Eggs Eating In Summer: তীব্র গরমে রোজ ডিম খাচ্ছেন? হতে পারে এই বড় বিপদ

Eggs: বাইরে এখন কাঠফাটা রোদ। পারদ ঘোরাফেরা করছে ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রির ঘরে। এই প্রাণঘাতী গরমে একটু অনিয়ম হলেই পেটের বারোটা বাজতে সময় লাগে না।

Advertisement
তীব্র গরমে রোজ ডিম খাচ্ছেন? হতে পারে এই বড় বিপদপ্রতীকী ছবি

সিদ্ধ, ভাজা, পোচ, হাফ বয়েল কিংবা রকমারি পদ, ডিম অনেকেরই প্রিয় খাবারের তালিকায় একেবারে উপরের দিকে থাকে। বলা যায়, ডিম পছন্দ করেন না এরকম মানুষ খুব কমই আছে। এটি রান্না করা যেমন সহজ, তেমন পুষ্টিগুণে ভরপুর। ডিম শরীরের জন্য খুবই উপকারী। বেশিরভাগ মানুষই তাদের শরীরে প্রোটিনের ঘাটটি পূরণ করতে ডিম খান।

বাইরে এখন কাঠফাটা রোদ। পারদ ঘোরাফেরা করছে ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রির ঘরে। এই প্রাণঘাতী গরমে একটু অনিয়ম হলেই পেটের বারোটা বাজতে সময় লাগে না। প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে বাঙালির অন্যতম ভরসা ডিম। কিন্তু জানেন কি, এই হাঁসফাঁস গরমে ডিম খাওয়ার সময়টাই আপনার স্বাস্থ্যের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে? দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসে যদি সকাল ৯টার পর ভারী ডিমের ব্রেকফাস্ট করেন, তবে সোজা ছুটতে হতে পারে চিকিৎসকের কাছে!

সকাল ৯টার পর ডিম খাওয়া কেন ক্ষতিকর?

বিজ্ঞানের পরিভাষায়, ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে হাই প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। এই প্রোটিন হজম করতে শরীরের অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় ‘থার্মিক এফেক্ট অফ ফুড’ (TEF) বা থার্মোজেনেসিস।

কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্যাটের তুলনায় প্রোটিনের থার্মিক এফেক্ট (২০% থেকে ৩০%) অনেক বেশি। এর সোজা অর্থ হল, প্রোটিন ভাঙতে গিয়ে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা অনেকটাই বেড়ে যায়। সকাল ৯টার পর থেকেই রোদের তেজ বাড়তে থাকে, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে বাইরের তাপমাত্রাও। এই সময়ে ডিম খেলে শরীরের ভিতরের এবং বাইরের — এই জোড়া তাপমাত্রার ধাক্কায় হজম প্রক্রিয়ার উপর মারাত্মক চাপ পড়ে। ফলে সারাদিন ধরে অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা এবং পেট ভারী হয়ে থাকার মতো অস্বস্তিকর সমস্যা দেখা দেয়।

গরমকালে ডিম খাওয়ার সঠিক সময় কোনটি?

পুষ্টিবিদদের মতে, গ্রীষ্মকালে ডিমের সম্পূর্ণ পুষ্টিগুণ পেতে হলে সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যেই তা খেয়ে নেওয়া উচিত। এই সময়ে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা থাকে, ফলে চড়া রোদ ওঠার আগেই শরীর অনায়াসে প্রোটিন হজম করে নিতে পারে।

Advertisement

স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ওয়েবএমডি’-র তথ্য অনুযায়ী, ডিম পুষ্টির অন্যতম সেরা উৎস হলেও এই প্রবল গরমে খুব বেশি ডিমের কুসুম খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ, এতে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে যা শরীরে সবচেয়ে বেশি তাপ উৎপন্ন করে। গরমের দিনে রোজ ১ থেকে ২টি ডিম খাওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ। এর চেয়ে বেশি খাওয়ার প্রয়োজন আছে কি না, তা নির্ভর করে আপনার শারীরিক পরিশ্রম এবং ফিটনেস লক্ষ্যের উপর।

পর্যাপ্ত জল না খেলেই বিপদ

গরমে ডিম বা অন্য কোনও প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়ার সময় অনেকেই জল পানের বিষয়ে উদাসীন থাকেন, আর এখানেই হয় সবচেয়ে বড় ভুল। প্রোটিন বিপাকের (Metabolism) পর শরীরে যে বর্জ্য পদার্থ বা বাই-প্রোডাক্ট তৈরি হয়, তা শরীর থেকে বের করে দেওয়ার জন্য কিডনির প্রচুর পরিমাণে জলের প্রয়োজন হয়।

ডিম খাওয়ার পর সারাদিনে যদি অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার জল না খান, তবে মারাত্মক ডিহাইড্রেশন এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা অবধারিত। তাই গরমে সুস্থ থাকতে কড়া রোদ ওঠার আগেই প্রাতরাশ সেরে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ।

 

POST A COMMENT
Advertisement