শসাগ্রীষ্মকালে শশা খাওয়া অত্যন্ত উপকারী, কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে জল থাকে। এটি শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে, যা শরীরের জন্য বহুবিধ সুফল বয়ে আনে। কিন্তু অনেক সময় একটি তিতকুটে শশা পুরো স্যালাডের স্বাদই নষ্ট করে দেয়। আসলে, শশায় 'কুকুরবিটাসিন' নামক একটি প্রাকৃতিক যৌগ থাকে, যা সাধারণত শশার দুই প্রান্তে এবং খোসার নিচে জমা হয়। যদি এটি সঠিকভাবে দূর করা না হয়, তবে শশা খেতে তিতকুটে লাগে। আপনারও যদি শশা প্রায়ই তিতকুটে মনে হয়- তবে কিছু সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।
সবচেয়ে প্রাচীন এবং কার্যকর পদ্ধতি
শশার তিতকুটে ভাব দূর করার সবচেয়ে প্রাচীন পদ্ধতি হল শশার দুই প্রান্ত কেটে নিয়ে সেগুলোকে একে অপরের সঙ্গে ঘষা। বিকল্প হিসেবে, শশার ওপরের দিকের একটি ছোট অংশ কেটে নিন, তাতে সামান্য লবণ মাখান এবং কাটা টুকরোটি শশার মূল অংশের সঙ্গে বৃত্তাকার গতিতে ঘষতে থাকুন। অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে সাদা রঙের ফেনার মতো কিছু দেখা দেবে। সায়েন্স ওয়ার্ল্ডের মতে, এই ফেনাটি আসলে কুকুরবিটাসিন, যা ঘষার ফলে শশা থেকে বেরিয়ে আসে। এরপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেললেই শশাটি খাওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে এবং এর তিতকুটে ভাব সম্পূর্ণ দূর হয়ে যায়।
লবণ দূর করবে তিতকুটে ভাব
শশার প্রান্তগুলো ঘষে নেওয়ার পরেও যদি আপনি তিতকুটে ভাব অনুভব করেন, তবে শশাটিকে টুকরো বা স্লাইস করে কেটে নিন এবং সেগুলোর ওপর সামান্য লবণ ছড়িয়ে দিন। 'হার্ট হুক হোম'-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, লবণ শশা থেকে কুকুরবিটাসিন বের করে আনতে সাহায্য করে। শশার টুকরোগুলোকে ৫ থেকে ১০ মিনিট এভাবে রেখে দিন এবং তারপর পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতিটি শশার তিতকুটে ভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে।
খোসা ছাড়ানোর সঠিক নিয়ম
শশার তিতকুটে ভাব প্রায়শই এর খোসা এবং বোঁটার দিকের অংশে ঘনীভূত থাকে। 'ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া'-র তথ্যমতে, শশার বোঁটার দিক থেকে খোসা ছাড়ানো শুরু করলে তিতকুটে ভাব পুরো শশাটিতেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সবসময় শশার দুই প্রান্ত বা আগা-গোড়া কেটে ফেলার পরেই খোসা ছাড়ানো উচিত। যেসব শশার খোসা অপেক্ষাকৃত গাঢ় রঙের এবং পুরু হয়, সেগুলোতে তিতকুটে ভাব বেশি থাকার সম্ভাবনা থাকে; তাই সেগুলোর খোসা একটু গভীর করে ছাড়ানোই শ্রেয়।
কাঁটা চামচ ব্যবহার করুন
একটি কাঁটা চামচ দিয়ে শশার গায়ে ছোট ছোট গর্ত বা দাগ তৈরি করুন। শশার খোসা ছাড়ানোর পর, কাঁটা-চামচ দিয়ে শশাটির পুরো দৈর্ঘ্য বরাবর গভীর দাগ বা ছিদ্র তৈরি করে দিন। এটি শশার ভেতরে থাকা তিতকুটে রাসায়নিক উপাদানগুলোকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে। এরপর শশাটি ভাল করে ধুয়ে নিন এবং সালাদ তৈরির কাজে ব্যবহার করুন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতিটি শশার গঠন বা টেক্সচার উন্নত করে এবং এর তিতকুটে ভাব সম্পূর্ণ দূর করে দেয়।