঘণ্টা খালি পেটে থাকার পরে হজমশক্তি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। সকালে প্রথমে এমন কিছু খাওয়া উচিত যা সহজে হজম হয়, পেটের জন্য হালকা এবং অ্যাসিডিটি না করে টেকসই শক্তি প্রদান করে। জেনে নিন, সকালে কোনটা খাওয়া ভাল: কলা না খেজুর।
কলা
কলা পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং প্রাকৃতিক শর্করা সমৃদ্ধ, যা এগুলিকে শক্তির একটি ভালো উৎস করে তোলে। তবে, খালি পেটে কলা খাওয়া সবার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। কলা খাওয়া তাৎক্ষণিক শক্তি প্রদান করে। পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায়, এগুলি হার্ট এবং পেশীর কার্যকারিতার জন্য উপকারী এবং বেশিরভাগ মানুষের দ্বারা সহজে হজম হয়।
কলা খাওয়ার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কলা ম্যাগনেসিয়ামের ভারসাম্যকে ব্যাহত করতে পারে। প্রাকৃতিক শর্করা হঠাৎ করে শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে এবং তারপরে হঠাৎ কমে যেতে পারে। সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি অ্যাসিডিটি বা পেট ফাঁপা হতে পারে।
খাওয়ার সর্বোত্তম উপায়
ড্রাই ফ্রুটস, বীজ বা ওটসের সঙ্গে কলা খাওয়া ভাল। অথবা ঘুম থেকে ওঠার পরে না খেয়ে, সকালে একটু দেরিতে খাওয়া উচিত।
খেজুর
খালি পেটে খাওয়ার জন্য সবচেয়ে উপকারী ফলগুলির মধ্যে একটি খেজুর। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী এবং আয়ুর্বেদিক পদ্ধতিতে। এগুলি খেলে তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়া যায়। খেজুর ফাইবার সমৃদ্ধ, যা হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে। এগুলি পেটের জন্য হালকা এবং অ্যাসিডিটির ঝুঁকি কমায়। খেজুর অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং বিপাক বৃদ্ধি করে। এগুলিতে আয়রন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও রয়েছে, যা সকালের ক্লান্তি বা শক্তির অভাব অনুভব করে তাদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।
খেজুর খাওয়ার সর্বোত্তম উপায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতভর ২-৩টি খেজুর জলে ভিজিয়ে রেখে সকালে খেলে হজম ভাল হয় এবং পুষ্টির শোষণ হয়।
কলা এবং খেজুরের মধ্যে কী খাবেন?
বেশীরভাগ মানুষের জন্য, খালি পেটে খেজুর খাওয়া একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পার। কারণ এটি হজমে সহায়তা করে এবং দীর্ঘস্থায়ী শক্তি প্রদান করে। কলা পুষ্টিকর, তবে হজমের সমস্যা এড়াতে পরে বা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া ভাল।
তবে, ডায়াবেটিস রোগীদের তাদের খাওয়ার পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করা উচিত। যাদের অ্যাসিডিটি বা পেট ফাঁপা আছে তাদের কলার চেয়ে খেজুর হজম করা সহজ বলে মনে হতে পারে।
কলা এবং খেজুর উভয়ই স্বাস্থ্যকর ফল, তবে সঠিক সময় এবং তাদের সংমিশ্রণ গুরুত্বপূর্ণ। খালি পেটে খেলে খেজুর সাধারণত পুষ্টিকর এবং উপকারী। অন্যদিকে সকালে একা না খেয়ে সুষম খাবারের অংশ হিসেবে কলা খাওয়া ভাল।