আসল পদ্মা ও মেঘনার ইলিশ চেনার সেরা জাদুকরী উপায়Recognize Authentic And Original Hilsa: বাজার থেকে সাধ করে ইলিশ মাছ কিনে আনার পর যদি দেখেন তা আসলে সার্ডিন বা অন্য কোনো মাছ তবে কিন্তু পুরো পয়সাটাই জলে যাবে। বিশেষ করে উৎসবের মরসুমে জামাইয়ের পাতে এমন নকল মাছ পড়লে তো শ্বশুরমশাইয়ের একেবারে মাথা কাটা যাওয়ার জোগাড় হবে। বাজারে গিয়ে যাতে আপনাকে এইরকম অস্বস্তিতে পড়তে না হয় তার জন্য চুপিচুপি পদ্মা ও মেঘনার আসল ইলিশ চেনার কিছু অব্যর্থ কৌশল জেনে রাখা ভালো।
ইলিশ মূলত সারা বছর সমুদ্রে থাকলেও শুধুমাত্র ডিম পাড়ার জন্য নদীতে আসে। নদীর ইলিশ চেনার প্রধান উপায় হলো এগুলি কিছুটা বেঁটেখাটো ও গোলগাল হয় এবং সাগরের ইলিশের তুলনায় অনেক বেশি চকচকে ও উজ্জ্বল রূপালী রঙের দেখায়। অন্যদিকে সমুদ্রের ইলিশ বেশ সরু ও লম্বা হয় এবং এর গায়ের উজ্জ্বলতা অনেকটাই কম থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলেন বিশেষ করে পদ্মা ও মেঘনা অববাহিকার আসল নদীর ইলিশের আকার হবে ঠিক পটলের মতো যার মাথা ও লেজ সরু হবে কিন্তু পেটটা হবে বেশ মোটা। নদীর ইলিশের স্বাদ সবসময়ই অনেক বেশি খোলতাই হয় এবং এই মাছগুলির লেজের একটু ওপর থেকেই শরীরটা গোল হতে শুরু করে।
বাজারে মাছ কিনতে গিয়ে অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগে যে ইলিশে ডিম আছে কিনা তা কীভাবে বোঝা সম্ভব। মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলেন সাধারণত অগাস্ট মাসের পর থেকে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস পর্যন্ত ইলিশের ডিম পাড়ার আসল মরশুম চলে যার ফলে এই জুন মাসের দিকে ইলিশে ডিম পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কম থাকে। তবে আজকাল বারোমাস বাজারে ইলিশ মেলায় হিমঘরে রাখা গত বছরের ডিমওয়ালা ইলিশও আপনার হাতে চলে আসতে পারে। ডিমওয়ালা ইলিশের পেট খুব মোটা ও চ্যাপ্টা ধরনের হয়ে থাকে এবং এই মাছগুলির পেটে হালকা চাপ দিলেই পায়ুছিদ্র দিয়ে ডিম বেরিয়ে আসে আর ডিম ছাড়া স্বাভাবিক মাছের পেট সবসময় বেশ আলগা বা ঢিলা থাকে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে খাঁটি ও তাজা ইলিশ চেনার আরও কিছু জাদুকরী টোটকা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেমন ভালো ইলিশের চোখ সবসময় স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল কালো দেখাবে তবে বরফে রাখলে তা সামান্য সাদাটে ও স্বচ্ছ হতে পারে। অন্যদিকে পুরনো কোল্ড স্টোরেজে দীর্ঘদিন রাখা ইলিশের চোখ ভিতরের দিকে ঢুকে যায় এবং চোখ ঘোলাটে দেখায়। মনে রাখবেন লাল চোখের ইলিশের চেয়ে নীল চোখের ইলিশে সবসময় অনেক বেশি স্বাদ পাওয়া যায় এবং ইলিশের মুখ যত সরু হবে তার স্বাদ তত খোলতাই হবে।
ভালো মাছ চেনার জন্য ইলিশের কানকা বা ফুলকাটি একটু ফাঁক করে দেখা উচিত কারণ তাজা ইলিশের ফুলকা টকটকে লাল রঙের হয় কিন্তু বাসি বা পুরনো মাছের ফুলকা ধূসর বা বাদামি রঙের দেখায়। তাজা ইলিশের দেহ অত্যন্ত নমনীয় প্রকৃতির হয় এবং মাছের গায়ে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে তা স্পঞ্জের মতো দমে গিয়ে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায় কিন্তু দীর্ঘদিন বরফে রাখা ইলিশ অনেক শক্ত হয়ে যায়। তাজা ইলিশের গায়ে হাত দিলে একটা পিচ্ছিল ভাব টের পাওয়া যাবে এবং এর ঘাড় বেশ মোটা হবে ও গায়ের রূপালী রঙের ঝলক স্পষ্ট চোখে পড়বে। মাছটি হাতে নিয়ে পেটে হালকা চাপ দিলে যদি মুখ বা ফুলকা দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসে তবে বুঝতে হবে সেটি দীর্ঘদিন বরফে রাখা বাসি মাছ এবং তা তখনই বাদ দেওয়া উচিত। যদি ইলিশের পেট খুব ফোলা থাকে তবে বুঝবেন মাছে ডিম রয়েছে। ইলিশের ডিম অনেকের খুব প্রিয় হলেও ডিম হয়ে গেলে ছোট ইলিশের স্বাদ কিছুটা কমে যায় তবে মাছের ওজন যদি এক কেজির ওপরে হয় তবে ডিম থাকলেও স্বাদে কোনো খেরাডেরা হয় না। তাই কেনার সময় ডিম এড়াতে চাইলে অতিরিক্ত পেট মোটা ইলিশ বাদ দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।