আম গরমকাল মানেই বাজারে বাজারে ফলের রাজার রাজত্ব। পাকা আমের মন-মাতানো গন্ধে ম-ম করে চারপাশ। গ্রীষ্মের দাবদাহের মাঝে বাড়ি বাড়ি ম্যাঙ্গো শেক, আম্রস, স্মুদি থেকে শুরু করে আমের নানা পদ তৈরির ধুম পড়ে যায়। বাচ্চা থেকে বুড়ো, রসে-ভরা আমের মিষ্টি স্বাদে মজে থাকেন সকলেই। কিন্তু আমপ্রেমীদের আসল আক্ষেপটা শুরু হয় কয়েক মাস পরেই। মরসুম ফুরোলেই বাজার থেকে বিদায় নেয় আম, আর তার স্বাদ ফিরে পেতে অপেক্ষা করতে হয় গোটা একটা বছর।
আপনারও কি আমের জন্য এক বছর অপেক্ষা করাটা বড্ড কঠিন মনে হয়? মরসুম শেষ হওয়ার পরেও কি যখন-তখন ম্যাঙ্গো শেক বা আমের অন্য কোনও পদ খেতে মন চায়? তা হলে এই সহজ সংরক্ষণের কৌশলটি আপনার দারুণ কাজে আসতে পারে। সঠিক পদ্ধতিতে আম ফ্রিজারে রাখলে কয়েক মাস পর্যন্ত তার স্বাদ ও গুণমান একেবারে অটুট থাকে। আসুন জেনে নেওয়া যাক আমের টুকরো দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার সেই সহজ উপায়।
ধাপে ধাপে জেনে নিন সংরক্ষণের পদ্ধতি
১. সবার আগে চাই সঠিক আম নির্বাচন
দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে হলে শুরুতেই ভাল মানের ফল বেছে নেওয়াটা জরুরি। এমন আম বাছুন যা পুরোপুরি পাকা এবং মিষ্টি, কিন্তু খুব বেশি নরম, দাগযুক্ত বা পচা নয়। সতেজ এবং ভালো মানের আমই বেশি দিন পর্যন্ত ঠিক থাকে।
২. জল দিয়ে ধুয়ে ভাল করে মুছে নিন
ফ্রিজে রাখার আগে আমগুলোকে পরিষ্কার জলে খুব ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর একটি শুকনো সুতির কাপড় দিয়ে এমনভাবে মুছুন যাতে আমের গায়ে এক ফোঁটাও জল না থাকে। আমের গায়ে সামান্য আর্দ্রতা থাকলে ফ্রিজারে বরফ জমে যেতে পারে, যা ফলের স্বাদ এবং গুণমান নষ্ট করে দেয়।
৩. খোসা ছাড়িয়ে সমান টুকরো করে কাটুন
আম ভাল করে মোছা হয়ে গেলে খোসা ছাড়িয়ে শাঁসটাকে ছোট ছোট বা লম্বা টুকরো করে কেটে নিন। চেষ্টা করবেন টুকরোগুলোর আকার যেন মোটামুটি একই রকম হয়। এতে ফ্রিজারে জমাতে অনেক সুবিধা হবে।
৪. ট্রে-তে সাজিয়ে রাখুন
কাটা আমের টুকরোগুলোকে একটি বড় ট্রে বা প্লেটে সামান্য দূরত্ব বজায় রেখে সাজান। খেয়াল রাখবেন একটি টুকরোর গায়ে যেন অন্য টুকরো লেগে না থাকে বা একে অপরের ওপর চেপে না থাকে। এরপর ট্রে-টিকে ফুড র্যাপার বা পরিষ্কার পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিন।
৫. প্রথমে আলাদাভাবে জমতে দিন
ট্রে-টিকে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বা সারা রাতের জন্য ফ্রিজারে রেখে দিন। এর ফলে আমের টুকরোগুলো আলাদা আলাদাভাবে জমে যাবে এবং একে অপরের সঙ্গে একেবারে চিপকে যাবে না। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী খুব সহজেই বের করে নেওয়া যাবে।
৬. এয়ারটাইট ব্যাগে ভরে রাখুন
টুকরোগুলো সম্পূর্ণ জমে গেলে সেগুলো বের করে একটি জিপ-লক ব্যাগ বা এয়ারটাইট পাত্রে ভরে ফেলুন। ব্যাগে প্যাক করার সময় খেয়াল রাখবেন যেন ভেতরের বাতাস যতটা সম্ভব বের করে দেওয়া হয় (ভ্যাকুয়াম করে নেওয়া ভাল)। এতে আম অনেক বেশি দিন সতেজ থাকে।
কত দিন পর্যন্ত ভাল থাকবে?
এই পদ্ধতি সঠিকভাবে মেনে চললে ৬ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত আমের টুকরো খারাপ হওয়ার হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব। দীর্ঘদিন ধরে ম্যাঙ্গো শেক, স্মুদি, আইসক্রিম, আম্রস এবং অন্যান্য রেসিপি তৈরিতে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারবেন এগুলো।
একটি জরুরি টিপস: যখনই আম ব্যবহার করবেন, ঠিক যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু টুকরোই বের করুন। বাকিটা সঙ্গে সঙ্গে আবার ফ্রিজারে ঢুকিয়ে দিন। রেসিপিতে ব্যবহার করার মিনিট পাঁচেক আগে বের করে সাধারণ তাপমাত্রায় রেখে তারপর ব্যবহার করুন।