ঘি, সর্ষের তেল অনেকেই বিশ্বাস করেন যে ঘি খেলে ওজন বাড়ে। তাই তারা তাদের খাদ্যাভ্যাস থেকে এটি বাদ দেন। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ আবারও প্রাকৃতিক এবং দেশীয় খাবারের দিকে ঝুঁকছে। আর ঠিক এই কারণেই ঘি এবং সর্ষের তেলের মতো চর্বিজাতীয় উপাদানগুলো মানুষের রান্নাঘরে আবারও জায়গা করে নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক উপায়ে এবং পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করা হলে এই উপাদানগুলো ক্ষতিকর হওয়ার পরিবর্তে বরং উপকারীই হয়ে ওঠে। জানুন, ঘি এবং সর্ষের তেলের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং এগুলো ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই দেশীয় চর্বিজাতীয় উপাদানগুলো সঠিক পদ্ধতিতে এবং সঠিক পরিমাণে খাওয়া হয়, তবে তা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।
ঘি খেলে কি স্থূলতা বাড়ে?
শেফ আনাল উনিয়ালের মতে, ঘি এবং সর্ষের তেল খেলে ওজন বাড়ে কিংবা এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এমন ধারণাটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আয়ুর্বেদিক খাদ্যাভ্যাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে ঘি। আর সঠিক পরিমাণে গ্রহণ করা হলে এটি ওমেগা-৯ ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি চমৎকার উৎস হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে, পাহাড়ি ও উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত সর্ষের তেলকে একটি প্রাকৃতিক প্রদাহ-নাশক হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এটি হার্টের স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী।
তিনি আরও জানান, সর্ষের তেলে তৈরি খাবারে এক ধরণের ঝাঁঝালো ও মশলাদার গন্ধ যুক্ত করে, যা শাকসবজি এবং ভারতীয় খাবারকে আরও বেশি লোভনীয় ও সুস্বাদু করে তোলে। অন্যদিকে, ঘি-এর সুবাস এবং এর হালকা বাদাম-সদৃশ স্বাদ খাবারে এমন এক ধরণের গভীরতা ও সমৃদ্ধি এনে দেয়, যা পরিশোধিত তেল ব্যবহার করে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
ঘি এবং সর্ষের তেল দিয়ে রান্নার সঠিক পদ্ধতি
সর্ষের তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। তেলের ঝাঁঝালো গন্ধ দূর করার জন্য, তেলটিকে ততক্ষণ পর্যন্ত ভালভাবে গরম করতে হবে যতক্ষণ না তা থেকে হালকা ধোঁয়া উঠতে শুরু করে। এরপর গ্যাসের আঁচ কমিয়ে দিন এবং সবজি বা মশলা যোগ করার আগে তেলটিকে কিছুটা ঠান্ডা হতে দিন। এতে খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি পায় এবং তেলের ঝাঁঝালো ভাব অনেকটাই কমে যায়।
ঘি-এর ব্যবহারের বিষয়ে শেফরা জানান যে, এটি রান্নার কাজে এবং খাবার পরিবেশনের সময় সাজসজ্জা বা 'গার্নিশিং'-এর কাজে—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যেতে পারে। তাদের মতে, রান্নার মাঝপথে সামান্য পরিমাণে এবং রান্নার একেবারে শেষে আরও কিছুটা ঘি যোগ করলে, খাবারে ঘি-এর সুবাস ও স্বাদ—উভয়ই অটুট থাকে।
** এই প্রতিবেদন শুধুমাত্র তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। আপনার খাদ্যাভ্যাসে কোনও ধরণের পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই একজন চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।