ভোগের খিচুড়ি দুর্গাপুজো মানেই নতুন জামাকাপড়, প্যান্ডেল হপিং আর জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। তবে অষ্টমীর দুপুরে পাতে গরম গরম ভোগের খিচুড়ি পড়লে বাঙালির মন যেন আলাদা তৃপ্তি পায়। সঙ্গে লাবড়া, বেগুনি, চাটনি আর পায়েস থাকলে তো কথাই নেই! পুজোর মণ্ডপে যে খিচুড়ি খেতে পাওয়া যায়, তার স্বাদ বাড়িতেও সহজে আনা সম্ভব। খুব বেশি উপকরণ লাগে না। শুধু চাল-ডালের সঠিক অনুপাত, মশলার ব্যবহার আর রান্নার কয়েকটি কৌশল জানলেই বাড়িতে তৈরি হবে মন্দিরের ভোগের মতো সুগন্ধি খিচুড়ি।
ভোগের খিচুড়ি তৈরিতে কী কী লাগবে?
৩-৪ জনের জন্য খিচুড়ি বানাতে লাগবে গোবিন্দভোগ চাল ১ কাপ, সোনামুগ ডাল ১ কাপ, আলু ২টি, মাঝারি আকারের ফুলকপি ৬-৮ ছোট টুকরো, আদা বাটা ১ চা চামচ, জিরে ১ চা চামচ, তেজপাতা ২টি, শুকনো লঙ্কা ২টি, গোটা গরম মশলা সামান্য, হলুদ গুঁড়ো আধা চা চামচ, জিরে গুঁড়ো ১ চা চামচ, ঘি ১-২ টেবিল চামচ, নুন ও চিনি স্বাদমতো।
কীভাবে বানাবেন অষ্টমীর ভোগের খিচুড়ি?
প্রথম ধাপ: ডাল ভেজে নিন
প্রথমে কড়াই গরম করে তাতে সোনামুগ ডাল শুকনো খোলায় ভেজে নিন। ডাল থেকে হালকা সুগন্ধ বেরোলে এবং রং সামান্য সোনালি হলে নামিয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন, ডাল যেন পুড়ে না যায়। এরপর ডাল ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন। এই ধাপটি খিচুড়িতে ভোগের বিশেষ সুগন্ধ আনতে সাহায্য করে।
দ্বিতীয় ধাপ: চাল ধুয়ে প্রস্তুত করুন
গোবিন্দভোগ চাল ভাল করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন। এই চালের নিজস্ব সুগন্ধ খিচুড়ির স্বাদ বাড়িয়ে দেয়। গোবিন্দভোগ না থাকলে অন্য সুগন্ধি ছোট দানার চালও ব্যবহার করতে পারেন।
তৃতীয় ধাপ: মশলা কষিয়ে নিন
একটি বড় কড়াইয়ে ঘি গরম করুন। তাতে তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা, গোটা গরম মশলা ও জিরে ফোড়ন দিন। এরপর আলু এবং ফুলকপি দিয়ে হালকা ভেজে নিন। এবার আদা বাটা, হলুদ ও জিরে গুঁড়ো দিয়ে অল্প জল ছিটিয়ে মশলা কষিয়ে নিন।
চতুর্থ ধাপ: চাল-ডাল দিয়ে রান্না করুন
এবার কড়াইয়ে চাল ও ডাল দিয়ে কয়েক মিনিট নাড়াচাড়া করুন। তারপর প্রয়োজনমতো গরম জল, নুন ও সামান্য চিনি দিন। মাঝারি আঁচে রান্না করুন। চাল-ডাল নরম হয়ে গেলে আঁচ কমিয়ে দিন। খিচুড়ি বেশি ঘন হয়ে গেলে অল্প গরম জল মিশিয়ে নিতে পারেন। আবার একেবারে পাতলা করবেন না।
পঞ্চম ধাপ: শেষ মুহূর্তে ঘি
চাল-ডাল ভাল করে সেদ্ধ হয়ে মিশে গেলে উপর থেকে সামান্য ঘি ছড়িয়ে দিন। ঢেকে রেখে দিন আরও ২-৩ মিনিট। তৈরি অষ্টমীর ভোগের সুগন্ধি খিচুড়ি।
ভোগের খিচুড়ির স্বাদ বাড়ানোর সহজ টিপস
ভোগের মতো স্বাদ পেতে গোবিন্দভোগ চাল, ভাজা সোনামুগ ডাল এবং ঘি ব্যবহার করুন। মশলা বেশি দেবেন না, তাতে চাল-ডালের নিজস্ব গন্ধ চাপা পড়ে যেতে পারে। খিচুড়ি রান্নার সময় গরম জল ব্যবহার করলে রান্না সহজ হয়। পরিবেশনের সময় সঙ্গে লাবড়া, বেগুনি কিংবা আলুর দম রাখুন। বাড়িতেই জমে যাবে অষ্টমীর ভোগের দুপুরের খাওয়াদাওয়া।